হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌযান ও গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান কাতার-ফ্রান্সের

হরমুজ প্রণালিতে কোনো বাধা ছাড়াই জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং গাজায় দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছে কাতার ও ফ্রান্স। দোহায় কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মধ্যে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকের পর বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে দেশ দুটি এই অবস্থান তুলে ধরে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌ চলাচলের স্বার্থে হরমুজ প্রণালির পথ যেকোনো ফি বা প্রতিবন্ধকতা মুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা গুরুত্বসহকারে উল্লেখ করেছেন দুই নেতা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌ চলাচলের স্বার্থে এ পথ উন্মুক্ত রাখা জরুরি বলেও তাঁদের অবস্থানে প্রতিফলিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: আফগানিস্তানের কাছে বড় হারে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় বাংলাদেশের
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরানের সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কাতার ও ফ্রান্স বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। এর আগে গত মঙ্গলবার কাতারের মধ্যস্থতাকারী ইব্রাহিম বিন সুলতান আল-হাশমি জানিয়েছিলেন, আঞ্চলিক অস্থিরতা নিরসনে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও এ বিষয়ে মন্তব্য করে জানান, তেহরান কূটনীতির মাধ্যমে সংকটের সমাধানের পথ খুঁজতে প্রস্তুত। এর আগে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) কাতারের মধ্যস্থতাকারী ইব্রাহিম বিন সুলতান আল-হাশমি জানিয়েছিলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে।
আরও পড়ুন: দেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনা
গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতিতে গাজা উপত্যকা থেকে অবিলম্বে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং কোনো শর্ত ছাড়াই মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ প্রায় ১৪ লাখ মানুষ ভয়াবহ খাদ্যসংকটের সম্মুখীন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত মানবিক ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে কাতার ও ফ্রান্স।
পশ্চিম তীর দখল বা ইসরায়েলি ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টারও কড়া বিরোধিতা করেছে কাতার ও ফ্রান্স। সেই সঙ্গে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে দেশ দুটি। আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন, আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ এবং মানবিক পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে উভয় দেশ।


















