শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

দেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
দেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনা

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সম্প্রতি একের পর এক টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে। দিনদুপুরে প্রকাশ্যে কিংবা রাতের অন্ধকারে সুপরিকল্পিতভাবে সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে হত্যার ঘটনা ঘটছে। গত ১০ দিনে সারাদেশে অন্তত সাতজনকে গুলি করে ও কুপিয়ে প্রাণনাশের ঘটনা ঘটেছে, যা দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। সাংবাদিক থেকে রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ কেউ রেহাই পাচ্ছেন না। দিনের আলো ফোটার আগেই এমন হত্যাকাণ্ড নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এরপর তারা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ ঘটনায় তাফসির আলম শাওন (২২) নামের আরেক যুবদলকর্মী গুরুতর আহত হন। আত্মরক্ষার চেষ্টা করেও তারা হামলাকারীদের হাত থেকে রেহাই পাননি। গুলি ছোড়ার পর তারা খালের পানিতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌযান ও গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান কাতার-ফ্রান্সের

সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার ভোরে খুলনা নগরের পূর্ব-বানিয়াখামার এলাকায়, যেখানে তাওহিদুল ইসলাম (৩২) নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার দিন ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে সদর থানার ওই এলাকার আনসার আলী গলির সামনে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এর একদিন আগে বুধবার রাতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জহির ফকিরকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের ভাগিনা ইসমাইল হোসেন জানান, স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে বিরোধ এবং আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তার নাম আলোচনায় থাকাতেই এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। একই দিনে বুধবার ভোরে মাগুরা পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাকের হোসেনকেও গুলি করে হত্যা করা হয়। মাগুরা বাস টার্মিনালের একটি কাউন্টার থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে জহির ফকির নিজের ফার্মেসি বন্ধ করে বাসায় ফেরার পথে ১৫/২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ গ্রুপ তার পথ আটকে দেন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

টার্গেট কিলিংয়ের তালিকায় আরও রয়েছে ১৫ই অক্টোবর নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলায় বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার প্রতিনিধি সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের হত্যাকাণ্ড। রাতে তেলনজিয়া গ্রামের এক দোকানের সামনে দুই যুবক তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এছাড়া, ১৬ই অক্টোবর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আধিপত্য বিস্তার ও ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধে তারেক হোসেন বাপ্পি নামের এক যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সাদ্দামের কার্যালয়ের সামনে অস্ত্রধারীরা তাকে ঘিরে ধরে নৃশংস হামলা চালায় এবং গুলি করে পালিয়ে যায়। সীতাকুণ্ডে যুবদলকর্মীকে গুলি করে হত্যা: গত ১৬ই অক্টোবর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বালু ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তারেক হোসেন বাপ্পি (২৬) নামের এক যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। রাত সোয়া আটটার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের তেলনজিয়া গ্রামের একটি দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন তিনি। ঘটনার সময় তিনি তেলনজিয়া বাজারে শ্বশুরবাড়ির কাছে একটি দোকানে চা পান করে বের হচ্ছিলেন।

আরও পড়ুন: ওসিকে রুমিন ফারহানা: আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন

এছাড়া ১২ই অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের বউবাজার এলাকায় দিনে-দুপুরে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাহেব আলী (৪৫)-কে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি পাশের খালে পড়ে গেলে হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে আরও গুলি চালায়। সাহেব আলীর বিরুদ্ধে হত্যা ও ডাকাতিসহ অন্তত ২০টি মামলা ছিল। ১৬ই অক্টোবর রাজবাড়ীতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ১৪ মামলার আসামি পিয়ারুল ইসলামকে মসজিদে নামাজ পড়ে ফেরার পথে গুলি করে হত্যা করা হয়। হেলমেট ও মাস্ক পরা হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে এসে এই হামলা চালায়; নিহত পিয়ারুলের বিরুদ্ধে হত্যা ও ডাকাতিসহ অন্তত ১৫টি মামলা ছিল। পরবর্তীতে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। ১৬ই অক্টোবর রাত পৌনে ৮টার দিকে রাজবাড়ীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে ১৪ মামলার আসামি পিয়ারুল ইসলাম (৩০) নামে ব্যক্তি নিহত হন। গুলির শব্দে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা কিছুটা দূরে রাখা মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। পিয়ারুল বাড়ি থেকে বের হয়ে সজ্জনকান্দা পূর্বপাড়া জামে মসজিদে এশার নামাজ পড়তে যান।

এ বিষয়ে অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির স্পষ্ট ইঙ্গিত। তিনি বলেন, বস্তুনিষ্ঠ নির্দেশকের চেয়ে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দেওয়ার ফলে অপরাধীরা পার পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে এবং অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। হত্যাকাণ্ড ও সংঘাতের ঘটনাগুলোকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা না করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি বলে তিনি মত দেন।

তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) কামারুম মুনিরা জানান, বিগত বছরের তুলনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। অপরাধীদের হাতে অস্ত্র কীভাবে পৌঁছাচ্ছে, তা খুঁজে বের করতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

তুরস্কের সঙ্গে সংঘাতের ইঙ্গিত দিলেন নেতানিয়াহু

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ পিএম
তুরস্কের সঙ্গে সংঘাতের ইঙ্গিত দিলেন নেতানিয়াহু

তুরস্কের সঙ্গে সংঘাতের

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে তিনি তুরস্কের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার কথাও ব্যক্ত করেছেন। ইসরাইলের চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন তিনি। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের প্রেক্ষাপট তৈরি করতে পারে।

সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুর বক্তব্য

  • নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইসরাইল তুরস্কের সঙ্গে কোনো সংঘর্ষে জড়াতে চায় না।
  • তবে ইসরাইলের নিরাপত্তানীতি অনুযায়ী সম্ভাব্য হুমকি ঠেকাতে আগাম আঘাত হানার সুযোগ রয়েছে, যা তুরস্কের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে।
  • ইসরাইলের কৌশলগত পরিকল্পনা সম্পর্কে সরাসরি উত্তর না দিলেও তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তার দেশ কোনোভাবেই নতি স্বীকার করবে না।
  • যেকোনো ধরনের সংঘাত মোকাবিলায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের সতর্কবার্তা দিল কাতার

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের সতর্কবার্তা দিল কাতার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের সতর্কবার্তা দিল কাতার

মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক মধ্যস্থতা ও পরোক্ষ আলোচনা চলমান রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কাতার। মঙ্গলবার দোহায় অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরাম’-এ এমন তথ্য জানান কাতারের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. মাজেদ বিন মোহাম্মদ আল-আনসারি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পর্যায়ভিত্তিক আলাপ-আলোচনা থমকে যায়নি।

আরও পড়ুন: তুরস্কের সঙ্গে সংঘাতের ইঙ্গিত দিলেন নেতানিয়াহু

আলোচনার গোপনীয়তা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে আল-আনসারি বলেন, মিডিয়ায় এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না পাওয়াই প্রমাণ করে যে মধ্যস্থতাকারীরা তাদের দায়িত্ব নিভৃতে পালন করে যাচ্ছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি এক ভয়াবহ পরিণতির ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়লে পুরো অঞ্চল এক ধ্বংসাত্মক বৈশ্বিক যুদ্ধের সম্মুখীন হবে, যা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয় বরং আন্তর্জাতিক শান্তিকেও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে।

আরও পড়ুন: সাইবার আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার গভীর উদ্বেগ

আঞ্চলিক অস্থিরতা নিরসনের ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, অতীতের যুদ্ধবিরতিগুলো স্থায়ী সমাধান দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। যেকোনো যুদ্ধবিরতিকে তিনি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির একটি প্রবেশদ্বার হিসেবে অভিহিত করেছেন। এ সময় তিনি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য এই আঞ্চলিক অস্থিরতাকে ব্যবহারের কড়া সমালোচনা করেন।

সৌদি আরবের নিরাপত্তা ইস্যুতে কাতার তার পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। আল-আনসারি জানান, নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র সৌদি আরব যেকোনো পদক্ষেপ নিলে তার পাশে রয়েছে কাতার। বিশেষ করে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার বিপরীতে রিয়াদের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে আঞ্চলিক সংকটগুলো সমন্বিতভাবে সমাধান করা প্রয়োজন।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

সাইবার আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার গভীর উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ পিএম
সাইবার আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার গভীর উদ্বেগ

বাংলাদেশের প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইনের সংশোধনী ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের নতুন কাঠামো নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘লা ফুনেত্র দ্য পারিস’ তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ২০২৬ সালের খসড়া সাইবার আইনের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি বলছে, এতে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। প্যারিসভিত্তিক এই সংগঠনটি জানায়, আইনে থাকা অস্পষ্ট ধারা, বিনা পরোয়ানায় তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা এবং বিচারিক তদারকি ছাড়া কনটেন্ট বন্ধ করার বিধান মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করবে। এছাড়া ‘গুজব’ ও ‘ভুল তথ্য’র মতো অস্পষ্ট বিষয়গুলোকে অপরাধের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করায় উদ্বেগের মাত্রা আরও বেড়েছে। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ২০২৬ সালের খসড়া সাইবার আইনের বিভিন্ন ধারা নিয়ে সামপ্রতিক বিশ্লেষণে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য উদ্বেগজনক বিষয় উঠে এসেছে। প্রস্তাবিত কাঠামোয় জামিন অযোগ্য অপরাধের কঠোর বিধান বহাল রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের সতর্কবার্তা দিল কাতার

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আগাম বিচারিক অনুমোদন ছাড়া কর্তৃপক্ষের এমন ব্যাপক ক্ষমতা সাইবার জগতে অনিয়ন্ত্রিত নজরদারি ও নিপীড়নের সুযোগ তৈরি করবে। এর ফলে সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট ও মানবাধিকারকর্মীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন এবং গণমাধ্যমগুলো স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে। রাজনৈতিক সমালোচনা বা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার এই প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী বলে মনে করছে সংস্থাটি। কোনো বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে তা অবশ্যই স্পষ্ট আইনের ভিত্তিতে, বৈধ উদ্দেশ্যে এবং প্রয়োজনীয় অনুপাতে হতে হবে বলে তারা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট ও মানবাধিকারকর্মীদের নিরাপত্তাও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর যেকোনো বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে তিনটি শর্ত পূরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছে এই সংস্থা।

আরও পড়ুন: আফগানিস্তানের কাছে বড় হারে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় বাংলাদেশের

মানবাধিকার সংস্থাটি সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র ও নাগরিক-রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে বলেছে, তথ্য ও ধারণা আদান-প্রদান করা মানুষের স্বীকৃত অধিকার। আইনকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে তারা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে, সাইবার অপরাধের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক মতপ্রকাশের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেকোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিচারিক অনুমোদনের প্রক্রিয়া পুনর্বহাল করতে হবে। এছাড়া, বাংলাদেশের সম্পাদক পরিষদ ও সুশীল সমাজের উদ্বেগের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে সংস্থাটি অবিলম্বে আইনি কাঠামোয় প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার তাগিদ দিয়েছে। প্রস্তাবিত আইনটি যেন নিপীড়নের হাতিয়ার না হয়ে ওঠে, সে বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com