ইসরায়েলি নির্বাচনে ঝুলে রইল সরকার, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল না কোনো পক্ষই

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে কোনো পক্ষই পার্লামেন্ট নেসেটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সক্ষম হচ্ছে না। দেশটির তিনটি প্রধান টেলিভিশন চ্যানেল—চ্যানেল ১১, ১২ ও ১৩-এর জরিপে আভাস পাওয়া গেছে, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পাচ্ছে না, যা দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।
জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট প্রায় ৫০টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাওয়া বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা ৫০ থেকে ৫২টির মধ্যে থাকতে পারে। চ্যানেল ১৩-এর রাত ১টার সর্বশেষ জরিপে দুই পক্ষের অবস্থানই সমান ৫১টি করে আসন দেখানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: জাপান সফরে ৬৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগের আলোচনা: প্রধানমন্ত্রী
নির্বাচনে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৪ থেকে ২৫টি আসন পেতে পারে, যা তাদের পরবর্তী পার্লামেন্টে বৃহত্তম দল হিসেবে টিকিয়ে রাখতে পারে। অন্যদিকে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি ২১ থেকে ২৩টি আসন পেতে সক্ষম হতে পারে। তবে এবারের নির্বাচনে আরব দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা ১৭ থেকে ১৮টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা সরকার গঠনের আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে আরব দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা ১৭ থেকে ১৮ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর মতো আসন থাকলেও বিকল্প সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করা অত্যন্ত কঠিন হতে পারে।
বিরোধী জোটের শরিকদের মধ্যে নাফতালি বেনেটের বিইয়াখাদ পার্টি ১২ থেকে ১৪টি, আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু ৭ থেকে ৯টি এবং ইয়াইর গোলানের ডেমোক্র্যাটস পার্টি ৯ থেকে ১০টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর শরিকদের মধ্যে ইতামার বেন-গভিরের ওৎজমা ইয়েহুদিত পার্টি ৬ থেকে ৭টি, বেজালেল স্মোট্রিচের রিলিজিয়াস জায়োনিস্ট পার্টি-জেহুত ৬টি এবং অতি-গোঁড়া ইহুদিদের শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম সম্মিলিতভাবে ১২ থেকে ১৩টি আসন পেতে পারে বলে জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: আইজিপির ক্রসফায়ার মন্তব্য নিয়ে বিব্রত সরকার
বুথফেরত ফল প্রকাশের পর বিরোধী নেতারা এটিকে নিজেদের সাফল্য হিসেবেই দেখছেন। গাদি আইজেনকোট মন্তব্য করেছেন, এই ফলাফল স্পষ্ট করছে যে জায়নবাদী সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী এবং ইসরায়েলের অধিকাংশ নাগরিকের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর কোনো আস্থা নেই। বিরোধী নেতা ইয়াইর লাপিদ সরাসরি নেতানিয়াহুর জোটকে পরাজিত ঘোষণা করে বলেছেন, জনগণ তাদের ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার বার্তা স্পষ্ট করেছে। ইসরায়েলের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা নেতানিয়াহুর ডানপন্থী সরকার ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় ক্ষমতায় ছিল।
ডেমোক্র্যাটস পার্টির চেয়ারম্যান ইয়াইর গোলান জানান, ইসরায়েলে প্রকৃত পরিবর্তনের সরকার গঠনের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং তারা ব্যবধান দূর করে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। তবে বিরোধী জোটের অধিকাংশ নেতা আরব দলগুলোর সাথে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন, ফলে সরকার গঠন অত্যন্ত জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের মধ্যে জাতীয় ঐক্যের সরকারের সম্ভাবনাও বেশ ক্ষীণ। আইজেনকোট স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তিনি নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে বা পালাক্রমে প্রধানমন্ত্রিত্বের ব্যবস্থায় সরকারে যোগ দেবেন না। অধিকাংশ বিরোধী নেতাই নেতানিয়াহুর সরকারে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
নেসেটের চূড়ান্ত ফলাফল সব ভোট গণনার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে, কারণ অতীতে বুথফেরত জরিপের সঙ্গে চূড়ান্ত ফলের ব্যবধান দেখা গিয়েছিল। রাজনৈতিক সমঝোতা ব্যর্থ হলে ইসরায়েলে আবারও নির্বাচন আয়োজনের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। উল্লেখ্য, নেতানিয়াহু সরকারের সময় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস হামলা চালায়, যার পর থেকেই বিরোধীরা তার জবাবদিহি ও নিরাপত্তা ব্যর্থতা তদন্তে রাষ্ট্রীয় কমিশনের দাবি জানিয়ে আসছেন।

















