সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ইরানের নিশানায় মার্কিন নাগরিক, হত্যার ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত পর্যায়ে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ইরানের নিশানায় মার্কিন নাগরিক, হত্যার ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত পর্যায়ে

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন কর্মকর্তা ও কর্মীদের লক্ষ্য করে ইরান তাদের নাশকতার তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটন গত ২৩ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো একটি বিশেষ মেমোতে এমন উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন। মেমোটির অনুলিপি মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফকেও দেয়া হয়েছে। ক্লেটনের মতে, মার্কিন নাগরিকদের হত্যার উদ্দেশ্যে ইরান বর্তমানে অত্যন্ত সক্রিয় এবং এই ষড়যন্ত্র এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে বা ‘উচ্চ পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রথম এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা একটি মেমোতে এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক জে ক্লেটন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানপন্থি হুতি বাহিনীর কাছ থেকে হুমকি বৃদ্ধির বিষয়টি সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: তামিলনাড়ুতে দলিত ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় শ্রেণি শিক্ষক গ্রেপ্তার

আরও পড়ুন: ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন আজ

নিরাপত্তা ঝুঁকির এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত বুধবার সৌদি আরবে অবস্থিত তাদের কূটনৈতিক মিশনের জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অবিলম্বে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন মিশনগুলো থেকেও পরিবার সদস্যদের সরিয়ে নেয়ার প্রস্তুতি চলছে। এর আগে গত শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পারস্য উপসাগরসহ মধ্যপ্রাচ্যের এক ডজনেরও বেশি দেশের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করে। এর মধ্যে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক ও ইসরাইল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে সৌদি আরবে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনে জনবল কমিয়ে আনার পর এ সতর্কবার্তা সামনে এলো।

এ বিষয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন দূতাবাসে জনবল কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যালোচনার অংশ। মূলত ইরান সমর্থিত হুতিদের হামলার ঝুঁকি এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইরানের সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রের তথ্যের ভিত্তিতেই এই মিশনগুলোতে ‘রেস্ট্রিকটেড অপারেশনস স্ট্যাটাস’ বা সীমিত কার্যক্রমের নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। ইরান যুদ্ধের আট মাস শেষ হতে চললেও পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অস্থিরতা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনসমর্থনের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ক্রমাগত হামলার ঘটনাও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নতুন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে ইরান যুদ্ধ আট মাস পূর্ণ করে নবম মাসে প্রবেশের দ্বারপ্রান্তে।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

তামিলনাড়ুতে দলিত ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় শ্রেণি শিক্ষক গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম
তামিলনাড়ুতে দলিত ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় শ্রেণি শিক্ষক গ্রেপ্তার

ভারতের তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরে ১৬ বছর বয়সী একাদশ শ্রেণির এক দলিত শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে গভীর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার পিলামেডু এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে গরুর গোশত খাওয়ার বিষয়টি প্রকাশের পর থেকে জাতপাতের বিদ্বেষ ও বুলিংয়ের শিকার হয়ে আসছিল সে। এই অসহনীয় হেনস্তাই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর কারণ বলে দাবি তাদের।

শিক্ষার্থীর মায়ের ভাষ্যমতে, শ্রেণিশিক্ষক পি বিজয়কুমার তফসিলি জাতিভুক্ত শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের শনাক্ত করতে চেয়েছিলেন। সেই সময় শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে যারা গরুর গোশত খায়, তাদের দাঁড়াতে বললে ওই শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন দাঁড়িয়েছিল। এরপর থেকেই দুই সহপাঠী নিয়মিত তাকে নিয়ে কটূক্তি, খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিদ্রূপ এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন শুরু করে। বৃত্তির সুবিধা নিতে ওই শিক্ষার্থীও নাম লেখায়।

পরিবারের অভিযোগ, শ্রেণিশিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষক অরুণ কুমারকে বারবার বিষয়টি জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। শিক্ষার্থীর মা জানান, তার ছেলে আইনজীবী হতে চেয়েছিল। তবে স্কুলে ক্রমাগত হেনস্তার কারণে কয়েকদিন সে ক্লাসেও যায়নি। এ ঘটনার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করছেন তিনি এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ছেলের কাছে স্কুলে গিয়ে অভিযোগ জানানোর কথা ভাবলেও সে আশঙ্কা করেছিল, এতে তাকে আরো একঘরে করা হতে পারে এবং হেনস্তা বাড়তে পারে। পুলিশের ধারণা, পরে সে বাড়িতে ফিরে আসে। দুপুরের দিকে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করা তার মা বাড়িতে ফিরে ছেলেকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। শিক্ষার্থীর বাবা কেরালার একটি অবকাশযাপন কেন্দ্রে কাজ করেন।

আরও পড়ুন: ইরানের নিশানায় মার্কিন নাগরিক, হত্যার ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত পর্যায়ে

পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পিলামেডু থানা পুলিশ অভিযুক্ত শ্রেণিশিক্ষক পি বিজয়কুমারকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া প্রধান শিক্ষক অরুণ কুমার এবং ওই দুই সহপাঠীকেও মামলায় আসামি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বুধবার সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি।

ঘটনার প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর স্বজনেরা স্থানীয় থানায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তামিলনাড়ু রাজ্যের তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতি কমিশন কোয়েম্বাটুরের পুলিশ কমিশনারের কাছে এক সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন তলব করেছে।

দলিত অধিকারকর্মী সুরজ কুমার বৌদ্ধ ১৬ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে একটি ‘প্রাতিষ্ঠানিক হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, দলিত খ্রিষ্টান ও অধিকারকর্মী শালিন মারিয়া লরেন্স উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলোতে গরুর গোশত খাওয়ার অজুহাতে শিক্ষার্থীদের প্রকাশ্যে শনাক্ত করার প্রবণতা বাড়ছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, এ ধরনের বৈষম্য শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে এবং শিক্ষাব্যবস্থায় জাতপাতভিত্তিক বিদ্বেষ নির্মূল করা জরুরি। এর ফলে দলিত শিশুরা জাতপাতভিত্তিক হেনস্তার ঝুঁকিতে পড়ছে।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম
ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন আজ

আজ ২৫ অক্টোবর ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন। ১৯৯৫ সালের এই দিনে ঢাকার হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। জাইমা রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র কন্যা। তার দাদা ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বীর উত্তম জিয়াউর রহমান এবং দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া। এছাড়া তার নানা নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান। জাইমা রহমানের বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রভাবশালী এক পরিবারে। পারিবারিক এই ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক আবহের মধ্যে বড় হলেও জাইমা রহমান নিজের পথটি বেছে নিয়েছেন আইন ও জনসেবার অঙ্গনে।

আরও পড়ুন: ইরানের নিশানায় মার্কিন নাগরিক, হত্যার ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত পর্যায়ে

আরও পড়ুন: ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকটে উত্তাল রাজপথ

শৈশবে ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রোডের ৬ নম্বর বাসায় বেড়ে ওঠেন জাইমা। ২০০৮ সালে বাবার সঙ্গে তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান। দীর্ঘ সময় বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ারে ব্যস্ত থাকার পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি মা-বাবার সঙ্গে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এর আগে ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের সম্মানজনক প্রতিষ্ঠান ইনার টেম্পল থেকে তিনি ‘বার-অ্যাট-ল’ ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশের আইনি ব্যবস্থার সাথে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬ সালের জুন মাসে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তার বাবা তারেক রহমান গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি বাবার সঙ্গে ২০০৮ সালে লন্ডনে চলে যান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর মা-বাবার সঙ্গে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। জাইমা যুক্তরাজ্যের ‘কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন’ থেকে আইনে স্নাতক (এলএলবি) সম্পন্ন করেন।

পেশাগত জীবনে তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বেশ সক্রিয়। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ব্যারিস্টার জাইমা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা বা ‘লিগ্যাল অফিসার’ হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি সভাপতির এক্সিকিউটিভ অফিসের অধীনে আন্তর্জাতিক আইনি বিষয়গুলো দক্ষতার সাথে তদারকি করছেন।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকটে উত্তাল রাজপথ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম
ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকটে উত্তাল রাজপথ

জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থার ভঙ্গুর দশার প্রতিবাদে পুরো ফ্রান্সজুড়ে তীব্র গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। গত শনিবার হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে নিজেদের দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে এমিলি গ্রঁদ্রি নামের এক মা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, গত সপ্তাহে কাঁদানে গ্যাসের মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি আবারও বিক্ষোভে অংশ নিতে বাধ্য হয়েছেন। আন্দোলনকারীদের মতে, এভাবে হাল ছেড়ে দিয়ে ঘরে বসে থাকা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন: ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন আজ

বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে অ্যারন নামের এক ১৫ বছর বয়সী কিশোর জানায়, তাদের স্কুল ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে এবং শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। সরকারের উদাসীনতার পাশাপাশি পুলিশের বাধা দেওয়াকে সে ক্ষমতার অপব্যবহার বলে মন্তব্য করেছে। একই সুর শোনা যায় শিক্ষার্থী লাওয়ের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ভয়ের কাছে মাথা নত করলে দাবি আদায় করা সম্ভব নয়। শিক্ষার্থী ক্লারা লেব্বাদি জানান, মানুষ ভাঙচুর হওয়া দোকানের জন্য ব্যথিত হলেও সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য নিয়ে কারো মাথা ব্যথা নেই। তাদের প্ল্যাকার্ডেও এমন ক্ষোভ ফুটে উঠেছে যেখানে বলা হয়েছে, মানুষের ক্ষতি হলে তা দেখার কেউ নেই, অথচ সম্পত্তি ভাঙলে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ক্লারা লেব্বাদি রয়টার্সকে বলেন, মানুষ ভাঙচুর হওয়া দোকানের জন্য কান্নাকাটি করছে। অথচ সরকার এসব বিষয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন।

আরও পড়ুন: সৌদি রুটে ১৪৪ ফ্লাইট স্থগিত, ভোগান্তিতে ২২ হাজার যাত্রী

বিক্ষোভকারীদের দৃঢ়তা বাড়াতে অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়েও রাজপথে নেমেছেন। শিক্ষক বেনেদিক্ত পিত্তিওঁ নিজের ১৬ বছরের মেয়েকে নিয়ে বিক্ষোভে দাঁড়িয়েছেন। তার অভিযোগ, তরুণ প্রজন্মের দাবি সরকার আমলে নিচ্ছে না। অপরদিকে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকিং পরামর্শক পিয়ের যোগ দিয়েছেন তার আট বছর বয়সী নাতনির সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার প্রত্যাশা থেকে। নাদেজ নামের একজন যোগাযোগকর্মী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে জানান, পরিস্থিতি ভীতিজনক হলেও নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধ। বার্তা সংস্থা এপিকে শিক্ষক বেনেদিক্ত পিত্তিওঁ জানান, তরুণদের দাবি সরকার কানে না তোলায় নিজের ১৬ বছরের মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে মিছিলে দাঁড়িয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করেছিল। সরকারি হিসাবে বিক্ষোভে ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নিলেও আয়োজক ইউনিয়নগুলোর দাবি, এই সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ। বিক্ষোভের কারণে ল্যুভর জাদুঘর, মুসে দর্সে ও প্যারিস অপেরার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বন্ধ রাখতে হয়েছে। ফলে পর্যটকরা বিশ্বখ্যাত চিত্রকর্ম ‘মোনালিসা’ দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। শনিবার রাতে প্যারিস ও মার্সেই শহরে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘাতের মাধ্যমে দিনটি শেষ হয়।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com