গাজায় চালানো সামরিক অভিযান, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, লাখো ফিলিস্তিনির বাস্তুচ্যুতি এবং নিজস্ব দুর্নীতির অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি থাকা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য আজ মঙ্গলবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনে আজ ভোটগ্রহণ হচ্ছে, যা দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা দেশটির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত না করলেও তারা পছন্দের রাজনৈতিক দলগুলোকে ভোট দিচ্ছেন, যার ভিত্তিতে পরে সরকার গঠিত হবে।
আরও পড়ুন: পাঠ্য বইয়ের বিতর্কে এনসিটিবি’র ৯ কর্মকর্তা বদলি
নির্বাচনে প্রায় ৭৩ লাখ নিবন্ধিত ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। আইন অনুযায়ী, পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে যেকোনো দলকে ১২০ আসনের মধ্যে অন্তত ৬১টি আসন পেতে হবে। নেসেটে প্রবেশের জন্য প্রতিটি দলকে কমপক্ষে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জরিপ অনুযায়ী, কোনো জোটেরই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ, যা পরবর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৬১ আসন। প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন হয়। এ হিসাবে নেতানিয়াহুর শিবিরের ৫৩ এবং বিরোধী শিবিরের ৫২টি করে আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রথম প্রান্তিকে নতুন ছাড়ে প্রাপ্ত সহায়তার দ্বিগুণ অর্থ পরিশোধ
নেতানিয়াহু তাঁর দল লিকুদসহ ডানপন্থী ও ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী জোট নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। তাঁর সরকারের বর্তমান গুরুত্বপূর্ণ শরিকদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের দল জিউইশ পাওয়ার এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচের রিলিজিয়াম জায়োনিজম। এছাড়া অতি রক্ষণশীল ইহুদি দল শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমও তাঁর সম্ভাব্য মিত্র হিসেবে পাশে রয়েছে। অপরদিকে বিরোধী শিবিরে ইয়াশার, টুগেদার, ইসরায়েল বেইতেনু ও ডেমোক্র্যাটস দলগুলো রয়েছে। বিরোধী জোটে নির্দিষ্ট করে প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা না হলেও সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার নেতা গাদি আইজেনকট, নাফতালি বেনেট এবং ইয়ার লাপিদকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ সরকারপ্রধান হওয়ার দাবিদার। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের গত শুক্রবারের এক জরিপের তথ্যমতে, লিকুদ ও ইয়াশার ২২টি করে, টুগেদার ১৪টি এবং ডেমোক্র্যাটস ও জয়েন্ট লিস্ট ৯টি করে আসন পেতে পারে।
নির্বাচনী জরিপে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর শিবির ৫৩টি এবং বিরোধী শিবির ৫২টি আসন পেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরব দলগুলোর সমর্থন সরকার গঠনে নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে। তবে আইজেনকটসহ অনেক বিরোধী নেতা আরব দলগুলোর সঙ্গে কোনো ধরণের জোট না করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। কোনো সমঝোতা না হলে দেশটিতে পুনরায় নির্বাচনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাবেন। এ শিবির জিতলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে ইসরায়েলের নেতৃত্ব বদলালেই ফিলিস্তিনিদের জীবনে স্বস্তি ফিরবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। প্রতিটি দল নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের একটি তালিকা প্রকাশ করে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে হামলার ঘটনার পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। ওই হামলার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ব্যর্থতার দায় ও স্বাধীন তদন্তের দাবি এবারের ভোটের অন্যতম প্রধান ইস্যু। নেতানিয়াহু এসব অভিযোগ অস্বীকার করলেও বিরোধীরা তাঁর কাছ থেকে কঠোর জবাবদিহি চাইছেন। একই সঙ্গে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি প্রদান ও রাষ্ট্র-ধর্মের সম্পর্ক নিয়েও ভোটারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। গাজার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা মোহাম্মদ ইলিয়ানের মতো অনেকেই মনে করছেন, নেতানিয়াহু হারলেও ইসরায়েলের সামগ্রিক নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই, তবুও অনেকেই তাঁর পরাজয় কামনা করছেন। এখন পর্যন্ত ছয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নেতানিয়াহু পুনরায় বিজয়ী হলে এটি হবে তাঁর সপ্তম মেয়াদ।
External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.