ইরানে মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে তরুণীর মৃত্যুদণ্ড

ইরানে মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে তরুণীর মৃত্যুদণ্ড
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করার অপরাধে ইরানে নাজমিহ আমিন নামের ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি অন্য আরেকটি পৃথক অভিযোগে তাকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডও দিয়েছেন আদালত। মাশহাদ শহরের বাসিন্দা নাজমিহ বর্তমানে সেখানকার ভাকিলাবাদ কারাগারে বন্দি রয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে তাকে আটক করা হয়। তবে তার গ্রেপ্তারের সঠিক তারিখ নিয়ে কিছুটা ভিন্ন তথ্য রয়েছে; একটি সূত্রের মতে গত ৩১ জানুয়ারি মাশহাদের ফেরদৌসি শপিং সেন্টার থেকে এবং অপর সূত্রের মতে ৩ ফেব্রুয়ারি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫৪
প্রাথমিকভাবে নাজমিহের পরিবার ভেবেছিল সরকারবিরোধী আন্দোলনসংক্রান্ত পোস্টের কারণেই তাকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে দুটি নির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করা হয়, যার একটি ছিল মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করা। ইরানের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী এই অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড। মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, খোরাসান রাজাভি প্রদেশের অপরাধ আদালতের ষষ্ঠ শাখায় এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে ঘোষিত এই রায়ের বিরুদ্ধে এখনো আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: তরুণদের বিক্ষোভে চ্যালেঞ্জের মুখে মোদির রাজনৈতিক ভাবমূর্তি
বিচার চলাকালে আদালতে নাজমিহ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জানান, তিনি স্বেচ্ছায় বা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানেননি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম খোরাসানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নাজমিহ বিচারকের সামনে উল্লেখ করেন বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় এক ধরনের মাদক সেবনের পর মাতাল অবস্থায় তিনি ওই মন্তব্যগুলো পোস্ট করেছিলেন।
অন্যদিকে, নাজমিহের পক্ষে লড়া আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন যে, উক্ত বক্তব্যটি তিনি জেনে-বুঝে বলেননি, বরং তা ভুলবশত তার মুখ থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। তবে আসামি ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দেওয়া এসব যুক্তি ও সাফাই আদালত শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করেননি। আরও পড়ুন: বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে বৃটিশ হোম অফিসের প্রতিবেদন প্রকাশ






















