বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

স্থানীয় সরকারের ৬৬ খাতে ২৮ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৬ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
স্থানীয় সরকারের ৬৬ খাতে ২৮ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম

স্থানীয় সরকার খাতের উন্নয়ন প্রকল্প, অবকাঠামো নির্মাণ, সরকারি নিয়োগ, ভ্যাট-কর আদায় ও বাজার ব্যবস্থাপনার মতো ৬৬টি খাতে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে সরকারি তদন্তে। গত ১৭ বছরে এসব খাতে ২৭ হাজার ৮৫৯ কোটি টাকার অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এই প্রতিবেদনটি এখন অধিকতর নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে। গত ১৯ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে অধিকতর নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য প্রতিবেদনটি দুদকে পাঠানো হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগ সরকারের টানা সাড়ে ১৫ বছরসহ ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়েছে।

এতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও ঢাকা ওয়াসার কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অনিয়মের তালিকায় রয়েছে প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে অসংগতি, ভ্যাট-কর সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়া, মান যাচাই ছাড়া বিল পরিশোধ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার।

আরও পড়ুন: ব্যালন ডি’অর জয়ের পর যেভাবে ব্যবসার মোড়ল হ্যারি কেইন

পিইডিপির আওতায় পিইডিপি-৩ প্রকল্প ব্যবহারে প্রায় ৫৮ কোটি টাকার অনিয়ম শনাক্ত হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়া সত্ত্বেও শতাধিক ঠিকাদারের কাছ থেকে বিলম্বে কাজ শেষ করার জরিমানা আদায় করা হয়নি, বরং অনেক ক্ষেত্রে এই জরিমানার বড় অংশ মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে ৫৮ কোটি টাকার অনিয়ম এবং কুমিল্লায় মোহাম্মদ নসরুলের বিরুদ্ধে ৬০ কোটি টাকার টয়লেট নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: শ্রীমঙ্গলে মহাসড়কের পাশ থেকে উদ্ধার বিশাল অজগর

পানির গুণগতমান পরীক্ষা প্রকল্পে ২৪ কোটি টাকার বিল পরিশোধেও অনিয়ম ধরা পড়েছে।

পিরোজপুর এলজিইডির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে বলে তদন্ত কমিটি জানিয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্পের অর্থ ব্যয় ও তিনটি গাড়ি কেনা সংক্রান্ত ঘটনায় ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং গাড়ি মেরামতের টাকা চালকের হিসাবে দেওয়ার ঘটনায় ২৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া জনবল কাঠামোর বাইরে বেতন-ভাতা খাতে ৪৮ কোটি ১০ লাখ টাকার অনিয়ম হয়েছে এবং সড়ক ও কালভার্ট নির্মাণে নকশা অমান্যসহ একাধিক কালভার্ট নির্মাণ না করেই ব্যয় দেখানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের উল্লেখযোগ্য অভিযোগগুলোর একটি পিরোজপুরে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে।

বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের রাজস্ব ও ভাড়া আদায়েও বড় ধরনের অনিয়ম দেখা গেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে রোড কাটিং ফি থেকে আদায় করা অর্থের ভ্যাট জমা না দেওয়ায় দণ্ডসুদসহ ২ কোটি ৩২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। একই করপোরেশনের আরও কিছু কাজে ৯ কোটি ১৫ লাখ টাকার ভ্যাট জমার অনিয়ম রয়েছে। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর, রংপুর ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্মাণকাজে মান যাচাই না করে ৬ কোটি ৭৯ লাখ ৪৮ হাজার ২২৯ টাকার বিল পরিশোধ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রোড কাটিং ফি থেকে আদায় করা অর্থের ওপর প্রযোজ্য ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ায় দণ্ডসুদসহ ২ কোটি ৩২ লাখ টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। একই সিটি করপোরেশনের ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরের আরও কিছু কাজ ও সেবার বিপরীতে ভ্যাট কর্তন এবং জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে ৯ কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর, রংপুর ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের নির্মাণকাজে নির্মাণসামগ্রী পরীক্ষা না করেই ৬ কোটি ৭৯ লাখ ৪৮ হাজার ২২৯ টাকার বিল পরিশোধের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বাজার, মার্কেট ও বিভিন্ন স্থাপনা থেকে ভাড়া আদায়ে ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর, রংপুর, বরিশাল ও খুলনা সিটি করপোরেশনে প্রায় ১৮৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে। পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্স ফি না নিয়ে ১১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং মার্কেট ও কমিউনিটি সেন্টারের ভাড়া আদায় না করে ৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকার অনিয়ম করা হয়েছে। রংপুর সিটি করপোরেশনে প্রকল্পের অব্যবহৃত ২০ কোটি ৫ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত না দিয়ে অন্য তহবিলে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

সাবেক মেয়রদের বিরুদ্ধেও গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উঠে এসেছে। গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে, এছাড়া হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সঙ্গে মিলে ৬৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকার অনিয়মে তাঁর নাম এসেছে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকা এবং ঢাকা দক্ষিণের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের মেয়াদকালে নিয়োগ-বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে।

তদন্ত কমিটি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার অডিট রিপোর্ট এবং মহাহিসাব নিরীক্ষকের নথি পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। প্রতিবেদনে শুধু আর্থিক ক্ষতির পরিমাণই উল্লেখ করা হয়নি, বরং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে অনিয়মের অভিযোগ মানেই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়; অর্থের সঠিক পরিমাণ ও দায়ীদের নিশ্চিত করতে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত তদন্ত আবশ্যক। তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করতে পৃথক তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

টানা তৃতীয়বার বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলার হলেন লামিন ইয়ামাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫১ এম
টানা তৃতীয়বার বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলার হলেন লামিন ইয়ামাল

মৌসুমজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে আবারও বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলারের স্বীকৃতি পেলেন বার্সেলোনার স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল। লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে আয়োজিত জমকালো এক অনুষ্ঠানে তার হাতে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারটি তুলে দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে প্রবর্তিত এই কোপা ট্রফিটি এখন পর্যন্ত ইয়ামাল ছাড়া অন্য কেউ একাধিকবার জেতার কৃতিত্ব দেখাতে পারেননি। ২০১৮ সাল থেকে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘কোপা ট্রফি’।

বয়স মাত্র ১৯ হলেও ইয়ামাল গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন ৫৭টি ম্যাচে। এই ম্যাচগুলোতে তিনি ২৫টি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ২০টি গোল। বার্সেলোনার লা লিগা, কোপা দেল রে এবং স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ে বড় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি স্পেনের হয়েও তিনি ছিলেন অসাধারণ। এমনকি ব্যালন ডি’অর বর্ষসেরা ফুটবলারের লড়াইয়েও জায়গা করে নিয়েছেন এই তরুণ তুর্কি। গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৫৭ ম্যাচে ২৫টি গোল ও ২০টি অ্যাসিস্ট করেন ১৯ বছর বয়সি ইয়ামাল।

আরও পড়ুন: নির্বাচনে জিততে ইরানের হামলার ভয় দেখাচ্ছেন নেতানিয়াহু

পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ইয়ামাল বলেন, এখানে উপস্থিত হয়ে এই ট্রফি গ্রহণ করা অত্যন্ত সম্মানের। তৃতীয়বারের মতো এটি জিততে পেরে তিনি নিজের ক্লাব এবং জাতীয় দলকে ধন্যবাদ জানান। তবে বিনয়ী ইয়ামাল মনে করেন, এই পুরস্কারটি তার সতীর্থ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির পাওয়া উচিত ছিল। তার মতে, কুবার্সি দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত খেলছেন, তাই এই ট্রফিটির দাবিদার তিনিই। তিনি বলেন ‘আমার সতীর্থ কুবার্সি এটা জিতলে আমার ভালো লাগত। সেই পুরস্কার তিনি পাবেন কিনা- তা সময়ই বলে দেবে। সে বেশ অনেক দিন ধরে দারুণ একটি স্তরে খেলছে।’।

উল্লেখ্য, একই অনুষ্ঠানে নারী বিভাগে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বর্ষসেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন বার্সেলোনার ভিকি লোপেস। গত মৌসুমে মাঠের পারফরম্যান্সের বিচারে বিচারকদের প্যানেল এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

নির্বাচনে জিততে ইরানের হামলার ভয় দেখাচ্ছেন নেতানিয়াহু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫১ এম
নির্বাচনে জিততে ইরানের হামলার ভয় দেখাচ্ছেন নেতানিয়াহু

ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনে জনমত জরিপে পিছিয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ইরানের আক্রমণের ভীতি ছড়িয়ে ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আগামী মঙ্গলবারের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আগে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তেল আবিবে পারমাণবিক বিস্ফোরণের একটি ভীতিকর ছবি প্রকাশ করেছেন। ভোটারদের সতর্ক করে তিনি বলেছেন, নির্বাচনে তাকে ভোট না দিলে দেশ ভয়াবহ পারমাণবিক ঝুঁকির মুখে পড়বে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, যারা নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত, তাদের বর্তমান বিরোধী দলকে ভোট দেওয়ার আগে পুনরায় ভাবা উচিত। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যারা নিজেদের অস্তিত্ব, পরিবার ও প্রিয়জনদের নিয়ে চিন্তা করেন, বিরোধীদের ভোট দেওয়ার আগে তাদের হাত কাঁপা উচিত।’।

আরও পড়ুন: টানা তৃতীয়বার বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলার হলেন লামিন ইয়ামাল

নেতানিয়াহুর এই কর্মকাণ্ড নিয়ে ইসরাইলি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামিরের সঙ্গে তার বিরোধের তথ্য সামনে এসেছে। চ্যানেল ১২-এর খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেনাবাহিনীর ওপর চাপ প্রয়োগ করে এমন কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন নেতানিয়াহু, যা সংবেদনশীল এই সময়ে ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। যদিও সেনাপ্রধান জামির লিখিত নির্দেশনা চেয়েছিলেন, কিন্তু নেতানিয়াহু ও তার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা থাকার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছে। ওই নির্দেশনার কারণে সংবেদনশীল সময়ে ইরানের ভুল হিসাব-নিকাশ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্দেশনার বিস্তারিত উল্লেখ না করে জামির সেটি লিখিতভাবে তার কাছে উপস্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: পাঠ্য বইয়ের বিতর্কে এনসিটিবি’র ৯ কর্মকর্তা বদলি

এদিকে সিএনএন ও ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযানে রাজি করানোর চেষ্টা চালিয়েছেন নেতানিয়াহু। তবে ট্রাম্প মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের পদক্ষেপে অনীহা প্রকাশ করেছেন। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের বিবৃতিতে এই প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত বা অস্বীকার না করে কেবল জানিয়েছে, সব সিদ্ধান্ত জাতীয় নিরাপত্তা ও পেশাগত বিবেচনার ভিত্তিতে নেওয়া হয়। এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসেও একই ধরনের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তারা শুধু বলেছে, বাহিনীর সিদ্ধান্তগুলো একান্তভাবে নিরাপত্তা, পেশাগত, বস্তুনিষ্ঠ ও জাতীয় বিবেচনার ভিত্তিতে নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য যে, গত মার্চ মাসে নেতানিয়াহু নিজেই দাবি করেছিলেন যে, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্মিলিত হামলায় ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে। সে সময় তিনি সেই সাফল্যকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকবে এমন ঐতিহাসিক বিজয় বলে অভিহিত করেছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তার সেই বক্তব্যের স্পষ্ট অমিল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৫ সালে ইরানের বিরুদ্ধে অর্জিত সাফল্যকে তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে থাকবে এমন ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবেও বর্ণনা করেছিলেন।

নেতানিয়াহুর এই কৌশলের কঠোর সমালোচনা করেছেন তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট। বিরোধী জোটের এই নেতা সেনাপ্রধানের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে বলেন, ক্ষমতার লড়াইয়ে টিকে থাকার জন্য নেতানিয়াহু কোনোভাবেই ইসরাইলি সামরিক বাহিনীকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন না।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

পাঠ্য বইয়ের বিতর্কে এনসিটিবি’র ৯ কর্মকর্তা বদলি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫১ এম
পাঠ্য বইয়ের বিতর্কে এনসিটিবি’র ৯ কর্মকর্তা বদলি

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে হাতে সময় বাকি আর মাত্র দুই মাস। এর মধ্যেই পাঠ্য বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। রাজনৈতিক প্রতীক ব্যবহারের বিতর্ক ওঠার পর বই সংশোধন ও পুনর্মুদ্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে বিতরণ হওয়া প্রায় ২০ লাখ বই ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সরকারের গচ্চা যাচ্ছে প্রায় ১৭ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রতিটি বই ছাপাতে প্রায় ৫৭ টাকা খরচ হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কিন্তু এরই মধ্যে পাঠ্য বই নিয়ে বেধেছে তালগোল। সংশোধনের পর আবার বিতরণ হবে পাঠ্য বইগুলো। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বই সংশোধন ও পুনর্মুদ্রণের কারণে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। কর্মকর্তাদের কী কারণে বদলি করা হয়েছে, তা তিনি জানেন না বলে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: নির্বাচনে জিততে ইরানের হামলার ভয় দেখাচ্ছেন নেতানিয়াহু

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বইয়ের ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি নিয়ে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত এই ছবিটি একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রতীকের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় আপত্তি ওঠে। যদিও এর আগে ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়েও এই প্রতীক ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে এনসিটিবি প্রথমে প্রতীক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিলেও পরে জানায়, জ্ঞানের পিরামিডের স্তরগুলোতে কোনো আইকনই রাখা হবে না। এনিয়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি)। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে সেটির পরিবর্তে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়। এনসিটিবি’র সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান জানান, এ বছর বইয়ে চারটি স্তরের নাম থাকবে, তবে কোনো আইকন থাকবে না। পরবর্তী সময়ে বিষয়গুলো আরও পরিমার্জন করা হবে।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে আজ নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ

বইয়ের ছবি সংক্রান্ত বিতর্কের রেশ ধরে সোমবার এনসিটিবি’র ৯ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ২৯শে অক্টোবরের মধ্যে তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর আগে রোববার আইসিটি বই সম্পাদনার দায়িত্বে থাকা গবেষণা কর্মকর্তা মু. আব্দুল্লাহ আল জোবায়েরকেও বদলি করা হয়। আগের দিন বদলি করা হয়েছিল আরেক কর্মকর্তাকে। তারা সবাই বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবমুক্ত না হলে ওইদিন অপরাহ্নে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।

শুধু আইসিটি বই নয়, প্রাথমিক পর্যায়ের বাংলা, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বইয়ের ছবি নিয়েও বিতর্ক দানা বেঁধেছে। প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে মোট ৮২টি ‘নৌকা’র ছবি ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে ৩৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২৩টি এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ২৫টি ছবি রয়েছে। এসব বিতর্কিত ছবি থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় এনসিটিবি’র অভ্যন্তরেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে আগামী ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে সংশোধিত বই মাঠপর্যায়ে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে এনসিটিবি। তবে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করা বোর্ডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বদলির বিষয়ে এনসিটিবি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানান, এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং এ বিষয়ে তার কোনো সম্পৃক্ততা বা বিস্তারিত তথ্য নেই।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com