শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

জালিয়াতিতে শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৩ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
জালিয়াতিতে শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী

ভুয়া পিএইচডি সনদ দেখিয়ে উচ্চতর শিক্ষা ছুটিতে প্রেষণ ভোগের ঘটনায় বিভাগীয় মামলা হয় গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে। বিভাগীয় তদন্তে জালিয়াতি ও অসদাচরণের বিষয়টি প্রমাণিত হলে তিনি দোষ স্বীকার করেন। তবে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সঙ্গে ‘ফুপু-ভাতিজা’ সম্পর্কের সুবাদে তাকে দেওয়া হয় লঘুদণ্ড। মাত্র এক বছরের জন্য বন্ধ রাখা হয় বেতন বৃদ্ধি।

এই শাস্তির তিন বছরের মধ্যেই ফুপুর প্রভাবে তিনি হন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে পদোন্নতি পান অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে। এরপর দায়িত্ব পালন করেন গোপালগঞ্জ গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি খোঁজেন নতুন রাজনৈতিক পরিচয়। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের স্ত্রী ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরীকে (সুইটি) ‘ফুপু’ হিসেবে পরিচয় দেন। জামায়াতপন্থি তৎকালীন গণপূর্ত সচিব নজরুল ইসলামের তদবিরে তখন পাঁচজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীকে ডিঙিয়ে বসেন প্রধান প্রকৌশলীর (রুটিন দায়িত্ব) চেয়ারে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে টেন্ডার ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে।

বর্তমানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্বে) হিসেবে আছেন মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী। এই পদ স্থায়ী বা নিয়মিত করতে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ইতিমধ্যেই জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের ডিঙিয়ে পদোন্নতির সংক্ষিপ্ত তালিকার শীর্ষে নিজের নাম বসাতে সমর্থ হয়েছেন। বাকি জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের বাদ দিতে তাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যার সাজানো মামলার তথ্য জমা দেওয়া হয়েছে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডে (এসএসবি)। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের দালিলিক নথিপত্র পর্যালোচনায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

রাজনৈতিক আত্মীয়তায় জ্যেষ্ঠতা ডিঙিয়ে পদোন্নতি ঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা তালিকা ও পার্সোনাল ডাটা শিট (পিডিএস) পর্যালোচনায় দেখা যায়, খালেকুজ্জামান চৌধুরী ক্ষমতার পালাবদলের সুযোগ বারবার কাজে লাগিয়েছেন। ১৯৮৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চাকরিজীবনে সরকারি প্রেষণ ও ছুটির সুযোগে তিনি প্রায় ১১ বছর অস্ট্রেলিয়ায় ছিলেন। পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হলেই দেশে ফিরে এসেছেন।

পোস্টের হাতে আসা নথি অনুযায়ী, প্রেষণে যেতে তিনি ভুয়া অফার লেটার ও জাল কাগজপত্র তৈরি করেছিলেন। এতে বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট তৎকালীন গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার তার এক বছরের বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করেন। আওয়ামী লীগ নেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সুপারিশে গুরুদণ্ড এড়িয়ে সে যাত্রায় এই লঘুদণ্ড পান তিনি।

বিভাগীয় মামলার তিন বছরের মধ্যেই এই আওয়ামী লীগ নেত্রীর লিখিত সুপারিশে খালেকুজ্জামান একই বছরে দুই দফা পদোন্নতি পান। তখন সাজেদা চৌধুরীকে ‘ফুপু’ ডাকতেন তিনি।

সরকারি চাকরির সার্ভিস রেকর্ড বলছে, ২০১৯ সালের ২২ জুলাই খালেকুজ্জামান চৌধুরী নিয়মিত পদোন্নতি পান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে। এর কয়েক মাসের মাথায় ১৫ ডিসেম্বর পদোন্নতি পান অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে। রীতি ভেঙে তখন এই পদোন্নতি দেওয়া হয় তাকে।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর বদলে যায় খালেকুজ্জামান চৌধুরীর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান। আওয়ামী লীগের বদলে এবার জামায়াত ঘনিষ্ঠ বনে যান তিনি।

জামায়াতপন্থি সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম এবং জামায়াত নেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের তদবিরে ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর পাঁচজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীকে ডিঙিয়ে বসেন প্রধান প্রকৌশলীর (চলতি) চেয়ারে। এর আগে তাকে গোপালগঞ্জ থেকে দেওয়া হয়েছিল ঢাকা মেট্রো জোনের দায়িত্ব।

খালেকুজ্জামানের বাড়ি ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার তালমা গ্রামে। একই উপজেলার ফুলসুতি গ্রামে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের শ্বশুরবাড়ি।

ডা. তাহেরের শ্বশুর আহম্মদ উল্লাহ চৌধুরী এবং খালেকুজ্জামানের বাবা বদিউজ্জামান চৌধুরী সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। এই সূত্রে জামায়াত নেতার স্ত্রী ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরীকে (সুইটি) তিনি ডাকেন ‘ফুপু’। এই আত্মীয়তার সুবাদে গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ডা. তাহেরের প্রভাবে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি পান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আবারও নিজের রাজনৈতিক রূপ বদলে ফেলেন এই কর্মকর্তা। বর্তমানে নিজেকে পরিচয় দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের ঘনিষ্ঠ ও আত্মীয় হিসেবে।

জ্যেষ্ঠদের বাদ দিতে সাজানো মামলার তালিকা ঃ প্রধান প্রকৌশলী পদ স্থায়ী করতে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) বৈঠকের জন্য গত ৬ জুলাই গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় পাঁচজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর তালিকা। এই তালিকায় প্রশাসনিক জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।

বর্তমানে অধিদপ্তরের দাপ্তরিক জ্যেষ্ঠতার তালিকায় শীর্ষে আছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের (ঢাকা জোন) ও উৎফল কুমার দে (রিজার্ভ)। জ্যেষ্ঠতার হিসেবে তিন নম্বরে থাকা খালেকুজ্জামান চৌধুরী নিজেকে তালিকার এক নম্বরে বসাতে সমর্থ হয়েছেন।

তালিকায় আরও আছেন মো. শহিদুল আলম (স্বাস্থ্য উইং) এবং ড. মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন হায়দার (প্রেষণে মহাপরিচালক, এইচআরআই)।

নথিপত্র বলছে, তালিকা থেকে সিনিয়রদের স্থায়ীভাবে বাদ দিতে জুলাই অভ্যুত্থানের পর রামপুরা থানার একটি মামলার আসামির তালিকায় কৌশলে এসব জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ মোট ৪৭ জন প্রকৌশলীর নাম ঢোকানো হয়। এই মামলার নথি এসএসবি কমিটিতে জমা দিয়ে তাদের অবস্থান দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়, যাতে জ্যেষ্ঠতার তালিকায় তিন নম্বরে থাকা খালেকুজ্জামান চৌধুরীর শীর্ষ পদ পাওয়ার পথে কোনো বাধা না থাকে।

  • বদলি বাণিজ্য

২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে দেওয়া হয় প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব। পরে দেওয়া হয় চলতি দায়িত্ব। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই অধিদপ্তরে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন পর্যায়ের ৬৫ জন প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাকে পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নের জন্য ১০ লাখ থেকে শুরু করে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এসব লেনদেনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগপন্থি হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পুনর্বাসনের অভিযোগ রয়েছে।

চলতি বছরের ৩ মার্চ পৃথক প্রজ্ঞাপনে একদিনে অর্ধশতাধিক নির্বাহী প্রকৌশলী, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলীকে গণবদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়কে না জানিয়ে এত বড় রদবদল করায় গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী প্রধান প্রকৌশলীকে তলব করে ব্যাখ্যা চান।

সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় ৫ ও ৮ মার্চ পৃথক আদেশে বাতিল করা হয় অধিকাংশ বদলি। এরপরও পর্দার আড়ালে ছোট পরিসরে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম চালুর খবর পাওয়া গেছে।

এক ঘটনায় দেখা যায়, দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত হওয়া প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে পুনর্বাসনের সুযোগ দিতে পুরোনো তারিখে জারি করা হয় বদলির আদেশ। সাইফুজ্জামান ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের গণপূর্তমন্ত্রী শরিফ আহমেদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গত ৩ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে দুর্নীতির দায়ে সাইফুজ্জামানকে বরখাস্ত করে। ওই আদেশে তাকে উল্লেখ করা হয় লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে। কিন্তু গণপূর্ত অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত আরেক আদেশে দেখা যায়, বরখাস্তের এক দিন আগে অর্থাৎ ২ ফেব্রুয়ারি তাকে ঢাকায় রিজার্ভে বদলি করা হয়েছে। ৩ তারিখে বরখাস্ত হওয়া একজন কর্মকর্তা কীভাবে ২ তারিখে ঢাকায় বদলি হন, আর তা প্রকাশিত হয় ১৫ তারিখে। এমন অসামঞ্জস্যপূর্ণ নথিকে জালিয়াতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন দপ্তরসংশ্লিষ্টরা।

  • কমিশন না পাওয়ায় টেন্ডার বাতিল

বদলি বাণিজ্যের পাশাপাশি বড় প্রকল্পের টেন্ডার পুনর্মূল্যায়নের নামে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১, বিভাগ-৩ এবং শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২-এর অধীনে বড় অঙ্কের পাঁচটি দরপত্র কমিশনসংক্রান্ত অসন্তোষের কারণে পুনর্মূল্যায়নের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।

পিপিআর ২০২৫ (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস)-এর ত্রুটির অজুহাত দেখানো হলেও সূত্র বলছে, নতুন পিপিআর চালুর পর সব প্রকৌশলীকে যথেষ্ট প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রকৃতপক্ষে নির্ধারিত কমিশন না পাওয়ায় পুনর্মূল্যায়নের অজুহাতে এসব টেন্ডার আটকে রাখা হয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদপ্তরের একাধিক প্রকৌশলী ও ঠিকাদার জানান, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারকে সরানোর পরও দুর্নীতি থামেনি। বরং খালেকুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে নতুন একটি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটকে আর্থিক সুবিধা দিতে পারা কর্মকর্তারাই সুবিধাজনক পদে বহাল রয়েছেন।

খালেকুজ্জামান চৌধুরীর দুর্নীতি, নথি জালিয়াতি, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন এবং দেশে-বিদেশে অবৈধ সম্পদ অর্জনসংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণসহ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়েছে লিখিত অভিযোগ। একাধিক ভুক্তভোগী কর্মকর্তা ও ঠিকাদার দুদকে সরাসরি হাজির হয়ে জমা দিয়েছেন দালিলিক প্রমাণ।

  • ‘ক্ষমতা বদলালেই তৈরি হয় নতুন আত্মীয়তা’

সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ছেলে সাজেদ আকবর বলেন, ‘একই নির্বাচনি আসনে বাড়ি হওয়ায় তখন আম্মার কাছে অনেকে আসতেন। তারা নিজেকে ক্ষমতার কাছাকাছি রাখতে কোনো না কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি করতেন। ক্ষমতা চলে যাওয়ার পরে তাদের ফের নতুন ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি হয়। তবে আমি তাকে (খালেকুজ্জামান চৌধুরী) চিনি না, আম্মার সঙ্গে পরিচয় ছিল না কি না জানা নেই।’

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘জালিয়াতি ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত প্রমাণিত কোনো কর্মকর্তাকে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে বসানো দেশ ও সংস্থার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বাংলাদেশে একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা প্রতিটি আমলে নতুন নতুন পরিচয় তৈরি করে সুবিধা বাগিয়ে নেয়। এর ফলে প্রকৃত সৎ, যোগ্য ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তারা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়ে উপেক্ষিত থেকে যান।’

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও অনৈতিক উপায়ে পদপদবি বাগানোর এই সংস্কৃতি গ্রহণযোগ্য নয়। দুর্নীতি দমনে সরকারের যে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তার প্রতিফলন ঘটাতে প্রতিটি পদায়নের আগে ব্যাকগ্রাউন্ড গভীরভাবে তদন্ত করা উচিত। পাশাপাশি, দুদকের মতো সংস্থাগুলোর মাধ্যমে জালিয়াতির অভিযোগ আমলে নিয়ে যোগ্যদের মূল দায়িত্বে আনা জরুরি।’

এসব বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বক্তব্য জানতে সোমবার (১০ আগস্ট) তার দপ্তরে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে কল করে ও খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া মেলেনি।

আরও পড়ুন: গণপূর্তের প্রকৌশলী মইনুলের বিরুদ্ধে ২.৬৩ কোটি টাকার আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগ

আরও পড়ুন: রাজউক জোন-৪ পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়াকে ঘিরে অনিয়ম-দুর্নীতি

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

মিষ্টির শূন্য আসনে বিএনপির মনোনয়ন কিনলেন ৭০ নেত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০২ এম
মিষ্টির শূন্য আসনে বিএনপির মনোনয়ন কিনলেন ৭০ নেত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে শূন্য ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বিক্রি শুরু করেছে বিএনপি। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ফরম বিতরণ করা হয়। প্রথম দিনে অন্তত ৭০ জন নেত্রী ৫ হাজার টাকা মূল্যে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক তারিকুল আলম তেনজিং জানান, ফরম বিক্রি থেকে দলটির মোট আয় হয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

মনোনয়ন ফরম বিতরণকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টনে পার্টি অফিসের সামনে দিনভর ব্যাপক কর্মচঞ্চলতা দেখা যায়। নেতাকর্মীদের মিছিল, স্লোগান ও জটলায় উৎসব মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রাপ্তির সম্ভাবনা ও দলীয় সমীকরণ নিয়ে আলোচনা চালান সমর্থকরা। প্রথম দিনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় স্বনির্ভরবিষয়ক সহসম্পাদক ও সাবেক ছাত্রদল নেত্রী অ্যাডভোকেট আসমা আজিজ, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস এবং ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের সভাপতি রুনা লায়লাসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেত্রী।

আরও পড়ুন: ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিমানের রিয়াদ ও দাম্মাম ফ্লাইট স্থগিত

ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে পূরণকৃত ফরম জমা দিতে হবে। ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রতিটি প্রার্থীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা জমা নেওয়া হবে। আগামী ১২ নভেম্বর এই আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ঢাকার মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তৎকালীন সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। এর জেরে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে গত ১ অক্টোবর তিনি পদত্যাগ করলে সংরক্ষিত আসনটি শূন্য হয়।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

১৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিমানের রিয়াদ ও দাম্মাম ফ্লাইট স্থগিত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৩ এম
১৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিমানের রিয়াদ ও দাম্মাম ফ্লাইট স্থগিত

১৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিমানের রিয়াদ ও দাম্মাম ফ্লাইট স্থগিত

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক হামলার জেরে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মাম রুটের সব ফ্লাইট আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিমান কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছে। সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়া এই ফ্লাইটগুলোর পরবর্তী সময়সূচি পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: মর্যাদাপূর্ণ ফেরাতে বৈশ্বিক উদ্যোগ চান ঢাবি উপাচার্য

তবে জরুরী প্রয়োজনে যাত্রীদের যাতায়াত সচল রাখতে বিকল্প পথ হিসেবে জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। যাত্রীরা এসব বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবে গমন কিংবা বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করতে পারবেন।

আরও পড়ুন: তাজমিন মৃত্যুর ঘটনা: হোটেলকর্মী রাজুর বিরুদ্ধে নারী সুরক্ষা সংক্রান্ত

যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামলাতে মদিনা রুটে বোয়িং ৭৮৭-এর বদলে বড় পরিসরের বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যার ফলে প্রতি ফ্লাইটে আসন সংখ্যা ১৪৮টি করে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত তিনটি বিশেষ ফ্লাইট যুক্ত করা হয়েছে। টিকিট রি-ইস্যু বা ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমানের সেলস সেন্টারে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় মদিনা রুটে বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজের পরিবর্তে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ সংযোজন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মিষ্টির শূন্য আসনে বিএনপির মনোনয়ন কিনলেন ৭০ নেত্রী

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

তাজমিন মৃত্যুর ঘটনা: হোটেলকর্মী রাজুর বিরুদ্ধে নারী সুরক্ষা সংক্রান্ত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৭ এম
তাজমিন মৃত্যুর ঘটনা: হোটেলকর্মী রাজুর বিরুদ্ধে নারী সুরক্ষা সংক্রান্ত

তাজমিন মৃত্যুর ঘটনা: হোটেলকর্মী রাজুর বিরুদ্ধে নারী সুরক্ষা সংক্রান্ত

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনায় কক্সবাজারের হোটেলকর্মী রিয়াজ উদ্দিন রাজুর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এক আইনজীবীর আবেদনের ভিত্তিতে আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ অভিযোগটি ধর্ষণ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।

আরও পড়ুন: ইয়েমেনে সংঘর্ষ ও বিমান হামলায় দুই শতাধিক হুথি হতাহতের

মামলার আবেদনকারী আইনজীবী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, রাজু প্রতারণার মাধ্যমে তাজমিনকে কক্সবাজারে নিয়ে আসেন। গত ৬ অক্টোবর তারা একটি হোটেলের কক্ষে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে রাত কাটান। আইনজীবী অভিযোগ করেন, ভালোবাসার অভিনয় করে তাজমিনকে কক্সবাজারে এনে ধর্ষণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে বিবেকের তাড়নায় তিনি মামলাটি করেছেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় করা আবেদনে আইনজীবী তাজমিনের বয়সের বিষয়টিও আদালতকে অবহিত করেন। এর আগে গত ১১ অক্টোবর রাতে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে রাজুকে আটক করে সদর মডেল থানা পুলিশ। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল কক্সবাজারে যায়। তবে কুমিল্লা পুলিশ তাকে নিতে অস্বীকৃতি জানালে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় রাজুকে আদালতে পাঠানো হয়।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com