এমবাপ্পের জোড়ায় বার্সেলোনাকে হারিয়ে রিয়ালের বড় জয়

লা লিগায় টানা ৯ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়ে উড়তে থাকা বার্সেলোনাকে অবশেষে থামিয়ে দিল রিয়াল মাদ্রিদ। এল ক্লাসিকোর ঠিক আগে ছন্দ ফিরে পাওয়া রিয়াল ঘরের মাঠে বার্সাকে ২-১ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করেছে। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপট বজায় রেখে রিয়াল এই জয় তুলে নেয়। টানা ৯ ম্যাচ জিতে লা লিগার সর্বকালের রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলেছিল। সেই রিয়াল যারা একটু দেরিতে হলেও ফর্ম ফিরে পেয়েছিল এল ক্লাসিকোর ঠিক আগে। বার্সেলোনাকে মাটিতে নামিয়ে আনল সেই রিয়ালই। তবে স্কোরলাইনটা যেন ম্যাচের আসল চিত্রটাকে ঠিকঠাক তুলে ধরতে পারছে না। দুটো গোলের কোনোটিকেই ধারার বিপরীতে মনে হয়নি। রিয়াল মাঠ ছেড়েছে ২-১ গোলে জিতে।
আরও পড়ুন: ডেন্টাল হাইজিনিস্ট থেকে ফ্লোরিডার উদ্যোক্তা সন্দ্বীপের জাহান রিমা
ম্যাচের ৪১ মিনিটে রিয়াল প্রথম গোলটি পায় বার্সেলোনা রক্ষণের ভুলে। ইয়ান দিওমান্দের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে জেরার্দ মার্তিন বল বক্সের ভেতর কিলিয়ান এমবাপ্পের পায়ে ঠেলে দেন, যা সহজেই জালে জড়ায়। এর আগে প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোল শোধের বড় সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হন বার্সার লামিন ইয়ামাল। মার্ক কুকুরেয়ার পাহারায় থাকা ইয়ামাল গোলরক্ষক আন্দ্রিই লুনিনকে সামনে পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। লামিন ইয়ামালকে বোতলবন্দি করে রেখেছিলেন মার্ক কুকুরেয়া, সে চক্রব্যূহ ভাঙার সুযোগ যেই না একবার পেয়েছিলেন, ব্যর্থ হয়েছেন বাজেভাবে। তিনি সেটা ক্লিয়ার করতে চেয়েছিলেন মাঠের ভেতরের দিকে। বক্সের ভেতরে অনেকটাই ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন, সামনে ছিলেন শুধুই আন্দ্রিই লুনিন। তবে তিনি কাছের পোস্টে শট নিতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। জুড বেলিংহাম কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে এসেছিলেন তার সামনে ছিলেন শুধুই মার্তিন, পাশে ছিলেন এমবাপ্পে, পাস দিলেই খেলা শেষ। আর তাতে বেলিংহাম যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন কিছুটা। এরপর এমবাপ্পে বালদে আদেয়েমিদের হলুদ কার্ডে পরিস্থিতি একটু উত্তপ্ত হয়েছে বটে।
আরও পড়ুন: ব্রাজিল নির্বাচন: লুলার সামান্য ব্যবধানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জুড বেলিংহাম রিয়ালের ব্যবধান বাড়ানোর সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। তবে ৬১ মিনিটে পেদ্রির বাড়ানো বলে রাফিনিয়া গোল করলে সমতায় ফেরে বার্সা। বেলিংহামের পায়ের ফাঁক দিয়ে রাফিনিয়ার নেওয়া শট লুনিনের হাত ছুঁয়ে জালে প্রবেশ করে। গোলটি বার্সার আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও শেষ পর্যন্ত তারা রিয়ালের গতির কাছে পেরে ওঠেনি। ওদিকে বার্সা পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে খুবই কম। ৬১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে পেদ্রি বল বাড়ান বক্সে থাকা রাফিনিয়াকে। পেদ্রি একের পর এক মিসপাসে বল হারাচ্ছিলেন, ইয়ামালও হাঁটছিলেন একই পথে। শেষমেশ তা বেরিয়ে যায় লক্ষ্যের বাইরে দিয়ে। এরপর গোল যে হলো বার্সার, তাতেও বেলিংহামের ‘অবদান’ ছিল বেশ। কিন্তু ফলাফলের চেয়ে বড় নাটকীয়তা তৈরি করতে পারেনি।
ম্যাচের ৮৭ মিনিটে রিয়ালের জয়সূচক গোলটি আসে এমবাপ্পের কাছ থেকে। নিজেদের অর্ধে বল পেয়ে জুড বেলিংহাম বার্সার ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে উইংয়ে বল বাড়ান এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে। কামাভিঙ্গা পাউ কুবারসিকে এড়িয়ে বল দেন এমবাপ্পেকে, যিনি নিখুঁত ফিনিশিংয়ে রিয়ালের জয় নিশ্চিত করেন। নির্ধারিত সময়ের মাত্র ৩ মিনিট বাকি থাকতে এই গোলটি বার্সার প্রত্যাবর্তনের সব পথ বন্ধ করে দেয়। শেষ দিকে খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও কার্ড দেখার ঘটনা ঘটলেও খেলার ফলাফলে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

















