ঢাকার আটটি সেরা নিরামিষ ভোজনালয়

ঢাকার আটটি সেরা নিরামিষ ভোজনালয়
দুর্গাপূজার আনন্দ আর মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরাঘুরির পাশাপাশি উৎসবের পূর্ণতা পেতে খাবারের ভূমিকা অপরিসীম। এ সময় অনেকেই নিরামিষ খাবারের স্বাদ নিতে চান। বাড়িতে রান্নার পাশাপাশি বাইরে খেতে চাইলে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার নিরামিষ খাবারের দোকান হতে পারে ভোজনরসিকদের সেরা গন্তব্য। কোথাও মিলবে বাঙালি নিরামিষ পদের বাহারি আয়োজন, কোথাও বিরিয়ানি ও পোলাওয়ের মতো খাবার, আবার কোথাও দেশীয় পিঠাপুলি ও নাড়ু দিয়ে সাজানো হবে উৎসবের আয়োজন। ক্রেতারা নিজেদের পছন্দমতো পদ বেছে নিতে পারেন। শেষ পাতে থাকে পায়েস, মিষ্টি দই কিংবা চাটনি। পুরান ঢাকা, মোহাম্মদপুর, পান্থপথ ও বনানীর এমন আটটি দোকানের খোঁজ রইল এখানে। দুর্গাপূজার আনন্দে নতুন পোশাক, মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরাঘুরি আর প্রিয়জনের সঙ্গে আড্ডার পাশাপাশি খাবারের ভূমিকাও বিশেষ। দুপুর ও রাতের খাবারের পাশাপাশি বিকেলের নাশতারও ব্যবস্থা আছে এখানে। তিন বেলার খাবারের পাশাপাশি এখানে পঞ্চব্যঞ্জনের থালি, বেকারি পণ্য ও জন্মদিনের কেকও পাওয়া যায়। এর মালিক সুভাষ সাহার মেরুল বাড্ডায় গোপালস নামেও আরেকটি নিরামিষ খাবারের রেস্তোরাঁ আছে। নীলাচলে সরাসরি গিয়ে খাওয়ার পাশাপাশি অনলাইনেও খাবার অর্ডার করা যায়। একই এলাকায় সম্প্রতি আরেকটি শাখা খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে নিরামিষ খাবারের আয়োজনের পাশাপাশি গুরুত্ব দেওয়া হয় দেশীয় খাবারের ঐতিহ্য, পরিবেশবান্ধব উপকরণ ও ব্যক্তিগত আতিথেয়তাকে। মাটির পাত্র ও শানকিতে সাজিয়ে দেওয়া হয় পিঠাপুলি ও নাড়ু। খাবার তৈরিতে চিড়া, চাল, আখের গুড়, খেজুরের গুড় ও চালের গুঁড়ার মতো উপকরণ ব্যবহার করা হয়।
১. জগন্নাথ ভোজনালয়
পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার শিবমন্দিরের কাছে ১১০ নম্বর বাড়ির দোতলায় অবস্থিত এই ভোজনালয়টি ২০০৫ সালে শ্যামল অধিকারী ও নিতাই পালের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে।
বর্তমানে অশোক কবিরাজ এটি পরিচালনা করছেন। এখানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ ধরনের নিরামিষ পদ রান্না করা হয়। খাবার পরিবেশন করা হয় ছোট স্টিলের বাটিতে। মেনুতে থাকে শুক্তো, ফুলকপির রসা, ছানার ধোকা, লাবড়া, মোচার ঘন্ট, সয়াবিনের রসা এবং বিভিন্ন ধরনের শাক ও ভর্তা। একাদশীতে থাকে বিশেষ আয়োজন—পুষ্পান্ন, শ্যামা চালের পায়েস, সাবুদানার ভুনা ও সয়াবিনের রসা। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে, তবে ভিড় বেশি হলে রাত ১১টা পর্যন্তও খাবার পরিবেশন করা হয়। ২০২০ সালে নিতাই পালের মৃত্যুর পর বর্তমানে এটি পরিচালনা করছেন অশোক কবিরাজ।
২. অনুরাধা মহাপ্রসাদ ভোজনালয়
তাঁতীবাজার গলির ৯ নম্বর হোল্ডিংয়ে অবস্থিত এই ভোজনালয়টি মহাপ্রসাদি রান্না ও সাত্ত্বিক পরিবেশনার জন্য পরিচিত। এখানকার খাবার দেশি ঘি ও সূর্যমুখী তেলে তৈরি হয়। জনপ্রিয় পদ ভেজ পোলাও, যার দাম ৮০ টাকা। এছাড়াও পাওয়া যায় ছানার রসা, ডালপুরি, ছোলার ডাল ও বিভিন্ন সবজি ভাজি। সকালে নাশতার জন্য পরোটা ও সবজি পাওয়া যায়। ভোজনালয়টি সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
৩. গোবিন্দাস সাত্ত্বিক ফুডস
মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের এই ঠিকানায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিয়মিত খাবারের মান ও স্বাদ বজায় রাখা হয়। পূজার দিনগুলোয় সুবাসিত পুষ্পান্ন, পনির বিরিয়ানি ও গরম লুচি এখানকার জনপ্রিয় পদ। সকাল ৯টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত খাবার পরিবেশন করা হয় এবং অনলাইনে অর্ডারের সুবিধা আছে।
৪. জেপিএস ভেজ কিচেন
মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ হাউজিংয়ে অবস্থিত এই দোকানে ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক নিরামিষ পদের সমন্বয় রয়েছে। উল্লেখযোগ্য পদের মধ্যে রয়েছে কাশ্মীরি পনির দম বিরিয়ানি, ফ্রায়েড রাইস, পনির মসলা, সয়া মুগডালের ভুনা ও সয়াবিন কারি। মিষ্টিমুখের জন্য আছে চুষির পায়েস, ঘন দই ও রাবড়ি মালাই। সকাল সাড়ে আটটা থেকে রাত ১০টা ২০ মিনিট পর্যন্ত খোলা থাকে এবং অনলাইন অর্ডারের সুযোগ রয়েছে।
৫. নীলাচল ভেজ রেস্তোরাঁ
পান্থপথে স্কয়ার হাসপাতালের কাছে অবস্থিত এই রেস্তোরাঁটি এ বছর মার্চে যাত্রা শুরু করেছে। সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে। উল্লেখযোগ্য পদের মধ্যে আছে পাঁচ সবজি, মুগডাল, কাশ্মীরি ধোকা, পনির-পটোল, ধোকা বিরিয়ানি ও মালয়েশিয়ান সয়াবিন। সন্ধ্যার নাশতায় পাওয়া যায় পাস্তা, রোল ও আলুর দম। রান্নায় সচরাচর শর্ষের তেল ব্যবহার করা হলেও একাদশীর খাবারে সূর্যমুখী তেল ব্যবহৃত হয়।
৬. বৃন্দাস
গ্রিন রোডের গ্রিন লাইফ হাসপাতালের পাশে অবস্থিত এই দোকানটি তিন বছর ধরে চলছে। কাশ্মীরি রোস্ট, সয়া চাপ রোস্ট ও সয়া পনির বিরিয়ানি এখানকার জনপ্রিয় খাবার। নিয়মিত খাবারের তালিকা তাদের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়।
৭. যাত্রাবিরতি
বনানীর এই রেস্তোরাঁটি সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে। খোলামেলা পরিবেশে ছাদে বসে খাবার উপভোগের সুযোগ আছে। বিশেষ পদগুলোর মধ্যে খিচুড়ি প্ল্যাটার, মাশরুম তেহারি ও ভেজিটেবল কোফতা উল্লেখযোগ্য।
৮. সঞ্চয়িতা
গুলশান–১-এ অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি অন্যগুলোর চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। তাদের নিজস্ব কোনো প্রকাশ্য দোকান নেই, আছে গুলশান–১-এ নিজস্ব রসুইঘর। অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে বুকিং দিলে চার থেকে আটজনের জন্য আয়োজন করা হয় এবং ঠিকানা জানানো হয়। সঞ্চয়িতার বিশেষত্ব দেশীয় পিঠাপুলি যেমন নারকেল নাড়ু, গোলাপ পিঠা ও নকশি পিঠা। পূজায় এসব খাবার উপহার হিসেবে পাঠানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। খাবার পৌঁছে দিতে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব সরবরাহকর্মীরা কাজ করেন। বুকিং নিশ্চিত হওয়ার পরই অতিথিদের ঠিকানা জানানো হয়।
আরও পড়ুন: সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই, আমরা সবাই এক: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আরও পড়ুন: গ্রেপ্তার হলেন ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ কুমার আগরওয়ালা


















