বাপেক্স |: উখিয়ায় নলকূপে ভূগর্ভস্থ গ্যাসের আগুন জ্বলবে আরো ৭ দিন

কক্সবাজারের উখিয়ায় একটি গভীর নলকূপ থেকে উদ্ভূত গ্যাসের আগুন আপাতত আরও সাত দিন জ্বলবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। একপর্যায়ে গ্যাসের সঙ্গে আগুন জ্বলে ওঠে।
আরও পড়ুন: জাপানের জেবিআইসি গভর্নরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বাপেক্সের ব্যবস্থাপক ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম এ তথ্য জানান। ইনানী ছোট ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় আব্দুল্লাহর বাড়িতে গত তিন দিন ধরে নলকূপ স্থাপনের জন্য খননকাজ চলছিল। প্রায় এক হাজার ফুট খননের পর মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হঠাৎ ভূগর্ভ থেকে প্রচণ্ড বেগে গ্যাস নির্গত হতে শুরু করে এবং তাতে আগুন ধরে যায়।
বাপেক্স কর্মকর্তা এস এম নাফিফুন আরহাম জানান, আগুনের তীব্রতা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, ভূগর্ভে গ্যাসের মজুত রয়েছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হলে ভূগর্ভের অন্য কোনো স্থান দিয়ে গ্যাস বেরিয়ে নতুন করে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। এ কারণে ঝুঁকি এড়াতে আপাতত আগুন জ্বলতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘আগুনের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আমাদের মনে হচ্ছে, এখানে গ্যাসের উপস্থিতি থাকতে পারে। পরে নমুনাগুলো ঢাকার পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে।’। তাই আপাতত আগুনটি এভাবেই জ্বলতে দিয়ে আরো এক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলি নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট এগিয়ে, জরিপে তথ্য
নিরাপত্তার স্বার্থে আগুনের উৎপত্তিস্থলের চারপাশের ২০০ মিটারের মধ্যে বসবাসকারী লোকজন ও ঘরবাড়ি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাপেক্স। এছাড়া অননুমোদিত ব্যক্তির প্রবেশ ঠেকাতে পুরো এলাকাটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এস এম নাফিফুন আরহাম জানান, পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পরই ভূগর্ভস্থ গ্যাস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ কারণে আগুনের উৎপত্তিস্থলের চারপাশের ২০০ মিটারের মধ্যে থাকা মানুষ ও ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে এলাকাটি নিরাপদ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করলেও ভূগর্ভ থেকে অব্যাহত গ্যাস নিঃসরণের কারণে তা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে সেনাবাহিনীর ফায়ার টিমও সেখানে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পানি ছিটিয়েও আগুন নেভানো যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানিয়েছেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সমন্বিতভাবে কাজ করছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, বাপেক্সের প্রতিনিধি দলের কাজ নির্বিঘ্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

















