গণমাধ্যমকে আরও সাহসী হওয়ার আহ্বান জামায়াত আমীরের

জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান গণমাধ্যমকে তাদের অবস্থান আরও সাহসী ও বলিষ্ঠ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, রাষ্ট্রকে সঠিক পথে রাখতে সংবাদমাধ্যম ধারালো চাবুকের ন্যায় কাজ করে এবং এটি জাতির দর্পণ হিসেবে পরিচিত। তবে অতীতে বিভিন্ন সরকারের আমলে এই ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল এবং বিগত সরকারকে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমেরও দায় ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। গতকাল দুপুরে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় জেলা আমীর ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহেদ আলীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আলীর সঞ্চালনায় কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে আরো সাহস করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। একজন সাহস করে বলেছেন, আমাদেরকে কষ্ট দেবেন না, আমাদের কাছে আসতে হবে। সংসদের ভেতরকে উত্তপ্ত করে তুলি এবং একসময় সংসদকে অচল করে ফেলি। না তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যারাই পালন করেন এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বলেন, আইনশৃঙ্খলা আগের চেয়ে ভালো। এ সময় তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এই আগের চেয়ে ভালোর মাপকাঠি কি তা আজ পর্যন্ত বুঝতে পারলাম না। না তিনি সমাজে শৃঙ্খলা ফেরাতে পারলেন। আমাদেরকে আপনারা ভোট দিয়ে বিজয়ী করুন।
আরও পড়ুন: ৬০ হাজার কোটি টাকায় নির্মিত হচ্ছে ঢাকা-কুমিল্লা নতুন রেলপথ
ডা. শফিকুর রহমান ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে বলেন, ১৯৭৫ সালে সংবাদ মাধ্যমের ওপর চরম আঘাত আনা হয়েছিল। তখন বহুদলীয় গণতন্ত্র বাদ দিয়ে একদলীয় শাসন কায়েম করা হয় এবং চারটি বাদে বাকি সব সংবাদ মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, সরকার চায় বিরোধী দল অতীতের মতো কেবল সরকারি দলের সুরে কথা বলুক অথবা অহেতুক ফাইল ছোড়াছুড়ি ও হট্টগোল করুক। জামায়াত এমন কোনো পরিস্থিতির সঙ্গে নেই জানিয়ে তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে বিএনপি’র একজন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাডারকে নির্বাচন কমিশনের এডিশনাল সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হলে বরাদ্দ বন্ধের হুমকি দিয়ে আগাম ভীতি ছড়াচ্ছেন, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। বিগত ৫৫ বছর থেকে দেখে আসছি সংসদ, সরকারি দল ও বিরোধী দলের ভূমিকা। সবগুলো সংবাদ মাধ্যম সরকার তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। আবার কিছু লোকের মাইন্ডসেট হলো অতীতের মতো আমরাও ফাইল ছোড়াছুড়ি করি। এরকম ভয়ভীতি এবং দলভীতির মধ্যদিয়ে নির্বাচন হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
আরও পড়ুন: তৃতীয় মেয়াদে লড়তে আগ্রহী ডোনাল্ড ট্রাম্প, দাবি অধিকারের
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমান সুযোগ নিশ্চিত না হবে, ততক্ষণ নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে বলেন, দেশে আইন-শৃঙ্খলার দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি; উল্টো হাসপাতাল ভাঙচুর, মাদকের প্রসার ও চাঁদাবাজি বেড়েছে। পুলিশের এক ডিআইজির মালিকানাধীন বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া মালামালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যারা রক্ষার দায়িত্বে থাকে তারাই যদি ফসল বিনষ্ট করে, তবে দেশ সুরক্ষিত থাকবে কীভাবে। যদিও পুলিশ বাহিনীর সব সদস্যের ওপর দায় চাপাতে তিনি রাজি নন, কারণ বাহিনীর ভেতরে অনেক দেশপ্রেমিক সদস্য রয়েছেন। প্রতিনিয়তই দেশে কি ঘটছে তা সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসছে। তার প্রাইম ডিউটি হচ্ছে নিজের মন্ত্রণালয় লোক আফটার করা। পুলিশের একজন কর্মকর্তার বাড়িতে কি ঘটেছিল। তার মানে আগ থেকে জনগণকে ভয় দেখানো হচ্ছে। যখন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের নিশ্চিয়তা পাবো তখন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। প্রধানমন্ত্রী প্রমাণ করুক কোথায় কখন, কার সঙ্গে, কীভাবে। সীমান্ত দিয়ে যদি দেশে অবৈধ টাকা ও প্রাণঘাতী অস্ত্র প্রবেশ করে, তাহলে সরকার থেকে লাভ কী। যে বেড়া আমাদেরকে রক্ষা করবে স্বয়ং বেড়াই যদি আমাদের সমস্ত ফসলকে বিনষ্ট করে দেয় তাহলে হু উইল প্রটেক্ট আস।
প্রধানমন্ত্রীর গোয়েন্দা তথ্যের দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের কথা বলে পাবলিকলি কাউকে এভাবে অভিযুক্ত করা যায় না। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের কোনো গোপন সম্পর্ক নেই এবং প্রধানমন্ত্রীকে সেই প্রমাণ জনসমক্ষে উপস্থাপন করতে হবে। এছাড়া বিএনপি নেতাদের বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলগুলো নানা কথা বললেও জনগণ এখন প্রকৃত পরিবর্তন চায়। আমরা বিজয়ী হলে সাংবাদিকদের জব্দ হওয়া অফিসগুলো খুলে দেওয়া হবে এবং তাদের নামে করা সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি সকল মন্ত্রণালয়ে সার্ভিস দেন। অতি সম্প্রতি বরকতউল্লাহ বুলু সাহেব কী বললেন।
জামায়াত কেন দ্রুত আন্দোলনের পথে গেল—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণভোটের রায় মেনে নিলে লংমার্চের প্রয়োজন হতো না। মৌলভীবাজারে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও দাপ্তরিক কর্মসূচি শেষে বিকালে তিনি জেলা জামায়াতের দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। ডা. শফিকুর রহমান পুনরায় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জনগণের পছন্দের মাধ্যমেই প্রকৃত নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসা উচিত এবং জামায়াত সেই জনগণের অধিকারের প্রশ্নে সবসময় লড়ে যাবে। প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী। একজন দলীয় লোককে কেন আনতে হবে এখানে এ প্রশ্ন জনগণের।


















