শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

ইরানে একা সামরিক হামলা চালাতে কতটা সক্ষম ইসরায়েল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২২ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ইরানে একা সামরিক হামলা চালাতে কতটা সক্ষম ইসরায়েল

ইরানের বর্তমান সরকারকে উৎখাত করাকেই এখন নিজের দেশের ‘প্রধান লক্ষ্য’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে জনমত জরিপে নিজের অবস্থান কিছুটা নড়বড়ে হওয়ায় তিনি নতুন করে ইরানে সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিলেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, যদিও ইরানের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলার মতো সামরিক শক্তি ইসরায়েলের আছে, কিন্তু শুধু বিমান হামলার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন করা বা চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করা কার্যত অসম্ভব। এর আগে জনমত জরিপগুলোতে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন কমতে দেখা যাচ্ছে। ইরান ইতিমধ্যে দুই দফা হামলা মোকাবিলা করে টিকে আছে। ইসরায়েলের নির্বাচনে ‘কিংমেকার’ কে এই আব্বাস, নেতানিয়াহুকেও সরিয়েছিলেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে যে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ চেয়ে আসছিলেন, তা বাস্তবে রূপ নেয়। ভালোভাবে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রব্যবস্থাগুলো টিকে যাবে।’। পুরোনো চীনা জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের (এএসসিএম) বড় অংশই এখন ইরান নিজ দেশে তৈরি করে। এ ছাড়া ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের পাহাড়গুলো বিমান হামলা থেকে সুরক্ষা পাওয়ার প্রাকৃতিক আশ্রয় হিসেবে কাজ করে।’। এর অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতে ইরানে হামলার বিষয়টি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে ওয়াশিংটন।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে স্থল অভিযান ছাড়া শুধু আকাশপথে হামলা চালিয়ে কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। তুরস্কের কায়সেরি শহরের আবদুল্লাহ গুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক চাগলার কুরচ মনে করেন, আকাশপথে হামলার মাধ্যমে ইরানের সামরিক শক্তি কিছুটা কমানো সম্ভব হলেও দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে হলে কয়েক বছর মেয়াদি সেনা মোতায়েন ও দখলের প্রস্তুতি প্রয়োজন। নেতানিয়াহু নিজেও গত মার্চে স্বীকার করেছিলেন যে, শুধু বিমান হামলা দিয়ে সরকার পতন ঘটানো যায় না, এর জন্য স্থল অভিযান অপরিহার্য। যদিও তিনি সেই স্থল অভিযানের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এখনো প্রকাশ করেননি। এমন পরিস্থিতিতে তিনি ইরানে আবার হামলা চালানোর আভাস দিয়ে এ কথা বলেছেন। এ ছাড়া আকাশে যুদ্ধবিমানে জ্বালানি ভরার সক্ষমতাও রয়েছে দেশটির।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (রুসি) গবেষক আরবান কনিংহামের মতে, ইসরায়েলের কাছে বিপুল অস্ত্রের মজুত থাকা সত্ত্বেও কিছু বিশেষ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার সক্ষমতা তাদের নেই। সেখানে নিষ্ঠুর স্বৈরশাসনের সঙ্গে উগ্র জঙ্গিবাদের মেলবন্ধন ঘটেছে।’।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান

বিশেষ করে পাহাড়ের অনেক গভীরে থাকা ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অস্ত্রের প্রয়োজন হয়।

উদাহরণস্বরূপ, ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের জিবিইউ-৫৭ বাংকারবিধ্বংসী বোমার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে।

এর আগে ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমান থেকে ইরানের নাতাঞ্জ ও ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনায় এই বোমা ফেলা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৮ জনের প্রাণহানি

এ ধরনের সক্ষমতা কেবল যুক্তরাষ্ট্রেরই রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ওই উদ্যোগ আর এগোয়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরায়েল সফর করেছেন। তবে এই আলোচনার পর নেতানিয়াহু সরকার উৎখাতের হুংকার দিলেও, ইরানে নতুন কোনো অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নিতে রাজি কি না, তা নিয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওয়াশিংটন নতুন কোনো যুদ্ধে জড়াতে কতটা আগ্রহী, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে, কারণ ইরানের সরকারকে বাধ্য করার মতো কোনো কার্যকর পথ এখনো তাদের জানা নেই। ইরান যুদ্ধে চার মাসেই অন্তত ৫২টি যুদ্ধবিমান–ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

নেতানিয়াহু ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইরানের নেতৃত্বকে ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে আসছেন। সেই বছরের জুলাইয়ে মার্কিন কংগ্রেসেও তিনি একই সুর তুলেছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে ২০২৫ সালের জুন এবং চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে আক্রমণ চালায়। এরপর থেকে ইরান নানা অবরোধের মুখে থাকলেও তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। ওই বছরের জুলাইয়ে মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ‘এসব শাসনব্যবস্থার মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো ইরানের শাসনব্যবস্থা। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া থেকেও বিরত থাকতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েল আরও একঘরে হয়ে পড়তে পারে।

কনিংহাম আরও সতর্ক করেছেন যে, গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গোপন অভিযান চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। একবার এসব গোপন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করলে ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সেগুলো চিহ্নিত ও নিষ্ক্রিয় করে ফেলতে পারে। এছাড়া ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো সক্ষমতা স্থানীয় কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কনিংহাম গোয়েন্দা কার্যক্রমে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপায় ও নেটওয়ার্ককে ‘একবার ব্যবহার করেই হারানোর ঝুঁকিতে থাকা সম্পদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে স্থলযুদ্ধে কুর্দি বা বালুচ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়েও তাঁর সংশয় রয়েছে। গত মার্চে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিরোধী কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে। কুর্দি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে নতুন করে সংঘাত বাড়ানো থেকে বিরত থাকার চাপে রয়েছেন ট্রাম্প।

ইরানের সক্ষমতার দিকটি বিবেচনা করলে দেখা যায়, তাদের হাতে এখনো বিপুল ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে। রুসির জ্যেষ্ঠ গবেষক সিদ্ধার্থ কৌশল জানিয়েছেন, ইরানের লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করার ক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। ইসরায়েলের জন্য বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো তাদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। গত কয়েক দফার যুদ্ধে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে গিয়ে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত অনেকাংশে কমে গেছে।

আর্থিক সক্ষমতার দিক থেকে ইসরায়েল দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের চাপে পড়বে। ইরানের তৈরি তুলনামূলক সস্তা ড্রোন ধ্বংস করতে ইসরায়েলকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র খরচ করতে হয়। এই অর্থনৈতিক বৈষম্য দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের ক্ষেত্রে ইরানকে বাড়তি সুবিধা দেয়। কনিংহাম মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া ইসরায়েল যদি এককভাবে আক্রমণ চালায়, তবে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করতে পারে, যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাবে। দেশটি শুধু ইসরায়েল নয়, উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতেও হামলা চালাতে পারে।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

তুরস্কের সঙ্গে সংঘাতের ইঙ্গিত দিলেন নেতানিয়াহু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ পিএম
তুরস্কের সঙ্গে সংঘাতের ইঙ্গিত দিলেন নেতানিয়াহু

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে তিনি তুরস্কের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার কথাও ব্যক্ত করেছেন। ইসরাইলের চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন তিনি। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের প্রেক্ষাপট তৈরি করতে পারে।

সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুর বক্তব্য

  • নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইসরাইল তুরস্কের সঙ্গে কোনো সংঘর্ষে জড়াতে চায় না।
  • তবে ইসরাইলের নিরাপত্তানীতি অনুযায়ী সম্ভাব্য হুমকি ঠেকাতে আগাম আঘাত হানার সুযোগ রয়েছে, যা তুরস্কের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে।
  • ইসরাইলের কৌশলগত পরিকল্পনা সম্পর্কে সরাসরি উত্তর না দিলেও তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তার দেশ কোনোভাবেই নতি স্বীকার করবে না।
  • যেকোনো ধরনের সংঘাত মোকাবিলায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের সতর্কবার্তা দিল কাতার

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের সতর্কবার্তা দিল কাতার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের সতর্কবার্তা দিল কাতার

মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক মধ্যস্থতা ও পরোক্ষ আলোচনা চলমান রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কাতার। মঙ্গলবার দোহায় অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরাম’-এ এমন তথ্য জানান কাতারের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. মাজেদ বিন মোহাম্মদ আল-আনসারি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পর্যায়ভিত্তিক আলাপ-আলোচনা থমকে যায়নি।

আরও পড়ুন: তুরস্কের সঙ্গে সংঘাতের ইঙ্গিত দিলেন নেতানিয়াহু

আলোচনার গোপনীয়তা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে আল-আনসারি বলেন, মিডিয়ায় এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না পাওয়াই প্রমাণ করে যে মধ্যস্থতাকারীরা তাদের দায়িত্ব নিভৃতে পালন করে যাচ্ছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি এক ভয়াবহ পরিণতির ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়লে পুরো অঞ্চল এক ধ্বংসাত্মক বৈশ্বিক যুদ্ধের সম্মুখীন হবে, যা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয় বরং আন্তর্জাতিক শান্তিকেও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে।

আরও পড়ুন: সাইবার আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার গভীর উদ্বেগ

আঞ্চলিক অস্থিরতা নিরসনের ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, অতীতের যুদ্ধবিরতিগুলো স্থায়ী সমাধান দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। যেকোনো যুদ্ধবিরতিকে তিনি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির একটি প্রবেশদ্বার হিসেবে অভিহিত করেছেন। এ সময় তিনি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য এই আঞ্চলিক অস্থিরতাকে ব্যবহারের কড়া সমালোচনা করেন।

সৌদি আরবের নিরাপত্তা ইস্যুতে কাতার তার পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। আল-আনসারি জানান, নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র সৌদি আরব যেকোনো পদক্ষেপ নিলে তার পাশে রয়েছে কাতার। বিশেষ করে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার বিপরীতে রিয়াদের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে আঞ্চলিক সংকটগুলো সমন্বিতভাবে সমাধান করা প্রয়োজন।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

সাইবার আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার গভীর উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ পিএম
সাইবার আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার গভীর উদ্বেগ

বাংলাদেশের প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইনের সংশোধনী ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের নতুন কাঠামো নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘লা ফুনেত্র দ্য পারিস’ তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ২০২৬ সালের খসড়া সাইবার আইনের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি বলছে, এতে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। প্যারিসভিত্তিক এই সংগঠনটি জানায়, আইনে থাকা অস্পষ্ট ধারা, বিনা পরোয়ানায় তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা এবং বিচারিক তদারকি ছাড়া কনটেন্ট বন্ধ করার বিধান মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করবে। এছাড়া ‘গুজব’ ও ‘ভুল তথ্য’র মতো অস্পষ্ট বিষয়গুলোকে অপরাধের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করায় উদ্বেগের মাত্রা আরও বেড়েছে। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ২০২৬ সালের খসড়া সাইবার আইনের বিভিন্ন ধারা নিয়ে সামপ্রতিক বিশ্লেষণে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য উদ্বেগজনক বিষয় উঠে এসেছে। প্রস্তাবিত কাঠামোয় জামিন অযোগ্য অপরাধের কঠোর বিধান বহাল রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের সতর্কবার্তা দিল কাতার

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আগাম বিচারিক অনুমোদন ছাড়া কর্তৃপক্ষের এমন ব্যাপক ক্ষমতা সাইবার জগতে অনিয়ন্ত্রিত নজরদারি ও নিপীড়নের সুযোগ তৈরি করবে। এর ফলে সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট ও মানবাধিকারকর্মীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন এবং গণমাধ্যমগুলো স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে। রাজনৈতিক সমালোচনা বা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার এই প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী বলে মনে করছে সংস্থাটি। কোনো বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে তা অবশ্যই স্পষ্ট আইনের ভিত্তিতে, বৈধ উদ্দেশ্যে এবং প্রয়োজনীয় অনুপাতে হতে হবে বলে তারা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট ও মানবাধিকারকর্মীদের নিরাপত্তাও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর যেকোনো বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে তিনটি শর্ত পূরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছে এই সংস্থা।

আরও পড়ুন: আফগানিস্তানের কাছে বড় হারে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় বাংলাদেশের

মানবাধিকার সংস্থাটি সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র ও নাগরিক-রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে বলেছে, তথ্য ও ধারণা আদান-প্রদান করা মানুষের স্বীকৃত অধিকার। আইনকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে তারা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে, সাইবার অপরাধের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক মতপ্রকাশের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেকোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিচারিক অনুমোদনের প্রক্রিয়া পুনর্বহাল করতে হবে। এছাড়া, বাংলাদেশের সম্পাদক পরিষদ ও সুশীল সমাজের উদ্বেগের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে সংস্থাটি অবিলম্বে আইনি কাঠামোয় প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার তাগিদ দিয়েছে। প্রস্তাবিত আইনটি যেন নিপীড়নের হাতিয়ার না হয়ে ওঠে, সে বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com