ব্রাজিল নির্বাচন: প্রথম দফায় পিছিয়ে লুলা, কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে প্রেসিডেন্ট

ব্রাজিলের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদে জয়ী হতে হলে কোনো প্রার্থীকে প্রদত্ত বৈধ ভোটের অন্তত ৫০ শতাংশের বেশি নিশ্চিত করতে হয়। এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সংসদ বা ইলেকটোরাল কলেজের সরাসরি কোনো ভূমিকা নেই। গত ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে কোনো প্রার্থীই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেননি, যার ফলে চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য এখন দুই শীর্ষ প্রার্থীকে দ্বিতীয় দফার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে হচ্ছে। এই চূড়ান্ত লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ও কট্টর ডানপন্থি নেতা ফ্লাভিও বলসোনারো।
আরও পড়ুন: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফ্লাভিও বোলসোনারোকে হারিয়ে জয়ী লুলা
লুলা ব্রাজিলের আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আরও পড়ুন: জাপান সফরে বড় অর্থনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা
তিনি ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় ছিলেন এবং ২০২৩ সালে পুনরায় প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অন্যদিকে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও বলসোনারো পেশায় একজন আইনজীবী এবং রিও ডি জেনিরোর সাবেক সিনেটর। উল্লেখ্য, ফ্লাভিও সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে। ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজয়ের পর ব্যর্থ অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের দায়ে জইর বলসোনারোকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তবে তিনি তার ছেলের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ফ্লাভিও নির্বাচিত হলে সাবেক এই প্রেসিডেন্ট কারামুক্তি পেতে পারেন।
নির্বাচনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের ভোট লুলার জন্য বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৬ সালের ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে মিনাস জেরাইস রাজ্যে ফ্লাভিও ৪৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ ভোট পেয়ে লুলাকে পেছনে ফেলেছেন, যেখানে লুলার প্রাপ্ত ভোট ছিল ৪৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ১৯৮৫ সালে ব্রাজিলে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত এমন কোনো নজির নেই যেখানে প্রথম দফায় পিছিয়ে থাকা কোনো প্রার্থী দ্বিতীয় দফায় জয়ী হতে পেরেছেন। তবে প্রথম দফার ভোটের পর বলসোনারোর বিরোধিতায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বিক্ষোভ লুলা শিবিরে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আগামী মঙ্গলবার ৮১ বছর পূর্ণ হতে যাওয়া লুলার জন্য রোববারের দ্বিতীয় দফার ভোট তাই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সে সময় দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে লুলার শক্তিশালী জনসমর্থন ছিল।





















