আফগানিস্তানের কাছে বড় হারে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় বাংলাদেশের

শারজায় ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আফগানিস্তানের কাছে শোচনীয় পরাজয় বরণ করেছে বাংলাদেশ। বুধবার (২১ অক্টোবর) এই ম্যাচে ১৬১ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে আফগানিস্তান সহজেই ৭ উইকেটের জয় তুলে নেয়। এই পরাজয়ের ফলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে টাইগারদের। ফাইনালে ওঠার জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল আফগানিস্তানকে ১১৯ রানের মধ্যে আটকে দিয়ে জয়লাভ করা, অথবা আগে ব্যাট করে ৪১ রানের বড় ব্যবধানে জেতা। তবে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে মাত্র ১৬০ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। তাদের মুখের অভিব্যক্তি যেন এটাই বলছিল—বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় এ আর এমন কি। সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে খাদের কিনারে চলে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে জায়গা করে নিতে হলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশকে জিততে হতো ৪১ রানে। আর সেটার জন্য দরকার ছিল বড় একটা স্কোর। ব্যাটিংই যে বাংলাদেশ দলের দুশ্চিন্তার আরেক নাম, সেটা প্রমাণ করে আফগানদের বিপক্ষে মুখ থুবড়ে পড়ল দলের ব্যাটিং লাইনআপ। শুক্রবার টুর্নামেন্টের ফাইনালে আফগানরা মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ের। কিন্তু সেটি যে হওয়ার নয়, তা আগেই বোঝা গিয়েছিল। তিনজনই আউট হয়েছেন অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করে খেলতে গিয়ে।
আরও পড়ুন: সাইবার আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার গভীর উদ্বেগ
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌযান ও গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান কাতার-ফ্রান্সের
ম্যাচের শুরুর দিকেই ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে বাংলাদেশের। মাত্র ২৮ রানের মধ্যেই দলীয় ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে দলটি। পাওয়ার প্লেতে তানজিদ (১), সৌম্য (০), শান্ত (১৫) এবং অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় বিদায় নিলে দল ব্যাকফুটে চলে যায়। তবে পঞ্চম উইকেটে সাইফ হাসান এবং পারভেজ হোসেন ইমনের জুটিতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা দেখা যায়। এই দুই ব্যাটার ১৪৭ বলে ৯৩ রান যোগ করেন। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭০ রানের ইনিংস খেলেন ইমন, যেখানে ৯৬ বলের মোকাবিলায় ছিল ৫টি চার ও ২টি ছক্কা। এছাড়া সাইফ ৮২ বলে ৪১ রান করেন, যার মধ্যে ছিল ২টি চার ও ১টি ছয়। শেষ পর্যন্ত আফগান স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পুরো দল ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায়। আফগান স্পিনার ৩১ রান খরচ করে ৪টি উইকেট শিকার করেন। বলের মেরিট না বুঝে ভুল শট নির্বাচনের সেই চিরাচরিত সমস্যা ব্যাটারদের। তানজিদ তামিম, সৌম্য সরকার কিংবা নাজমুল হোসেন শান্তর কথাই ধরা যাক। অনুজদের দুর্দশা দেখে জাতীয় দলের সাবেক ব্যাটার ইমরুল কায়েস ফেসবুক পোস্টে বিসিবিকেই ধুয়ে দিলেন। দল নির্বাচনে আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত কিংবা স্বজনপ্রীতি থেকে দূরে থাকার আবেদন জানিয়ে লিখলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডের উচিত সম্পূর্ণ মেধা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে সেরা একাদশ নির্বাচন করা। এখন সময় এসেছে মেধা, সততা এবং দেশের স্বার্থকে অন্য সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়ার।
লক্ষ্য তাড়ায় নামা আফগানিস্তানের ইনিংসের বিস্তারিত চিত্র নিচে দেওয়া হলো
- ইনিংসের শুরুতে দলীয় ২৬ রানে রহমানউল্লাহ গুরবাজ ৬ রানে এবং ৩৯ রানে সেদিকউল্লাহ আতাল ৪ রানে সাজঘরে ফেরেন। ৯৫ রানের মাথায় ইব্রাহিম জাদরান ৩৪ রান করে আউট হলেও দলের জয়ের পথে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।
- আফগান অধিনায়ক রহমত শাহ উইকেটে এসে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। তিনি ৯০ বলে ৫টি চারের মারে ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন। তার সঙ্গী হাসমতউল্লাহ শহিদি ৩৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ২টি এবং মোস্তাফিজুর রহমান ১টি উইকেট নিয়েছেন।
- ম্যাচের শেষদিকে আলিস আল ইসলামের বলে হাসমতউল্লাহ শহিদি লেট কাটে ২ রান নিলে ৮৭ বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটের সহজ জয় নিশ্চিত করে আফগানিস্তান।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- আউট হলেও তাদের কক্ষচ্যূত করা যায়নি। চার নম্বরে উইকেটে এসে রহমত শাহ দলকে জিতিয়ে তবেই মাঠ ছাড়েন। ৫ চারে ৯০ বলে ৬৭ রান করে অপরাজিত থাকেন আফগান অধিনায়ক। হাসমতউল্লাহ শহিদি অপরাজিত থাকেন ৩৬ রানে। আফগানদের পতন হওয়া তিন উইকেটের।






















