বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

ডিফারেনশিয়াল প্রাইভেসি: যেভাবে পরিসংখ্যান থেকে হারিয়ে যায় রোগীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫০ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ডিফারেনশিয়াল প্রাইভেসি: যেভাবে পরিসংখ্যান থেকে হারিয়ে যায় রোগীরা

ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় আধুনিক যুগে আমরা যে গাণিতিক কৌশলের ওপর ভরসা করি, তার নাম ‘ডিফারেনশিয়াল প্রাইভেসি’। মার্কিন কম্পিউটার বিজ্ঞানী সিনথিয়া ডোয়ার্ক ২০০৬ সালে প্রথম এই ধারণার গাণিতিক ভিত্তি স্থাপন করেন। বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ডেটাবেজ বা বড় আকারের তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এটি একটি প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এই প্রযুক্তির একটি অন্ধকার দিকও রয়েছে, যা বিশেষ করে বিরল রোগে আক্রান্ত বা ছোট জনগোষ্ঠীর তথ্যের ক্ষেত্রে মারাত্মক বিকৃতি ঘটাতে পারে।

ডিফারেনশিয়াল প্রাইভেসির মূল প্রক্রিয়াটি বেশ কৌশলী। এই নয়েজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে একটি প্যারামিটার।

যখনই কোনো নির্দিষ্ট প্রশ্নের বিপরীতে ডেটাবেজ থেকে তথ্য নেওয়া হয়, তখন মূল উত্তরের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার ‘নয়েজ’ বা এলোমেলো সংখ্যা যোগ করে দেওয়া হয়। কারণ, তাদের জনসংখ্যা কম হওয়ায় তা বেঁধে দেওয়া সীমার নিচে পড়ে গেছে।

আরও পড়ুন: মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যের ডাক দিলেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

এর ফলে কোনো একক ব্যক্তির রেকর্ড আলাদাভাবে শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, যা গোপনীয়তা নিশ্চিত করে।

তবে এই নয়েজ যোগ করার প্রক্রিয়াটি গাণিতিকভাবেই কিছু ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি করে।

যেমন, কোনো একটি এলাকায় বিরল কোনো রোগে আক্রান্ত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা যদি ৫ হয়, তবে প্রাইভেসি সেটিংসে নয়েজ যুক্ত করার ফলে সেই সংখ্যাটি ভুলবশত ২ অথবা ৯ হিসেবে দেখা দিতে পারে। কোনো এক জেলায় বছরে মাত্র সাত-আটজন রোগী বিরল কোনো এক জটিলতায় ধরা পড়ছে। সংখ্যাটা খুব ছোট, কিন্তু ওই সাত-আটজন মানুষের জন্য এটাই তাঁদের পুরো বাস্তবতা। তাই একে বাংলাদেশের নিজস্ব ও আসল ডেটা দিয়ে একটি চিন্তার পরীক্ষা হিসেবে দেখা যাক।

আরও পড়ুন: সিরিয়ায় জর্ডানের বিমান হামলায় শিশুসহ অন্তত ৭ জন নিহত

বড় জনসংখ্যার ক্ষেত্রে এই পার্থক্য নগণ্য হলেও ছোট জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এটি ভুল তথ্যের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এই বৈষম্যের বিষয়টি মেশিন লার্নিং মডেলে ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো প্রমাণ করেন নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গবেষক ইউজিন বাগদাসারিয়ান ও তাঁর সহকর্মীরা। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, ডেটাসেটে যেসব তথ্যের উপস্থিতি বেশি, প্রাইভেসি-সুরক্ষিত মডেল সেগুলো ৯৮-৯৯ শতাংশ নির্ভুলতায় শনাক্ত করতে পারে। কিন্তু যে তথ্যের নমুনার সংখ্যা কম, সাধারণ মডেল যেখানে ৯৭ শতাংশ নির্ভুলতা দেখাতে সক্ষম, সেখানে প্রাইভেসি-সুরক্ষিত মডেলটি মাত্র ৭৭ শতাংশ নির্ভুল ফল দিতে পারে। অর্থাৎ তথ্যের স্বল্পতাই এখানে বড় দুর্বলতা হিসেবে সামনে আসে। যে সংখ্যাটার ছবি ডেটাসেটে বেশি ছিল (যেমন ‘২’), দুটি মডেলই সেটা প্রায় সমান নির্ভুলতায় (৯৮-৯৯ শতাংশ) চিনতে পেরেছিল। কিন্তু যে সংখ্যার ছবি কম ছিল (যেমন ‘৮’-এর মাত্র ৫০০টি নমুনা), সাধারণ মডেল সেটা ৯৭ শতাংশ নির্ভুলতায় চিনতে পারলেও প্রাইভেসি-সুরক্ষিত মডেলটি চিনতে পেরেছিল মাত্র ৭৭ শতাংশ।

আদমশুমারির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে।

২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরো প্রথমবারের মতো ডিফারেনশিয়াল প্রাইভেসি ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির জে টি মিউলার এবং পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির আলেকজান্ডার আর সান্তোস-লোজাদার ২০২২ সালের গবেষণায় দেখা যায়, ছোট ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উপাত্তে এই পদ্ধতিতে ব্যাপক অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। একই ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে মার্কিন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও। মিনিয়াপোলিস ফেডারেল রিজার্ভের একটি গবেষণা বলছে, প্রায় ৮০ শতাংশ উপজাতি গোষ্ঠী আগে তাদের বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক যে নিখুঁত তথ্য পেত, নতুন নিয়মে তা আর পাওয়া যাচ্ছে না। হুবহু একই জিনিস ঘটেছে স্বাস্থ্যের হিসাবের ক্ষেত্রেও।

স্বাস্থ্যখাতের তথ্যে এর প্রভাব আরও উদ্বেগের কারণ। হাওয়ার ও সান্তোস-লোজাদার ২০২১ সালের গবেষণা অনুযায়ী, ডিফারেনশিয়াল প্রাইভেসি প্রয়োগের ফলে কোভিড-১৯-এর বয়সভিত্তিক মৃত্যুহারে বড় ধরনের বিকৃতি ঘটে, যা বাস্তবতার চেয়েও অনেক বেশি বা অস্বাভাবিক হার প্রদর্শন করে। কাউন্টি পর্যায়ের ৪০ শতাংশ বয়স-লিঙ্গ গ্রুপ এবং ৬০ শতাংশ জাতিগত গ্রুপ এই বিকৃতির শিকার হয়। এছাড়া কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর তথ্যে শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় এই প্রভাব আরও বেশি প্রকট বলে ২০২০ সালের এক গবেষণায় উঠে এসেছে। হাওয়ার ও সান্তোস-লোজাদার ২০২১ সালের গবেষণা দেখিয়েছে, ডিফারেনশিয়াল প্রাইভেসি প্রয়োগ করলে কোভিড-১৯-এর বয়সভিত্তিক মৃত্যুহারে এমন বিকৃতি আসতে পারে যে হিসাব করা মৃত্যুহার ১০০ ভাগের বেশিও দেখাতে পারে। সান্তোস-লোজাদা, হাওয়ার্ড ও ভার্ডেরির ২০২০ সালের আরেকটি গবেষণা আরও নির্দিষ্ট করে দেখিয়েছে, এই বিকৃতি শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর মৃত্যুহারের হিসাবে বেশি প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশে এখনো জাতীয় পর্যায়ে ডিফারেনশিয়াল প্রাইভেসির প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহার না থাকলেও, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে যদি বিরল কোনো রোগের তথ্য বা জেলাভিত্তিক জটিল স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এই পদ্ধতিতে প্রকাশ করা হয়, তবে উপরের গবেষণাগুলোর মতো একই ধরনের বিকৃতি ঘটার ঝুঁকি থেকে যায়। বিশেষ করে ২০২৩ সালে বাংলাদেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের মতো পরিস্থিতিগুলোর ক্ষেত্রে সঠিক পরিসংখ্যানের গুরুত্ব অপরিসীম। যেকোনো গাণিতিক সুরক্ষাই তখনই যুক্তিযুক্ত, যখন আমরা বুঝতে পারি যে প্রতিটি ছোট সংখ্যার আড়ালে বাস্তব মানুষ রয়েছেন, যারা পরিসংখ্যানের ভুলে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারেন। এখন কল্পনা করুন, এই ডেটাবেজে রোগীর পরিচয় গোপন রাখার জন্য একটা গাণিতিক পদ্ধতি বসানো হলো, যার কাজ হলো প্রতিটি সংখ্যার সঙ্গে সামান্য একটু এলোমেলো ‘শব্দ’ বা ‘নয়েজ’ যোগ করে দেওয়া। ডেটাবেজ তখনো ঠিকই ‘গোপনীয়’ থাকে, কিন্তু ওই জেলার রোগীরা যেন কাগজে-কলমে অস্তিত্বহীন হয়ে যায়। সমস্যাটা হলো, যে গণিত আমাদের গোপনীয়তা রক্ষা করে, সেটিই কিছু মানুষকে পরিসংখ্যানের জগৎ থেকে একেবারে মুছে দিতে পারে। কম্পিউটারের ক্যাবলের মাথায় প্লাস্টিকের মোটা অংশ থাকে কেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অদৃশ্য বৈষম্য ও আমাদের ভবিষ্যৎ। তার ফলাফল ছিল ঠিক এই নমুনারই একটি বাস্তব সংস্করণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি গান বানাতে পারে। কিন্তু দেশ যেটাই হোক না কেন, গণিতটা তো একই থাকবে।

ডিফারেনশিয়াল প্রাইভেসির প্রভাব নিয়ে উল্লেখযোগ্য গবেষণাসমূহ

  • Bagdasaryan, E., Poursaeed, O., & Shmatikov, V. (2019). Differential Privacy Has Disparate Impact on Model Accuracy. Advances in Neural Information Processing Systems (NeurIPS), 32, 15479–15488.
  • Mueller, J. T., & Santos-Lozada, A. R. (2022). The 2020 US Census Differential Privacy Method Introduces Disproportionate Discrepancies for Rural and Non-White Populations. Population Research and Policy Review, 41(4), 1417–1430.
  • Hauer, M. E., & Santos-Lozada, A. R. (2021). Differential Privacy in the 2020 Census Will Distort COVID-19 Rates. Socius, 7.
  • Santos-Lozada, A. R., Howard, J. T., & Verdery, A. M. (2020). How Differential Privacy Will Affect Our Understanding of Health Disparities in the United States. Proceedings of the National Academy of Sciences, 117(24), 13405–13412.
  • Gregg, M., Trostle, H., & Liebler, C. A. (2023). New 2020 Census Rules Make It Harder to Navigate Native American Data. Federal Reserve Bank of Minneapolis, Center for Indian Country Development, CICD Working Paper 2023-05.

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও গবেষণার তথ্য

  • Bhowmik, K. K., et al. (2023). Recent outbreak of dengue in Bangladesh: A threat to public health. Health Science Reports, 6(4), e1210.
  • Araf, Y., et al. (2024). Emerging health implications of climate change: dengue outbreaks and beyond in Bangladesh. The Lancet Microbe, 5(3), e213.
  • এজেন্টিক এআই কীভাবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও তথ্যের সুরক্ষা ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতে আরও পরিবর্তন করতে পারে তা নিয়ে চলছে নতুন আলোচনা।
External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

টানা তৃতীয়বার বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলার হলেন লামিন ইয়ামাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫১ এম
টানা তৃতীয়বার বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলার হলেন লামিন ইয়ামাল

মৌসুমজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে আবারও বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলারের স্বীকৃতি পেলেন বার্সেলোনার স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল। লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে আয়োজিত জমকালো এক অনুষ্ঠানে তার হাতে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারটি তুলে দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে প্রবর্তিত এই কোপা ট্রফিটি এখন পর্যন্ত ইয়ামাল ছাড়া অন্য কেউ একাধিকবার জেতার কৃতিত্ব দেখাতে পারেননি। ২০১৮ সাল থেকে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘কোপা ট্রফি’।

বয়স মাত্র ১৯ হলেও ইয়ামাল গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন ৫৭টি ম্যাচে। এই ম্যাচগুলোতে তিনি ২৫টি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ২০টি গোল। বার্সেলোনার লা লিগা, কোপা দেল রে এবং স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ে বড় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি স্পেনের হয়েও তিনি ছিলেন অসাধারণ। এমনকি ব্যালন ডি’অর বর্ষসেরা ফুটবলারের লড়াইয়েও জায়গা করে নিয়েছেন এই তরুণ তুর্কি। গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৫৭ ম্যাচে ২৫টি গোল ও ২০টি অ্যাসিস্ট করেন ১৯ বছর বয়সি ইয়ামাল।

আরও পড়ুন: নির্বাচনে জিততে ইরানের হামলার ভয় দেখাচ্ছেন নেতানিয়াহু

পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ইয়ামাল বলেন, এখানে উপস্থিত হয়ে এই ট্রফি গ্রহণ করা অত্যন্ত সম্মানের। তৃতীয়বারের মতো এটি জিততে পেরে তিনি নিজের ক্লাব এবং জাতীয় দলকে ধন্যবাদ জানান। তবে বিনয়ী ইয়ামাল মনে করেন, এই পুরস্কারটি তার সতীর্থ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির পাওয়া উচিত ছিল। তার মতে, কুবার্সি দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত খেলছেন, তাই এই ট্রফিটির দাবিদার তিনিই। তিনি বলেন ‘আমার সতীর্থ কুবার্সি এটা জিতলে আমার ভালো লাগত। সেই পুরস্কার তিনি পাবেন কিনা- তা সময়ই বলে দেবে। সে বেশ অনেক দিন ধরে দারুণ একটি স্তরে খেলছে।’।

উল্লেখ্য, একই অনুষ্ঠানে নারী বিভাগে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বর্ষসেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন বার্সেলোনার ভিকি লোপেস। গত মৌসুমে মাঠের পারফরম্যান্সের বিচারে বিচারকদের প্যানেল এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

নির্বাচনে জিততে ইরানের হামলার ভয় দেখাচ্ছেন নেতানিয়াহু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫১ এম
নির্বাচনে জিততে ইরানের হামলার ভয় দেখাচ্ছেন নেতানিয়াহু

ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনে জনমত জরিপে পিছিয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ইরানের আক্রমণের ভীতি ছড়িয়ে ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আগামী মঙ্গলবারের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আগে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তেল আবিবে পারমাণবিক বিস্ফোরণের একটি ভীতিকর ছবি প্রকাশ করেছেন। ভোটারদের সতর্ক করে তিনি বলেছেন, নির্বাচনে তাকে ভোট না দিলে দেশ ভয়াবহ পারমাণবিক ঝুঁকির মুখে পড়বে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, যারা নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত, তাদের বর্তমান বিরোধী দলকে ভোট দেওয়ার আগে পুনরায় ভাবা উচিত। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যারা নিজেদের অস্তিত্ব, পরিবার ও প্রিয়জনদের নিয়ে চিন্তা করেন, বিরোধীদের ভোট দেওয়ার আগে তাদের হাত কাঁপা উচিত।’।

আরও পড়ুন: টানা তৃতীয়বার বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলার হলেন লামিন ইয়ামাল

নেতানিয়াহুর এই কর্মকাণ্ড নিয়ে ইসরাইলি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামিরের সঙ্গে তার বিরোধের তথ্য সামনে এসেছে। চ্যানেল ১২-এর খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেনাবাহিনীর ওপর চাপ প্রয়োগ করে এমন কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন নেতানিয়াহু, যা সংবেদনশীল এই সময়ে ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। যদিও সেনাপ্রধান জামির লিখিত নির্দেশনা চেয়েছিলেন, কিন্তু নেতানিয়াহু ও তার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা থাকার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছে। ওই নির্দেশনার কারণে সংবেদনশীল সময়ে ইরানের ভুল হিসাব-নিকাশ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্দেশনার বিস্তারিত উল্লেখ না করে জামির সেটি লিখিতভাবে তার কাছে উপস্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: পাঠ্য বইয়ের বিতর্কে এনসিটিবি’র ৯ কর্মকর্তা বদলি

এদিকে সিএনএন ও ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযানে রাজি করানোর চেষ্টা চালিয়েছেন নেতানিয়াহু। তবে ট্রাম্প মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের পদক্ষেপে অনীহা প্রকাশ করেছেন। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের বিবৃতিতে এই প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত বা অস্বীকার না করে কেবল জানিয়েছে, সব সিদ্ধান্ত জাতীয় নিরাপত্তা ও পেশাগত বিবেচনার ভিত্তিতে নেওয়া হয়। এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসেও একই ধরনের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তারা শুধু বলেছে, বাহিনীর সিদ্ধান্তগুলো একান্তভাবে নিরাপত্তা, পেশাগত, বস্তুনিষ্ঠ ও জাতীয় বিবেচনার ভিত্তিতে নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য যে, গত মার্চ মাসে নেতানিয়াহু নিজেই দাবি করেছিলেন যে, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্মিলিত হামলায় ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে। সে সময় তিনি সেই সাফল্যকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকবে এমন ঐতিহাসিক বিজয় বলে অভিহিত করেছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তার সেই বক্তব্যের স্পষ্ট অমিল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৫ সালে ইরানের বিরুদ্ধে অর্জিত সাফল্যকে তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে থাকবে এমন ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবেও বর্ণনা করেছিলেন।

নেতানিয়াহুর এই কৌশলের কঠোর সমালোচনা করেছেন তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট। বিরোধী জোটের এই নেতা সেনাপ্রধানের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে বলেন, ক্ষমতার লড়াইয়ে টিকে থাকার জন্য নেতানিয়াহু কোনোভাবেই ইসরাইলি সামরিক বাহিনীকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন না।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

পাঠ্য বইয়ের বিতর্কে এনসিটিবি’র ৯ কর্মকর্তা বদলি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫১ এম
পাঠ্য বইয়ের বিতর্কে এনসিটিবি’র ৯ কর্মকর্তা বদলি

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে হাতে সময় বাকি আর মাত্র দুই মাস। এর মধ্যেই পাঠ্য বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। রাজনৈতিক প্রতীক ব্যবহারের বিতর্ক ওঠার পর বই সংশোধন ও পুনর্মুদ্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে বিতরণ হওয়া প্রায় ২০ লাখ বই ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সরকারের গচ্চা যাচ্ছে প্রায় ১৭ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রতিটি বই ছাপাতে প্রায় ৫৭ টাকা খরচ হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কিন্তু এরই মধ্যে পাঠ্য বই নিয়ে বেধেছে তালগোল। সংশোধনের পর আবার বিতরণ হবে পাঠ্য বইগুলো। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বই সংশোধন ও পুনর্মুদ্রণের কারণে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। কর্মকর্তাদের কী কারণে বদলি করা হয়েছে, তা তিনি জানেন না বলে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: নির্বাচনে জিততে ইরানের হামলার ভয় দেখাচ্ছেন নেতানিয়াহু

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বইয়ের ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি নিয়ে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত এই ছবিটি একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রতীকের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় আপত্তি ওঠে। যদিও এর আগে ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়েও এই প্রতীক ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে এনসিটিবি প্রথমে প্রতীক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিলেও পরে জানায়, জ্ঞানের পিরামিডের স্তরগুলোতে কোনো আইকনই রাখা হবে না। এনিয়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি)। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে সেটির পরিবর্তে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়। এনসিটিবি’র সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান জানান, এ বছর বইয়ে চারটি স্তরের নাম থাকবে, তবে কোনো আইকন থাকবে না। পরবর্তী সময়ে বিষয়গুলো আরও পরিমার্জন করা হবে।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে আজ নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ

বইয়ের ছবি সংক্রান্ত বিতর্কের রেশ ধরে সোমবার এনসিটিবি’র ৯ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ২৯শে অক্টোবরের মধ্যে তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর আগে রোববার আইসিটি বই সম্পাদনার দায়িত্বে থাকা গবেষণা কর্মকর্তা মু. আব্দুল্লাহ আল জোবায়েরকেও বদলি করা হয়। আগের দিন বদলি করা হয়েছিল আরেক কর্মকর্তাকে। তারা সবাই বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবমুক্ত না হলে ওইদিন অপরাহ্নে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।

শুধু আইসিটি বই নয়, প্রাথমিক পর্যায়ের বাংলা, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বইয়ের ছবি নিয়েও বিতর্ক দানা বেঁধেছে। প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে মোট ৮২টি ‘নৌকা’র ছবি ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে ৩৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২৩টি এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ২৫টি ছবি রয়েছে। এসব বিতর্কিত ছবি থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় এনসিটিবি’র অভ্যন্তরেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে আগামী ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে সংশোধিত বই মাঠপর্যায়ে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে এনসিটিবি। তবে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করা বোর্ডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বদলির বিষয়ে এনসিটিবি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানান, এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং এ বিষয়ে তার কোনো সম্পৃক্ততা বা বিস্তারিত তথ্য নেই।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com