কুমিল্লায় কিশোর অপরাধ দমনে সাফল্য, স্থায়ী নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ

কুমিল্লা নগরের কান্দিরপাড়ের টাউন হল মাঠ, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কিংবা রেলস্টেশন এলাকা—যেসব স্থান মাসখানেক আগেও মাদকের আড্ডা ও ছিনতাইয়ের কারণে ছিল চরম আতঙ্কের, সেখানে এখন ফিরেছে স্বস্তি। টানা এক মাসের বিশেষ পুলিশি অভিযানে কিশোর গ্যাংগুলোর তৎপরতা অনেকাংশে স্তিমিত হয়ে এসেছে। সাধারণ মানুষ ও শ্রমজীবীরা এখন রাতে নির্ভয়ে চলাচল করতে পারছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই সমন্বিত উদ্যোগ জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে দিলেও, এই সাফল্যকে কীভাবে স্থায়ী রূপ দেওয়া যায়, তা এখন সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয়।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলি নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট এগিয়ে, জরিপে তথ্য
দীর্ঘদিন ধরে কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও, গত সেপ্টেম্বরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের স্কুলপড়ুয়া সন্তানের মর্মান্তিক ঘটনার পর জনদাবি তীব্র হয়। এরপরই জেলাজুড়ে চিরুনি অভিযানে নামে পুলিশ। এই এক মাসে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক এবং এক হাজারেরও বেশি কিশোর অপরাধী ও গ্যাং লিডারকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কিশোরদের অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে ছাড় দেওয়া হয়েছে, যা আইনি কঠোরতার পাশাপাশি সংশোধনের সুযোগ হিসেবে দেখছে পুলিশ প্রশাসন।
আরও পড়ুন: ঝড়ের আগাম সংকেত দেবে এআই, বাড়বে দুর্যোগ মোকাবিলার সুযোগ
তবে সমাজসচেতন মহল মনে করছেন, শুধু অভিযান চালিয়ে কিশোর অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়, যদি এর নেপথ্যের কারিগরদের চিহ্নিত করা না যায়। স্থানীয় রাজনীতি কিংবা অপরাধ জগতের প্রভাবশালী ‘বড় ভাইদের’ আশ্রয়-প্রশ্রয়েই মূলত এসব কিশোর অপরাধী চক্র গড়ে ওঠে। নিজস্ব স্বার্থ হাসিল ও পেশিশক্তি বাড়াতে তারা কিশোরদের ব্যবহার করে। রাজনৈতিক ও সামাজিক এই পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ না হলে অভিযান শিথিল হওয়ার সাথে সাথেই নতুন রূপে অপরাধী চক্রগুলো আবার সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা রয়ে যায়।
কিশোর অপরাধ দমনে সাময়িক ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ যথেষ্ট নয়; বরং নজরদারি ও পুলিশি পেশাদারত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অপরিহার্য। পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও সন্তানদের বিষয়ে আরও মনোযোগী হতে হবে। সন্তানের চলাফেরা, মেলামেশা ও অনলাইন কর্মকাণ্ডের ওপর অভিভাবকদের নিয়মিত নজরদারি রাখা এখন সময়ের দাবি। পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় আনা, মাদকের সহজলভ্যতা রোধ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই কেবল কুমিল্লাকে কিশোর গ্যাংমুক্ত একটি নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। কুমিল্লায় চলমান এই সফলতার ধারা অন্যান্য জেলায়ও ছড়িয়ে দেওয়ার দাবি উঠেছে।



















