বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর: ট্রাম্পের প্রশাসনিক ক্ষমতার বড় পরীক্ষা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫০ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর: ট্রাম্পের প্রশাসনিক ক্ষমতার বড় পরীক্ষা

আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদকালের বাকি সময়ে তার প্রশাসনের কতটুকু প্রশাসনিক ক্ষমতা ও আইনগত নিয়ন্ত্রণ থাকবে, তা মূলত নির্ভর করছে এই ভোটের ফলাফলের ওপর। দেশের প্রায় ২১ কোটি তালিকাভুক্ত ভোটার সিদ্ধান্ত নেবেন আইনসভার দুই কক্ষ—সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—কাহাদের অধীনে পরিচালিত হবে। ট্রাম্পের নাম সরাসরি ব্যালট পেপারে না থাকলেও এটি তার রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর এক ধরনের বড় জনমত জরিপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি শপথ নেবেন।

কংগ্রেসের দ্বিকক্ষ ও নির্বাচনী বিন্যাস

যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় আইন পাস ও অর্থ বরাদ্দের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত। কংগ্রেস দুটি কক্ষে বিভক্ত—উচ্চকক্ষ সিনেট এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ। এবারের নির্বাচনে নিম্নকক্ষের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে এবং ১০০ আসনবিশিষ্ট সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ৩৬টি মার্কিন অঙ্গরাজ্যে নতুন গভর্নর নির্বাচনের ভোটও একই দিনে সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। প্রজনন অধিকার, অভিবাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের বর্তমান অবস্থাও নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

প্রতিনিধি পরিষদের প্রতিটি আসন একেকটি সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার প্রতিনিধিত্ব করে। সদস্যদের মেয়াদকাল দুই বছর হওয়ায় প্রতি দুই বছর পরপর পুরো প্রতিনিধি পরিষদ পুনর্গঠিত হয়। প্রতি ১০ বছর অন্তর পরিচালিত জাতীয় আদমশুমারি থেকে প্রাপ্ত জনসংখ্যার অনুপাতে রাজ্যগুলোর আসন সংখ্যা বণ্টন করা হয়। যেমন—সর্বাধিক জনবহুল ক্যালিফোর্নিয়ায় রয়েছে ৫২টি প্রতিনিধি পরিষদ আসন, বিপরীতে কম জনসংখ্যার ওয়াইওমিং বা ভারমন্টের মতো রাজ্যে আসন সংখ্যা মাত্র একটি। প্রতিনিধি পরিষদে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে কোনো রাজনৈতিক দলকে কমপক্ষে ২১৮টি আসনে বিজয়ী হতে হয়। প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ সদস্যের প্রত্যেকে একটি করে নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন। যেসব নির্বাচনী এলাকায় দুই দলেরই জয়ের বাস্তব সুযোগ রয়েছে, সেগুলোকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন বলা হয়।

আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে লরিচাপায় পাঁচ যাত্রী নিহত, আহত চার

সিনেটের হিসাব-নিকাশ ও বিশেষ ভোট

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট গঠিত হয় দেশের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের প্রতিটির দুজন করে মোট ১০০ জন প্রতিনিধি নিয়ে। রাজ্য ছোট বা বড় যাই হোক, সিনেটে সবার প্রতিনিধিত্ব সমান। এবারের নিয়মিত ৩৩টি আসনের পাশাপাশি ফ্লোরিডা ও ওহাইও রাজ্যে দুটি বিশেষ আসনের উপনির্বাচন মিলিয়ে মোট ৩৫টি সিনেট আসনে লড়াই চলছে। এই ৩৫টি আসনের মধ্যে বর্তমানে ২২টি আসন রিপাবলিকান এবং ১৩টি আসন ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর ১০০ সদস্যের প্রত্যেক অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে নির্বাচিত হন। অঙ্গরাজ্যের জনসংখ্যা এখানে আসনসংখ্যা নির্ধারণে কোনো ভূমিকা রাখে না। সিনেটে বর্তমানে রিপাবলিকানদের সদস্য ৫৩ জন। ফলে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে থাকা জোটের মোট সদস্য ৪৭ জন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের বিকল্প পথ খুঁজতে গিয়ে টেক্সাস ও কানসাসের আসনগুলো নিয়েও ডেমোক্র্যাটদের আগ্রহ বেড়েছে। জ্বালানির দাম, আবাসন ব্যয় এবং স্বাস্থ্যসেবার খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাপে রয়েছে পরিবারগুলোর বাজেট। এর পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ও তথ্যকেন্দ্রের দ্রুত সম্প্রসারণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।

কংগ্রেসের উচ্চকক্ষে আধিপত্য বজায় রাখতে ডেমোক্র্যাটদের নতুন করে অন্তত চারটি আসন ছিনিয়ে এনে মোট ৫১টি আসনে পৌঁছাতে হবে।

অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা যদি ৫০টি আসন ধরে রাখতে পারে, তবে টাই হওয়ার পরিস্থিতিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নির্ণায়ক ভোটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ রক্ষা করতে পারবে। সিনেটে যেকোনো সাধারণ বিল নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা বা বিতর্ক বন্ধ করে ভোটাভুটিতে যাওয়ার জন্য অন্তত ৬০টি ভোটের সমর্থনের প্রয়োজন পড়ে। এছাড়া কেন্দ্রীয় আদালতের বিচারকেরা আজীবন মেয়াদে নিয়োগ পান, যার অনুমোদনও সিনেটের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। তার অনুমান, ডেমোক্র্যাটরা প্রায় ১৫টি আসন বাড়াতে পারে।

আরও পড়ুন: ইসরাইল ও মার্কিন নির্বাচন: বিশ্ব রাজনীতির নতুন মোড়

ঐতিহাসিক ধারা ও ক্ষমতার ভারসাম্য

মার্কিন নির্বাচনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাধারণত হোয়াইট হাউসের দায়িত্বে থাকা রাজনৈতিক দলটি আইনসভায় আসন হারায়। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যায়ের রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক টড বেল্ট জানান, ১৯৪৬ সালের পর থেকে অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনগুলোতে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদে গড়ে প্রায় ২৬.৫টি আসন হারিয়েছে।

অধ্যাপক বেল্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাট দল যদি কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিতে পারে, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেশীয় নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন থমকে যাবে। আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধী পক্ষ অন্তত একটি কক্ষের কর্তৃত্ব পেলে জরুরি নয় এমন সব সরকারি ব্যয় সংক্রান্ত বিল আটকে দেবে, ফলে হোয়াইট হাউসের প্রশাসনিক ও আর্থিক পদক্ষেপে স্থবিরতা দেখা দেবে।

ভোটারদের পরিসংখ্যান ও উদ্বেগের বিষয়াবলী

নির্দলীয় তথ্য প্রদানকারী সংস্থার হিসেবমতে, এবারের নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে প্রস্তুত রয়েছেন ২১ কোটি মার্কিন নাগরিক। ভোটারদের সংখ্যার দিক থেকে ক্যালিফোর্নিয়া শীর্ষে অবস্থান করছে, যেখানে মোট ভোটার ২ কোটি ৩২ লাখ। এরপর টেক্সাসে ১ কোটি ৭৪ লাখ এবং ফ্লোরিডায় ১ কোটি ৪৪ লাখ নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন। অন্যদিকে ওয়াইওমিংয়ে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭৮ হাজার ৪৬৮, ভারমন্টে ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৪৫৫ এবং আলাস্কায় ৬ লাখ ৩ হাজার ৩১০ জন। একজন স্বতন্ত্র সদস্য রিপাবলিকানদের সঙ্গে রয়েছেন। সরকারি তথ্য সংকলনকারী নির্দলীয় সংস্থা ইউএসএফ্যাক্টসের হিসাবে, দেশটির ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি বাসিন্দাদের প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত। নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যায় এগিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া। এরপর টেক্সাসে ১ কোটি ৭৪ লাখ এবং ফ্লোরিডায় ১ কোটি ৩৬ লাখ নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চালানো এক জরিপে দেখা গেছে, নিজেদের নির্বাচনী এলাকার ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে সমর্থন করছেন ৪৪ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার। অন্য প্রার্থীকে সমর্থন করছেন ৫ শতাংশ এবং ১৫ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নেননি।

  • মূল নির্বাচনী ইস্যু: সাধারণ নাগরিকদের প্রধান উদ্বেগের জায়গায় রয়েছে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়। জ্বালানি তেলের দাম, ফ্ল্যাট বা বাড়ি ভাড়া এবং চিকিৎসাসেবার অতিরিক্ত খরচ সাধারণ ভোটারদের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলছে।
  • বৈশ্বিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাব: মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত এবং দেশে এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ও ডেটা সেন্টারের বিস্তার নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে।
  • লিঙ্গ ও রাজনৈতিক ব্যবধান: পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ অনুযায়ী, পুরুষ ভোটারদের মধ্যে দুই দলের সমর্থন সমান ৪২ শতাংশ হলেও নারী ভোটারদের অধিকাংশ ডেমোক্র্যাটদের সমর্থক।

গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী লড়াই ও স্থানীয় ভোট

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক নাদিয়া ব্রাউন মনে করেন, গণমাধ্যমে জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যু প্রাধান্য পেলেও মার্কিন জনগণ দৈনন্দিন জীবনে সবচেয়ে বেশি স্থানীয় কাঠামোর প্রভাব অনুভব করেন। ব্যালটে থাকা আঞ্চলিক ও স্থানীয় নানা প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দেওয়া তাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় সরাসরি পরিবর্তন আনে।

এবারের নির্বাচনে বেশ কয়েকটি রাজ্যে মূল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই পরিলক্ষিত হচ্ছে। জর্জিয়ার সিনেট আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জন অসফের বিরুদ্ধে লড়ছেন রিপাবলিকান মাইক কলিন্স। ৩ নভেম্বরের প্রধান ভোটে কোনো প্রার্থী যদি এককভাবে ৫০ শতাংশের বেশি সমর্থন পেতে ব্যর্থ হন, তবে রাজ্যটির নিয়ম অনুযায়ী আগামী ১ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় বা রান-অফ ভোটগ্রহণ আয়োজন করা হবে। এছাড়াও মেইন রাজ্যে প্রবীণ রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স, ওহাইও, আলাস্কা, আইওয়া এবং টেক্সাসে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মিশিগানে শূন্য আসনের জন্য ডেমোক্র্যাট আবদুল আল-সাইয়েদ ও রিপাবলিকান মাইক রজার্স প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মেইনে সিনেটর সুসান কলিন্সের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট ট্রয় জ্যাকসন। প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী গ্রাহাম প্ল্যাটনার জুলাইয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার পর জ্যাকসন এই লড়াইয়ে এসেছেন।

নির্বাচনী ফলাফল ও চূড়ান্ত প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে স্থানীয় সময় ৩ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা (গ্রিনিচ মান সময় রাত ১১টা) থেকে ভোটকেন্দ্র বন্ধ হতে শুরু করবে এবং সাথে সাথেই কেন্দ্রভিত্তিক ফল গণনা শুরু হবে। সম্পূর্ণ চূড়ান্ত ফলাফলের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে যে, ওয়াশিংটনে ট্রাম্প প্রশাসনের মেয়াদের শেষ দুই বছরে আইন তৈরি, সরকারের অর্থ ব্যয় অনুমোদন এবং হোয়াইট হাউসের ওপর নজরদারির চাবিকাঠি কোন দলের হাতে যাচ্ছে।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

টানা তৃতীয়বার বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলার হলেন লামিন ইয়ামাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫১ এম
টানা তৃতীয়বার বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলার হলেন লামিন ইয়ামাল

মৌসুমজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে আবারও বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলারের স্বীকৃতি পেলেন বার্সেলোনার স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল। লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে আয়োজিত জমকালো এক অনুষ্ঠানে তার হাতে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারটি তুলে দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে প্রবর্তিত এই কোপা ট্রফিটি এখন পর্যন্ত ইয়ামাল ছাড়া অন্য কেউ একাধিকবার জেতার কৃতিত্ব দেখাতে পারেননি। ২০১৮ সাল থেকে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘কোপা ট্রফি’।

বয়স মাত্র ১৯ হলেও ইয়ামাল গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন ৫৭টি ম্যাচে। এই ম্যাচগুলোতে তিনি ২৫টি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ২০টি গোল। বার্সেলোনার লা লিগা, কোপা দেল রে এবং স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ে বড় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি স্পেনের হয়েও তিনি ছিলেন অসাধারণ। এমনকি ব্যালন ডি’অর বর্ষসেরা ফুটবলারের লড়াইয়েও জায়গা করে নিয়েছেন এই তরুণ তুর্কি। গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৫৭ ম্যাচে ২৫টি গোল ও ২০টি অ্যাসিস্ট করেন ১৯ বছর বয়সি ইয়ামাল।

আরও পড়ুন: নির্বাচনে জিততে ইরানের হামলার ভয় দেখাচ্ছেন নেতানিয়াহু

পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ইয়ামাল বলেন, এখানে উপস্থিত হয়ে এই ট্রফি গ্রহণ করা অত্যন্ত সম্মানের। তৃতীয়বারের মতো এটি জিততে পেরে তিনি নিজের ক্লাব এবং জাতীয় দলকে ধন্যবাদ জানান। তবে বিনয়ী ইয়ামাল মনে করেন, এই পুরস্কারটি তার সতীর্থ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির পাওয়া উচিত ছিল। তার মতে, কুবার্সি দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত খেলছেন, তাই এই ট্রফিটির দাবিদার তিনিই। তিনি বলেন ‘আমার সতীর্থ কুবার্সি এটা জিতলে আমার ভালো লাগত। সেই পুরস্কার তিনি পাবেন কিনা- তা সময়ই বলে দেবে। সে বেশ অনেক দিন ধরে দারুণ একটি স্তরে খেলছে।’।

উল্লেখ্য, একই অনুষ্ঠানে নারী বিভাগে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বর্ষসেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন বার্সেলোনার ভিকি লোপেস। গত মৌসুমে মাঠের পারফরম্যান্সের বিচারে বিচারকদের প্যানেল এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

নির্বাচনে জিততে ইরানের হামলার ভয় দেখাচ্ছেন নেতানিয়াহু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫১ এম
নির্বাচনে জিততে ইরানের হামলার ভয় দেখাচ্ছেন নেতানিয়াহু

ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনে জনমত জরিপে পিছিয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ইরানের আক্রমণের ভীতি ছড়িয়ে ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আগামী মঙ্গলবারের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আগে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তেল আবিবে পারমাণবিক বিস্ফোরণের একটি ভীতিকর ছবি প্রকাশ করেছেন। ভোটারদের সতর্ক করে তিনি বলেছেন, নির্বাচনে তাকে ভোট না দিলে দেশ ভয়াবহ পারমাণবিক ঝুঁকির মুখে পড়বে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, যারা নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত, তাদের বর্তমান বিরোধী দলকে ভোট দেওয়ার আগে পুনরায় ভাবা উচিত। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যারা নিজেদের অস্তিত্ব, পরিবার ও প্রিয়জনদের নিয়ে চিন্তা করেন, বিরোধীদের ভোট দেওয়ার আগে তাদের হাত কাঁপা উচিত।’।

আরও পড়ুন: টানা তৃতীয়বার বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলার হলেন লামিন ইয়ামাল

নেতানিয়াহুর এই কর্মকাণ্ড নিয়ে ইসরাইলি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামিরের সঙ্গে তার বিরোধের তথ্য সামনে এসেছে। চ্যানেল ১২-এর খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেনাবাহিনীর ওপর চাপ প্রয়োগ করে এমন কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন নেতানিয়াহু, যা সংবেদনশীল এই সময়ে ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। যদিও সেনাপ্রধান জামির লিখিত নির্দেশনা চেয়েছিলেন, কিন্তু নেতানিয়াহু ও তার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা থাকার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছে। ওই নির্দেশনার কারণে সংবেদনশীল সময়ে ইরানের ভুল হিসাব-নিকাশ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্দেশনার বিস্তারিত উল্লেখ না করে জামির সেটি লিখিতভাবে তার কাছে উপস্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: পাঠ্য বইয়ের বিতর্কে এনসিটিবি’র ৯ কর্মকর্তা বদলি

এদিকে সিএনএন ও ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযানে রাজি করানোর চেষ্টা চালিয়েছেন নেতানিয়াহু। তবে ট্রাম্প মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের পদক্ষেপে অনীহা প্রকাশ করেছেন। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের বিবৃতিতে এই প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত বা অস্বীকার না করে কেবল জানিয়েছে, সব সিদ্ধান্ত জাতীয় নিরাপত্তা ও পেশাগত বিবেচনার ভিত্তিতে নেওয়া হয়। এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসেও একই ধরনের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তারা শুধু বলেছে, বাহিনীর সিদ্ধান্তগুলো একান্তভাবে নিরাপত্তা, পেশাগত, বস্তুনিষ্ঠ ও জাতীয় বিবেচনার ভিত্তিতে নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য যে, গত মার্চ মাসে নেতানিয়াহু নিজেই দাবি করেছিলেন যে, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্মিলিত হামলায় ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে। সে সময় তিনি সেই সাফল্যকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকবে এমন ঐতিহাসিক বিজয় বলে অভিহিত করেছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তার সেই বক্তব্যের স্পষ্ট অমিল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৫ সালে ইরানের বিরুদ্ধে অর্জিত সাফল্যকে তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে থাকবে এমন ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবেও বর্ণনা করেছিলেন।

নেতানিয়াহুর এই কৌশলের কঠোর সমালোচনা করেছেন তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট। বিরোধী জোটের এই নেতা সেনাপ্রধানের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে বলেন, ক্ষমতার লড়াইয়ে টিকে থাকার জন্য নেতানিয়াহু কোনোভাবেই ইসরাইলি সামরিক বাহিনীকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন না।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

পাঠ্য বইয়ের বিতর্কে এনসিটিবি’র ৯ কর্মকর্তা বদলি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫১ এম
পাঠ্য বইয়ের বিতর্কে এনসিটিবি’র ৯ কর্মকর্তা বদলি

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে হাতে সময় বাকি আর মাত্র দুই মাস। এর মধ্যেই পাঠ্য বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। রাজনৈতিক প্রতীক ব্যবহারের বিতর্ক ওঠার পর বই সংশোধন ও পুনর্মুদ্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে বিতরণ হওয়া প্রায় ২০ লাখ বই ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সরকারের গচ্চা যাচ্ছে প্রায় ১৭ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রতিটি বই ছাপাতে প্রায় ৫৭ টাকা খরচ হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কিন্তু এরই মধ্যে পাঠ্য বই নিয়ে বেধেছে তালগোল। সংশোধনের পর আবার বিতরণ হবে পাঠ্য বইগুলো। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বই সংশোধন ও পুনর্মুদ্রণের কারণে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। কর্মকর্তাদের কী কারণে বদলি করা হয়েছে, তা তিনি জানেন না বলে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: নির্বাচনে জিততে ইরানের হামলার ভয় দেখাচ্ছেন নেতানিয়াহু

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বইয়ের ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি নিয়ে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত এই ছবিটি একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রতীকের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় আপত্তি ওঠে। যদিও এর আগে ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়েও এই প্রতীক ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে এনসিটিবি প্রথমে প্রতীক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিলেও পরে জানায়, জ্ঞানের পিরামিডের স্তরগুলোতে কোনো আইকনই রাখা হবে না। এনিয়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি)। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে সেটির পরিবর্তে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়। এনসিটিবি’র সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান জানান, এ বছর বইয়ে চারটি স্তরের নাম থাকবে, তবে কোনো আইকন থাকবে না। পরবর্তী সময়ে বিষয়গুলো আরও পরিমার্জন করা হবে।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে আজ নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ

বইয়ের ছবি সংক্রান্ত বিতর্কের রেশ ধরে সোমবার এনসিটিবি’র ৯ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ২৯শে অক্টোবরের মধ্যে তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর আগে রোববার আইসিটি বই সম্পাদনার দায়িত্বে থাকা গবেষণা কর্মকর্তা মু. আব্দুল্লাহ আল জোবায়েরকেও বদলি করা হয়। আগের দিন বদলি করা হয়েছিল আরেক কর্মকর্তাকে। তারা সবাই বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবমুক্ত না হলে ওইদিন অপরাহ্নে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।

শুধু আইসিটি বই নয়, প্রাথমিক পর্যায়ের বাংলা, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বইয়ের ছবি নিয়েও বিতর্ক দানা বেঁধেছে। প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে মোট ৮২টি ‘নৌকা’র ছবি ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে ৩৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২৩টি এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ২৫টি ছবি রয়েছে। এসব বিতর্কিত ছবি থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় এনসিটিবি’র অভ্যন্তরেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে আগামী ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে সংশোধিত বই মাঠপর্যায়ে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে এনসিটিবি। তবে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করা বোর্ডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বদলির বিষয়ে এনসিটিবি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানান, এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং এ বিষয়ে তার কোনো সম্পৃক্ততা বা বিস্তারিত তথ্য নেই।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com