দূর নিয়ে ভাবছেন না নাজমুল, লক্ষ্য কেবল মিরপুর টেস্ট জয়

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার হাতছানি থাকলেও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন এখনই খুব বেশি দূরে তাকাতে চাইছেন না। আগামী ১৪ জুন লর্ডসে অনুষ্ঠেয় এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল নিয়ে আলোচনার চেয়ে তিনি বর্তমানের ছোট ছোট লক্ষ্য পূরণেই বেশি আগ্রহী। তার মতে, ছোট সাফল্যের সমষ্টিই বড় জয় নিয়ে আসে। বর্তমান পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে থাকা বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে হাতে থাকা ছয় টেস্টের মধ্যে কমপক্ষে চারটি জিততে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্ট দিয়ে সেই জয়ের ধারা শুরু করতে চায় বাংলাদেশ। প্রশ্নটা শুরুতেই করতে হচ্ছে—মিরপুর টেস্ট হবে কার। কিন্তু গত আগস্টে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো বাংলাদেশের সাম্প্রতিক টেস্ট ফর্ম আশাটাকে বাড়াবাড়ি বলতে দিচ্ছে না। এ প্রসঙ্গ উঠলে নাজমুল জানিয়ে দেন, এখনই অত দূরে চোখ না রেখে তিনি চাইছেন ছোট ছোট লক্ষ্য পূরণ করে এগোতে।
মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের সামনে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ রয়েছে। তবে আবহাওয়া কিছুটা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে ঢাকায় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। খেলাটি যেন কোনোভাবেই বৃষ্টির কারণে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকেই নজর দলটির। বাংলাদেশ দলের লক্ষ্য স্পষ্ট—দুই ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২০ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ জেতা। যদিও ঘরের মাঠে পেস নাকি স্পিন আক্রমণ সাজানো হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত একাদশ ঘোষণার আগে বলা কঠিন। আবহাওয়ার পূর্বাভাস ‘অর্ণব’, মানে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের দিকেও কিছুটা হেলে আছে। আজ টেস্টের প্রথম দিন বৃষ্টি হতে পারে ঢাকায়। গতকাল পর্যন্ত বৃষ্টির শঙ্কা দেখা যাচ্ছিল পরের দুই দিনেও। ছয় টেস্টে চার জয়কে বাংলাদেশের জন্য অন্য কোনো সময়ে দূরের কল্পনা বলেই মনে হতো। অর্থাৎ, সিলেটের দ্বিতীয় টেস্টের দিকেও না তাকিয়ে বাংলাদেশের লক্ষ্য আপাতত মিরপুর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানো, যেটির জন্য দুই ইনিংসে বোলারদের নিতে হবে ২০ উইকেট। মিরপুরে গতকাল সিরিজপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে থাকার অভিজ্ঞতা থেকেই কথাটা বলা। প্রশ্নটার নিশ্চিত উত্তর অবশ্য একাদশ ঘোষণা হওয়া পর্যন্ত দেওয়া কঠিন। তবে বাংলাদেশ একটা জায়গায় নিশ্চিত হয়ে গেছে গতকালই।
আরও পড়ুন: স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ ১১ দলীয় জোটের
তবে দলের জন্য স্বস্তির খবর হলো, স্কোয়াডের ১৫ জন খেলোয়াড়ই এখন পুরোপুরি ফিট। এর আগে লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম চোট নিয়ে কিছুটা শঙ্কায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা খেলার মতো অবস্থায় আছেন। লিটনের নিতম্বের সংযোগস্থলের চোট সেরেছে এবং অনুশীলনে কোনো সমস্যা না হওয়ায় টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে নিয়ে ইতিবাচক। আঙুলের চোট নিয়ে উদ্বেগের কারণ থাকা মুশফিকের এক্স-রে রিপোর্টেও কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। এই দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারই মিরপুর টেস্টে খেলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাতে অন্তত বাড়তি কিছু আর্থিক সুবিধা তো মিলবে। প্রথম টেস্টের একাদশ গড়ার সময় ১৫ জনের স্কোয়াডের কাউকেই বিবেচনার বাইরে রাখতে হচ্ছে না টিম ম্যানেজমেন্টকে। ঝুঁকি এড়াতে লিটনের ফিটনেস টেস্ট হয়নি, তবে যেহেতু গতকালও স্বচ্ছন্দে ব্যাটিং ও কিপিং অনুশীলন করেছেন, তিনিও খেলার মতো অবস্থায় আছেন বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।
পয়েন্ট টেবিলে আটে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফাইনালে ওঠার চাপ না থাকলেও, তারা সেরা পাঁচে থেকে মৌসুম শেষ করতে চাইবে।
আরও পড়ুন: তিন দেহরক্ষীসহ অপহৃত কালাতের খানের ছেলে শাহজাদা মুহাম্মদ
সফরকারীরা চেন্নাইয়ে ১০ দিনের ক্যাম্প শেষ করে ঢাকায় এসেছে।
এছাড়া অনুশীলনের পাশাপাশি দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলায় স্থানীয় পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ পেয়েছে তারা।
মিরপুরের উইকেট নিয়ে অতীতে বিভ্রান্তি থাকলেও এবার সব পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত বাংলাদেশ।
অজিদের বিপক্ষে গত আগস্টে ডারউইনের জয় থেকে আত্মবিশ্বাস নেওয়া বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের আগে এই টেস্টে জয় দিয়ে ভালো শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে।





















