৬০ হাজার কোটি টাকায় নির্মিত হচ্ছে ঢাকা-কুমিল্লা নতুন রেলপথ

রেলপথ আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে ঢাকা-কুমিল্লা রুটে ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নতুন কর্ড লাইন নির্মাণের বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কুমিল্লা, দাউদকান্দি, শ্যামপুর ও ফতুল্লা হয়ে নারায়ণগঞ্জ হয়ে সরাসরি ঢাকার সাথে যুক্ত হবে এই রেলপথ। এই মেগা প্রকল্পের জন্য আনুমানিক ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। বিএনপি সরকার রেলপথ আধুনিকীকরণ, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন রেলপথ (কর্ড লাইন) অবশেষে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: এইচএসসির ফল প্রকাশ ২৯ অক্টোবর: জানালেন ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যান
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পটিতে বিনিয়োগ করতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকসহ (ইআইবি) দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নতুন এই রেলপথের জন্য ইতিমধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। প্রকল্পের আওতায় রেলের বহরে নতুন করে ২৬০টি ব্রডগেজ ক্যারেজ, ২০০টি মিটার গেজ ক্যারেজ, ৩০টি লোকোমোটিভ, চারটি রিলিফ ট্রেন ও চারটি হুইল লেদ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে।
আরও পড়ুন: গণমাধ্যমকে আরও সাহসী হওয়ার আহ্বান জামায়াত আমীরের
বর্তমানে আখাউড়া, ভৈরব বাজার ও টঙ্গী ঘুরে ঢাকা পর্যন্ত রেলপথের দূরত্ব ৩২০ কিলোমিটার। নতুন কর্ড লাইন নির্মিত হলে এই দূরত্ব ৮০ কিলোমিটার কমে আসবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে লাকসাম হয়ে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা। এছাড়া পণ্য পরিবহনে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত দক্ষতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। শীতলক্ষ্যা নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদী পারাপারের জন্য রেলপথের বড় একটি অংশ উড়ালপথে নির্মাণের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে এবং এতে কোনো লেভেল ক্রসিং থাকবে না। বর্তমানে বিদ্যমান রেলপথটি আখাউড়া, ভৈরব বাজার, টঙ্গী হয়ে ঢাকা যাওয়ায় রেলপথের দূরত্ব দাঁড়িয়েছে ৩২০ কিলোমিটার।
বিগত সরকার ঢাকা-লাকসাম-চট্টগ্রাম রেলপথের উন্নয়নে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করলেও কাঙ্ক্ষিত গতি বাড়েনি, বরং ট্রেনের গতি কমেছে। নতুন এই কর্ড লাইনটি উচ্চ গতির ট্রেন চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রকল্পটিকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে দেখছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। লেভেল ক্রসিং না থাকায় কর্ড লাইনে ট্রেনগুলো বাধা ছাড়াই চলাচল করতে পারবে যা উচ্চ গতির ট্রেন পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে।
কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী জানান, তার দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল হিসেবে এই নতুন রেলপথের অনুমোদন পাওয়া গেছে। এটি চালু হলে কুমিল্লার মানুষ ঢাকায় গিয়ে অফিস করার সুযোগ পাবেন। সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম বলেন, এটি বৃহত্তর লাকসামবাসীর প্রাণের দাবি। লাকসাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বাদল মনে করেন, এই রেলপথের ফলে লাকসাম, নোয়াখালী ও চাঁদপুরের মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসন ও শিল্প মন্ত্রণালয় বিষয়ক সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আবুল কালাম এমপি বলেন, কুমিল্লা-ঢাকা নতুন রেলপথ কর্ড লাইন স্থাপন কুমিল্লাবাসী তথা বৃহত্তর লাকসামবাসীর প্রাণের দাবি।














