সৌদি রুটে ১৪৪ ফ্লাইট স্থগিত, ভোগান্তিতে ২২ হাজার যাত্রী

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে পরিচালন কার্যক্রম সীমিত করার কারণে বাংলাদেশের সাথে দেশটির আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একের পর এক ফ্লাইট স্থগিত হতে থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন প্রবাসী কর্মী, ব্যবসায়ী এবং ওমরাহযাত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণির সাধারণ যাত্রীরা।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট ১৪৪টি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোট ২২ হাজার ২১ জন গন্তব্যমুখী যাত্রী। পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হলে এই দুর্ভোগের মাত্রা বহুগুণে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ১৪৪টি ফ্লাইট স্থগিত এবং ২২ হাজার ২১ জন যাত্রীর ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও এয়ারলাইন্সগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকটে উত্তাল রাজপথ
স্থগিত হওয়া ফ্লাইটের পরিসংখ্যান ও এয়ারলাইন্স
বেবিচকের হিসাবমতে, স্থগিতকৃত ১৪৪টি ফ্লাইটের মধ্যে ৬৭টি সরাসরি এবং ৭৭টি বিভিন্ন দেশের ট্রানজিট ফ্লাইট। সরাসরি বিমান পরিচালনাকারী ৪টি প্রধান এয়ারলাইন্সের বাতিল হওয়া ফ্লাইটের তালিকা নিচে দেওয়া হলো অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ৩০টি, সালাম এয়ারের সাতটি, ইজিপ্টএয়ারের একটি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের নয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের আটটি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার আটটি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প |: চুক্তি না হলে রোববারই ইরানে হামলা হতে পারে
- বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স: ২৮টি ফ্লাইট
- সৌদিয়া (সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স): ১৯টি ফ্লাইট
- ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স: ১০টি ফ্লাইট
- রিয়াদ এয়ার: ১০টি ফ্লাইট
ট্রানজিট রুটের স্থগিত হওয়া ফ্লাইটের বিবরণ
অন্যান্য দেশের বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবগামী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ৭৭টি ট্রানজিট ফ্লাইটও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো
- ইন্ডিগো: ৩০টি ফ্লাইট
- এমিরেটস: ১৪টি ফ্লাইট
- কাতার এয়ারওয়েজ: ৯টি ফ্লাইট
- ফ্লাইদুবাই: ৮টি ফ্লাইট
- এয়ার ইন্ডিয়া: ৮টি ফ্লাইট
- সালাম এয়ার: ৭টি ফ্লাইট
- ইজিপ্টএয়ার: ১টি ফ্লাইট
যাত্রীদের অনিশ্চয়তা ও বিকল্প উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা
সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি ট্রানজিট রুটের যাত্রীরাও এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। বিকল্প উপায়ে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। ফলে অনেক যাত্রীকে বাধ্য হয়ে ভ্রমণসূচি পরিবর্তন, টিকিট পুনর্নির্ধারণ কিংবা নতুন করে বিকল্প ফ্লাইট খুঁজতে হচ্ছে। পাশাপাশি ওমরাহযাত্রী ও ব্যবসায়ীদেরও ভ্রমণ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের মধ্যে কতজন ইতিমধ্যে বিকল্প ফ্লাইট নিশ্চিত করতে পেরেছেন, কতজনের টিকিটের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে কিংবা কতজনকে অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান জানা যায়নি। বিশেষ করে প্রবাসী কর্মীরা সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে চাকরি ও আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারেন। তবে শুধু যাত্রীদের সতর্ক থাকার পরামর্শই যথেষ্ট নয়।
এই জরুরি পরিস্থিতিতে বিমানসংস্থাগুলো ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের প্রতিনিয়ত হালনাগাদ তথ্য প্রদান, বিকল্প ভ্রমণের ব্যবস্থা করা এবং টিকিট পরিবর্তন ও রিফান্ড প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার জোর দাবি জানানো হয়েছে। সৌদি বিমানবন্দরগুলোর স্থিতি ফিরে আসার ওপরই স্বাভাবিক ফ্লাইট চলাচল নির্ভর করছে। তাই ভ্রমণের পূর্বে নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।














