আইজিপির ক্রসফায়ার মন্তব্য নিয়ে বিব্রত সরকার

‘সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে’—পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের এমন বিতর্কিত মন্তব্যে বিব্রত সরকার। এই বক্তব্যের জেরে সরকারের দায়িত্বশীল মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইজিপির এ ধরনের মন্তব্য করা মোটেই উচিত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী জাপান সফর শেষে দেশে ফেরার পর তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানা গেছে। কিন্তু এটা তো সরকারকে বিব্রত করার মতো অবস্থা।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলি নির্বাচনে ঝুলে রইল সরকার, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল না কোনো পক্ষই
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আইজিপি একজন সহজ-সরল মানুষ। আইনের কঠোর প্রয়োগের কথা বলতে গিয়ে তিনি সম্ভবত অসতর্কতাবশত এসব বলে ফেলেছেন। তবে বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অযৌক্তিক। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘোর বিরোধী এবং ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স অবস্থানে রয়েছে। আইনের শাসন ও শৃঙ্খলা রক্ষা করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের বিচারবহির্ভূত বা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। যদি স্লিপ অব টাং করে বলেন তাহলে ভিন্ন কথা। সবার প্রত্যাশা একটি মানবিক বাংলাদেশ- সেখানে একটি বাহিনীর প্রধান হয়ে আপনার মুখ দিয়ে এ ধরনের কথা আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। তিনি বলেন, সস্তা ক্রেডিট নেয়ার জন্য কথা বললে দেশের ক্ষতি হবে এবং সরকারের ভাবমূর্তির ওপর আঘাত আসবে।
আরও পড়ুন: ব্যালন ডি’অর জয়ের পর যেভাবে ব্যবসার মোড়ল হ্যারি কেইন
অন্যদিকে, যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আইজিপির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনী সরকারের একটি অংশ। বাহিনী প্রধান হিসেবে তার কাছ থেকে এ ধরনের উসকানিমূলক কথা কাম্য নয়। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পর বর্তমান গণতান্ত্রিক প্রেক্ষাপটে কেন এমন বক্তব্য আসছে? রিজভী আরও বলেন, পুলিশে অনেক সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা রয়েছেন, তাদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে দিলে সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব। সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য এসব বক্তব্য সরকারের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। যে ১৭ বছর আমরা এই ক্রসফায়ার, গুম, গুপ্তহত্যা, রক্তঝরানো অমানবিক দুঃশাসন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পরিণতিতে ৫ই আগস্ট পেলাম।
সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, আইজিপির ক্রসফায়ার ইস্যু এবং সাংবাদিকদের নিয়ে করা অশোভন মন্তব্যের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বের সাথে দেখছেন। তিনি জানান, পুলিশ সদর দপ্তর ইতোমধ্যে একটি বিবৃতি দিয়ে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইজিপি তার আগের অবস্থান থেকে সরে এসে বক্তব্যের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেছেন। তাই এ নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর হওয়া প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে এ বিষয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এরপর নির্বাচনের মধ্যদিয়ে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলেন।

















