অন্ধ্র উপকূলে ১৫০ কিমি গতিতে আঘাত ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়তে শুরু করে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। ভারতের মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী, ল্যান্ডফলের সময় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, যা পরবর্তীতে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রস্থল অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল এবং ইয়ানামের দক্ষিণের কাছাকাছি অবস্থান করছে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস মতে, সম্পূর্ণ ল্যান্ডফল প্রক্রিয়ায় মোট চার ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঝড় বইছে ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার বেগে। যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে বলে জানিয়েছে ভারতের মৌসম ভবন। ‘ল্যান্ডফল’ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর ঝড়ের দাপট আরও বেড়েছে অন্ধ্রপ্রদেশে। সর্বোচ্চ গতি ১৫০ কিলোমিটার।
আরও পড়ুন: ইসরায়েল নির্বাচন: নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের জোট এখন সমানে সমান
ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পর ইয়ানামের কাছে জাতীয় সড়কের ওপর গাছ উপড়ে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্ধ্রপ্রদেশের তিনটি বিমানবন্দরে বিমান চলাচল স্থগিত করা হয়েছে এবং বেশ কিছু ফ্লাইট ও ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চল থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে দুই হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং গর্ভবতী নারীদের বিশেষ চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মাঝরাস্তা থেকে গাছগুলো দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা করছে। প্রায় দুই হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। উপকূল এলাকা থেকে ইতোমধ্যেই বহু মানুষকে সরিয়ে এই কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভোটের ফলাফলে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
এদিকে অন্ধ্রপ্রদেশ, ইয়ানাম এবং দক্ষিণ ওড়িশার বিভিন্ন অংশে ভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলেও এর প্রভাব পড়েছে। বুধবার কলকাতা এবং দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যেখানে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এই জেলাগুলোতে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার হতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে গাছগুলোর ক্ষতি হয়েছে। রাতে কলকাতায-সহ অন্য জেলাতেও ঝড়ের প্রভাব দেখা গেছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিন পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়াতে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া জেলায় সতর্কতা বহাল থাকবে। এছাড়া বৃহস্পতি ও শুক্রবার দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, যা পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। শনিবারও পাহাড়সহ সংশ্লিষ্ট পাঁচ জেলায় ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রে যেতে বারণ করা হয়েছে মৎস্যজীবীদের।

















