ইয়ামাল ও এমবাপ্পেকে হারিয়ে ব্যালন ডি’অর জিতলেন কেইন

লামিনে ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকাদের পেছনে ফেলে ২০২৬ সালের পুরুষদের ব্যালন ডি’অর জয় করেছেন ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখের ৩৩ বছর বয়সী স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কিংবদন্তি রোনালদো বিজয়ী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করতেই আনন্দে মেতে ওঠেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। তাঁর গোলের ধারায় বুন্দেসলিগার শিরোপা জিতেছে বায়ার্ন।
আরও পড়ুন: সিরিয়ায় জর্ডানের বিমান হামলায় শিশুসহ অন্তত ৭ জন নিহত
২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে ফুটবলের এই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত খেতাব অর্জনের নজির গড়লেন কেইন। ইতিহাসের পঞ্চম ইংরেজ ফুটবলার হিসেবে এই অর্জনে নাম লেখালেন তিনি। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দল উভয় জার্সিতে গোলের অসাধারণ ধারাবাহিকতা দেখিয়ে তিনি এই স্বীকৃতি অর্জন করলেন।
পুরস্কার জয়ের পর কেইন তাঁর আবেগ চেপে রাখতে পারেননি। নিজের জন্মশহর লন্ডনে এই সম্মাননা পাওয়ার বিষয়টিকে অত্যন্ত বিশেষ বলে বর্ণনা করেন তিনি। তাঁকে ভোট দেওয়া সবাইকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি এই প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জিং রূপটি ফুটিয়ে তোলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। তাঁর ভাষ্যমতে, বিশ্বসেরা তারকাদের ভিড় থেকে একজনকে বেছে নেওয়া বিচারকদের জন্যও এক কঠিন কাজ ছিল। তাঁর মতে, এত ভালো খেলোয়াড়ের মধ্যে সেরাকে বেছে নেওয়া বিচারকদের জন্য সহজ ছিল না।
আরও পড়ুন: সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে: আইজিপি
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্য সব মনোনীত, বিজয়ী ও সহ-খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়ে কেইন উল্লেখ করেন, কঠোর পরিশ্রম, অদম্য নিষ্ঠা এবং জেদ ধরে রাখলে যে কাঙ্ক্ষিত সফলতা লাভ করা যায়, তাঁর এই পুরস্কার সেটিই প্রমাণ করে।
সদ্য সমাপ্ত ২০২৫–২৬ মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বমোট ৬৫টি ম্যাচ খেলে ৭৩টি গোল করেছেন কেইন। ক্লাব ফুটবলে বায়ার্নের হয়েই তিনি করেছেন ৬১ গোল, যার ওপর ভর করে দলটি বুন্দেসলিগা, জার্মান কাপ ও সুপার কাপের ট্রফি ঘরে তোলে। ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের শীর্ষ গোলদাতা হওয়ায় তাঁর হাতে উঠেছে সেরা গোলদাতার স্মারক ‘গের্ড মুলার ট্রফি’। ২০২৫–২৬ মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল করেছেন কেইন।
আন্তর্জাতিক ফুটবলেও দারুণ দ্যুতি ছড়িয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। দেশের হয়ে মৌসুমে ১২টি গোল করার পাশাপাশি ২০২৬ বিশ্বকাপে দলটির হয়ে ৬টি গোল করেন তিনি। তাঁর এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভর করেই ১৯৬৬ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা সাফল্য হিসেবে তৃতীয় স্থান অর্জন করে ইংলিশরা। ক্লাব ও জাতীয় দলের অসাধারণ এই সাফল্যের জোরেই শেষ পর্যন্ত ট্রফিটি নিজের করে নেন কেইন।

















