স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ ১১ দলীয় জোটের

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। জোটের শরিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কতটা নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়েছে। রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে আয়োজিত জোটের এক বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই শঙ্কার কথা জানান।
আরও পড়ুন: অনুমোদনহীন নির্মাণের অভিযোগে কুয়াকাটায় ইস্তানবুল হোটেলের কাজ বন্ধ
মাওলানা মামুনুল হক নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, নির্বাচন কমিশনের সচিব পর্যায়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে, যা আস্থার সংকট তৈরি করেছে। ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটলে ১১ দলীয় ঐক্য কখনোই নীরব থাকবে না।
সংবাদ সম্মেলনে ৩১শে অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়। মামুনুল হক জানান, আগের দুটি লংমার্চের মতো এবারও সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কর্মসূচি সফল হবে। আগামী ৩১শে অক্টোবর সকাল ৭টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই যাত্রা শুরু হবে এবং কুষ্টিয়ায় গিয়ে সমাপ্ত হবে। তিনি আরও বলেন, কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তবে লংমার্চে কোনো পক্ষ থেকে বাধা বা অপতৎপরতা চালানো হলে তা যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করা হবে।
আরও পড়ুন: দূর নিয়ে ভাবছেন না নাজমুল, লক্ষ্য কেবল মিরপুর টেস্ট জয়
দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মামুনুল হক পুলিশের মহাপরিদর্শকের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। বিশেষ করে ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত বক্তব্যকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেন তিনি। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন বক্তব্য মোটেই প্রত্যাশিত নয়, যা দেশবাসীকে স্তম্ভিত করেছে।
সরকারের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি জানান, দেশের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে বর্তমানে তারা সহনশীল কর্মসূচি পালন করছেন এবং সংসদের ভেতর ও বাইরে সরকারকে সহযোগিতার মনোভাব দেখাচ্ছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের প্রতি আন্তরিকতার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে জনগণের অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়া হতে পারে।
উক্ত বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপি’র প্রেসিডেন্ট ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ এবং এনসিপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।





















