বরিশালে যুবদল কর্মীকে পিটিয়ে জখমের পর মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার ৯

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা এলাকায় প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় কাওছার হাওলাদার (৩৮) নামে এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে পশ্চিম সাতলা এলাকায় এই সহিংসতার ঘটনায় আহত হয়েছেন রাশেদ আমিন নামে আরও একজন। নিহত কাওছার উজিরপুরের সাতলা এলাকার মৃত মোনাফছের হাওলাদারের ছেলে এবং পেশায় মোটরসাইকেলে ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করতেন। এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজা এলাকায় পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের স্টিকারযুক্ত মাইক্রোবাসসহ ৯ জনকে আটক করেছে। ঢাকা থেকে মাইক্রোবাসে বরিশালের উজিরপুরে এসে কাওছার হাওলাদার (৩৮) নামে এক যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প |: চুক্তি না হলে রোববারই ইরানে হামলা হতে পারে
আরও পড়ুন: পিরোজপুরে শেষ হলো বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে শুক্রবার সকালে সাতলা একতা বাজারে। সেখানে একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে আশিকুল হাওলাদার ও কাওছারের সঙ্গে নান্না মোল্লা, স্বজল মোল্লা, মেহেদী মোল্লা এবং তাদের চাচা কাঞ্চন মোল্লার বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। পরবর্তীতে বিরোধ মীমাংসার আলোচনা চললেও রাতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। রাশেদ আমিনের ভাষ্যমতে, রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় একটি ব্রিজে অবস্থানকালে মাইক্রোবাস ও তিনটি মোটরসাইকেলে করে প্রায় ১৫ জনের একটি দল হামলা চালায়। হামলাকারীরা সবাই স্থানীয় মোল্লাবাড়ির বাসিন্দা এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বাচ্চুর অনুসারী বলে অভিযোগ রয়েছে। রাশেদ জানান, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে সবমিলিয়ে ১৫ জনের মতো লোক ছিল।
হামলার মুখে প্রাণ বাঁচাতে কাওছার ও রাশেদ পার্শ্ববর্তী হাবিব হাওলাদারের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে কাওছারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। দরজা আড়াল করে রাশেদ কোনোমতে প্রাণে রক্ষা পান। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক কাওছারকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সুষ্ঠু ঘটনার মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে ব্রিজ থেকে খালে ঝাঁপ দেন তারা। রাশেদ দরজার আড়ালে লুকিয়ে প্রাণে বেঁচে যান তিনি।


















