ইরানের ওপর চার দিনের মধ্যে বড় হামলার ছক সাজাচ্ছে পেন্টাগন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকান সামরিক বাহিনী। পেন্টাগন এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড যৌথ উদ্যোগে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র, জ্বালানি খাতের অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে হামলার একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রস্তুত রেখেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্দেশ পাওয়ার পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে এই ব্যাপকভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরবর্তী সময়েই এ ধরনের বড় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
আরও পড়ুন: ২৭ অক্টোবর: আজ টিভিতে কোন খেলা দেখবেন
প্রতিশোধের আশঙ্কায় সতর্কতা
যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরাইল থেকে কোনো ধরনের হামলা হলে তেহরান ও তাদের মিত্র হুথি বিদ্রোহীরা বসে থাকবে না বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের উচ্চ ঝুঁকি থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান মার্কিন ঘাঁটি ও কর্মীদের লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে এমন সতর্কবার্তা পেন্টাগনের ভাবনার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন নিরাপত্তার ঝুঁকিতে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দূতাবাস থেকে নিজেদের কর্মীদের সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
আরও পড়ুন: কর্ণফুলী নদীতে ট্রলারডুবি: হাতিয়ার দুই জেলে নিখোঁজ
হরমুজ প্রণালিতে কড়া নজরদারি
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি সম্প্রতি পরিদর্শন করেছেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক নৌশক্তি চলাচল নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। কুপার জানিয়েছেন, কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যার সমাধান না হলে এবং আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের অস্থিরতা বজায় থাকলে চূড়ান্ত সামরিক অভিযানের দিকেই অগ্রসর হবে ওয়াশিংটন।
নেতানিয়াহুর চাপ ও ট্রাম্পের কৌশল
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শুরু থেকেই ইরানের ওপর দ্রুত সামরিক অভিযান চালানোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করছেন। তবে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সমীকরণ ও আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে আপাতত ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন। ইসরাইলের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, নেতানিয়াহু আপাতত যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা মেনে নিয়ে নির্বাচনের পরবর্তী সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে রাজি হয়েছেন। এই রাজনৈতিক সমঝোতাই বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণের মূল কারণ।

















