ট্রাম্প |: চুক্তি না হলে রোববারই ইরানে হামলা হতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানে সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: সৌদি রুটে ১৪৪ ফ্লাইট স্থগিত, ভোগান্তিতে ২২ হাজার যাত্রী
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন চাইলে ‘আগামীকালই’ তেহরানের ওপর হামলা চালাতে পারে। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরানের সঙ্গে একটি যথাযথ ও ‘সুন্দর’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে সামরিক সংঘাত এড়ানো সম্ভব। সম্ভাব্য এই হামলার বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ট্রাম্প সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে জানান, বিষয়টি তাদের বিবেচনায় রয়েছে। তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, এমন স্পর্শকাতর পরিকল্পনার কথা তিনি সংবাদমাধ্যমকে কেন জানাবেন। সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে কতটা এগিয়েছেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বিষয়টি বিবেচনা করছি। এরপর তিনি বলেন, ‘আপনারা কি সত্যিই মনে করেন, আমি আপনাদের বলে দেব যে হামলা চালাতে যাচ্ছি কি না?’।
আরও পড়ুন: বরিশালে যুবদল কর্মীকে পিটিয়ে জখমের পর মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার ৯
ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারলে ইরান সামরিক উত্তেজনা থেকে মুক্তি পেতে পারে। তবে চুক্তিতে ইরান শেষ পর্যন্ত অটল থাকবে কি না, তা নিয়ে নিজের সংশয়ের কথাও জানিয়েছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন থেকে স্থায়ীভাবে বিরত রাখা। তিনি বলেন, অতীতে বি-২ বোমারু বিমানের মাধ্যমে যে অভিযান চালানো হয়েছিল, তা দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য অর্জনে যথেষ্ট ছিল না। তাই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তিনি থামবেন না বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অতীতে বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র যে অভিযান চালিয়েছিল, তা দীর্ঘস্থায়ী ফলাফল নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট ছিল না।
এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প নতুন দাবি করেছেন। তার ভাষ্যমতে, সংঘাত শুরুর আগের চেয়ে বর্তমানে ওই পথে তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও এই দাবির পক্ষে কোনো পরিসংখ্যান তিনি উপস্থাপন করেননি। ইরানে পরবর্তী করণীয় নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি সামরিক পথ এবং কূটনৈতিক সমঝোতা—উভয় সম্ভাবনাকেই খোলা রেখেছেন।
ট্রাম্পের কথায়, হয়তো তাকে পুরো বিষয়টির চূড়ান্ত সমাপ্তি টানতে হবে, অথবা ইরান চুক্তিতে সম্মত হবে। তিনি বলেন, নিশ্চিতভাবে কিছু বলা না গেলেও দিনশেষে জয় যুক্তরাষ্ট্রেরই হবে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যে সংঘাত শুরু হয়েছিল, তা সময়ের সাথে সাথে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তির একাধিক আলোচনা হলেও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আজও অধরা রয়ে গেছে।














