সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

গণমাধ্যমকে আরও সাহসী হওয়ার আহ্বান জামায়াত আমীরের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫২ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
গণমাধ্যমকে আরও সাহসী হওয়ার আহ্বান জামায়াত আমীরের

জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান গণমাধ্যমকে তাদের অবস্থান আরও সাহসী ও বলিষ্ঠ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, রাষ্ট্রকে সঠিক পথে রাখতে সংবাদমাধ্যম ধারালো চাবুকের ন্যায় কাজ করে এবং এটি জাতির দর্পণ হিসেবে পরিচিত। তবে অতীতে বিভিন্ন সরকারের আমলে এই ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল এবং বিগত সরকারকে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমেরও দায় ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। গতকাল দুপুরে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় জেলা আমীর ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহেদ আলীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আলীর সঞ্চালনায় কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে আরো সাহস করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। একজন সাহস করে বলেছেন, আমাদেরকে কষ্ট দেবেন না, আমাদের কাছে আসতে হবে। সংসদের ভেতরকে উত্তপ্ত করে তুলি এবং একসময় সংসদকে অচল করে ফেলি। না তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যারাই পালন করেন এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বলেন, আইনশৃঙ্খলা আগের চেয়ে ভালো। এ সময় তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এই আগের চেয়ে ভালোর মাপকাঠি কি তা আজ পর্যন্ত বুঝতে পারলাম না। না তিনি সমাজে শৃঙ্খলা ফেরাতে পারলেন। আমাদেরকে আপনারা ভোট দিয়ে বিজয়ী করুন।

আরও পড়ুন: ৬০ হাজার কোটি টাকায় নির্মিত হচ্ছে ঢাকা-কুমিল্লা নতুন রেলপথ

ডা. শফিকুর রহমান ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে বলেন, ১৯৭৫ সালে সংবাদ মাধ্যমের ওপর চরম আঘাত আনা হয়েছিল। তখন বহুদলীয় গণতন্ত্র বাদ দিয়ে একদলীয় শাসন কায়েম করা হয় এবং চারটি বাদে বাকি সব সংবাদ মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, সরকার চায় বিরোধী দল অতীতের মতো কেবল সরকারি দলের সুরে কথা বলুক অথবা অহেতুক ফাইল ছোড়াছুড়ি ও হট্টগোল করুক। জামায়াত এমন কোনো পরিস্থিতির সঙ্গে নেই জানিয়ে তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে বিএনপি’র একজন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাডারকে নির্বাচন কমিশনের এডিশনাল সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হলে বরাদ্দ বন্ধের হুমকি দিয়ে আগাম ভীতি ছড়াচ্ছেন, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। বিগত ৫৫ বছর থেকে দেখে আসছি সংসদ, সরকারি দল ও বিরোধী দলের ভূমিকা। সবগুলো সংবাদ মাধ্যম সরকার তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। আবার কিছু লোকের মাইন্ডসেট হলো অতীতের মতো আমরাও ফাইল ছোড়াছুড়ি করি। এরকম ভয়ভীতি এবং দলভীতির মধ্যদিয়ে নির্বাচন হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

আরও পড়ুন: তৃতীয় মেয়াদে লড়তে আগ্রহী ডোনাল্ড ট্রাম্প, দাবি অধিকারের

বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমান সুযোগ নিশ্চিত না হবে, ততক্ষণ নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে বলেন, দেশে আইন-শৃঙ্খলার দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি; উল্টো হাসপাতাল ভাঙচুর, মাদকের প্রসার ও চাঁদাবাজি বেড়েছে। পুলিশের এক ডিআইজির মালিকানাধীন বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া মালামালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যারা রক্ষার দায়িত্বে থাকে তারাই যদি ফসল বিনষ্ট করে, তবে দেশ সুরক্ষিত থাকবে কীভাবে। যদিও পুলিশ বাহিনীর সব সদস্যের ওপর দায় চাপাতে তিনি রাজি নন, কারণ বাহিনীর ভেতরে অনেক দেশপ্রেমিক সদস্য রয়েছেন। প্রতিনিয়তই দেশে কি ঘটছে তা সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসছে। তার প্রাইম ডিউটি হচ্ছে নিজের মন্ত্রণালয় লোক আফটার করা। পুলিশের একজন কর্মকর্তার বাড়িতে কি ঘটেছিল। তার মানে আগ থেকে জনগণকে ভয় দেখানো হচ্ছে। যখন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের নিশ্চিয়তা পাবো তখন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। প্রধানমন্ত্রী প্রমাণ করুক কোথায় কখন, কার সঙ্গে, কীভাবে। সীমান্ত দিয়ে যদি দেশে অবৈধ টাকা ও প্রাণঘাতী অস্ত্র প্রবেশ করে, তাহলে সরকার থেকে লাভ কী। যে বেড়া আমাদেরকে রক্ষা করবে স্বয়ং বেড়াই যদি আমাদের সমস্ত ফসলকে বিনষ্ট করে দেয় তাহলে হু উইল প্রটেক্ট আস।

প্রধানমন্ত্রীর গোয়েন্দা তথ্যের দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের কথা বলে পাবলিকলি কাউকে এভাবে অভিযুক্ত করা যায় না। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের কোনো গোপন সম্পর্ক নেই এবং প্রধানমন্ত্রীকে সেই প্রমাণ জনসমক্ষে উপস্থাপন করতে হবে। এছাড়া বিএনপি নেতাদের বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলগুলো নানা কথা বললেও জনগণ এখন প্রকৃত পরিবর্তন চায়। আমরা বিজয়ী হলে সাংবাদিকদের জব্দ হওয়া অফিসগুলো খুলে দেওয়া হবে এবং তাদের নামে করা সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি সকল মন্ত্রণালয়ে সার্ভিস দেন। অতি সম্প্রতি বরকতউল্লাহ বুলু সাহেব কী বললেন।

জামায়াত কেন দ্রুত আন্দোলনের পথে গেল—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণভোটের রায় মেনে নিলে লংমার্চের প্রয়োজন হতো না। মৌলভীবাজারে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও দাপ্তরিক কর্মসূচি শেষে বিকালে তিনি জেলা জামায়াতের দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। ডা. শফিকুর রহমান পুনরায় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জনগণের পছন্দের মাধ্যমেই প্রকৃত নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসা উচিত এবং জামায়াত সেই জনগণের অধিকারের প্রশ্নে সবসময় লড়ে যাবে। প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী। একজন দলীয় লোককে কেন আনতে হবে এখানে এ প্রশ্ন জনগণের।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

তামিলনাড়ুতে দলিত ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় শ্রেণি শিক্ষক গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম
তামিলনাড়ুতে দলিত ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় শ্রেণি শিক্ষক গ্রেপ্তার

ভারতের তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরে ১৬ বছর বয়সী একাদশ শ্রেণির এক দলিত শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে গভীর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার পিলামেডু এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে গরুর গোশত খাওয়ার বিষয়টি প্রকাশের পর থেকে জাতপাতের বিদ্বেষ ও বুলিংয়ের শিকার হয়ে আসছিল সে। এই অসহনীয় হেনস্তাই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর কারণ বলে দাবি তাদের।

শিক্ষার্থীর মায়ের ভাষ্যমতে, শ্রেণিশিক্ষক পি বিজয়কুমার তফসিলি জাতিভুক্ত শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের শনাক্ত করতে চেয়েছিলেন। সেই সময় শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে যারা গরুর গোশত খায়, তাদের দাঁড়াতে বললে ওই শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন দাঁড়িয়েছিল। এরপর থেকেই দুই সহপাঠী নিয়মিত তাকে নিয়ে কটূক্তি, খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিদ্রূপ এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন শুরু করে। বৃত্তির সুবিধা নিতে ওই শিক্ষার্থীও নাম লেখায়।

পরিবারের অভিযোগ, শ্রেণিশিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষক অরুণ কুমারকে বারবার বিষয়টি জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। শিক্ষার্থীর মা জানান, তার ছেলে আইনজীবী হতে চেয়েছিল। তবে স্কুলে ক্রমাগত হেনস্তার কারণে কয়েকদিন সে ক্লাসেও যায়নি। এ ঘটনার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করছেন তিনি এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ছেলের কাছে স্কুলে গিয়ে অভিযোগ জানানোর কথা ভাবলেও সে আশঙ্কা করেছিল, এতে তাকে আরো একঘরে করা হতে পারে এবং হেনস্তা বাড়তে পারে। পুলিশের ধারণা, পরে সে বাড়িতে ফিরে আসে। দুপুরের দিকে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করা তার মা বাড়িতে ফিরে ছেলেকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। শিক্ষার্থীর বাবা কেরালার একটি অবকাশযাপন কেন্দ্রে কাজ করেন।

আরও পড়ুন: ইরানের নিশানায় মার্কিন নাগরিক, হত্যার ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত পর্যায়ে

পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পিলামেডু থানা পুলিশ অভিযুক্ত শ্রেণিশিক্ষক পি বিজয়কুমারকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া প্রধান শিক্ষক অরুণ কুমার এবং ওই দুই সহপাঠীকেও মামলায় আসামি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বুধবার সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি।

ঘটনার প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর স্বজনেরা স্থানীয় থানায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তামিলনাড়ু রাজ্যের তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতি কমিশন কোয়েম্বাটুরের পুলিশ কমিশনারের কাছে এক সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন তলব করেছে।

দলিত অধিকারকর্মী সুরজ কুমার বৌদ্ধ ১৬ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে একটি ‘প্রাতিষ্ঠানিক হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, দলিত খ্রিষ্টান ও অধিকারকর্মী শালিন মারিয়া লরেন্স উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলোতে গরুর গোশত খাওয়ার অজুহাতে শিক্ষার্থীদের প্রকাশ্যে শনাক্ত করার প্রবণতা বাড়ছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, এ ধরনের বৈষম্য শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে এবং শিক্ষাব্যবস্থায় জাতপাতভিত্তিক বিদ্বেষ নির্মূল করা জরুরি। এর ফলে দলিত শিশুরা জাতপাতভিত্তিক হেনস্তার ঝুঁকিতে পড়ছে।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

ইরানের নিশানায় মার্কিন নাগরিক, হত্যার ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত পর্যায়ে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম
ইরানের নিশানায় মার্কিন নাগরিক, হত্যার ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত পর্যায়ে

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন কর্মকর্তা ও কর্মীদের লক্ষ্য করে ইরান তাদের নাশকতার তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটন গত ২৩ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো একটি বিশেষ মেমোতে এমন উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন। মেমোটির অনুলিপি মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফকেও দেয়া হয়েছে। ক্লেটনের মতে, মার্কিন নাগরিকদের হত্যার উদ্দেশ্যে ইরান বর্তমানে অত্যন্ত সক্রিয় এবং এই ষড়যন্ত্র এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে বা ‘উচ্চ পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রথম এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা একটি মেমোতে এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক জে ক্লেটন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানপন্থি হুতি বাহিনীর কাছ থেকে হুমকি বৃদ্ধির বিষয়টি সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: তামিলনাড়ুতে দলিত ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় শ্রেণি শিক্ষক গ্রেপ্তার

আরও পড়ুন: ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন আজ

নিরাপত্তা ঝুঁকির এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত বুধবার সৌদি আরবে অবস্থিত তাদের কূটনৈতিক মিশনের জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অবিলম্বে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন মিশনগুলো থেকেও পরিবার সদস্যদের সরিয়ে নেয়ার প্রস্তুতি চলছে। এর আগে গত শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পারস্য উপসাগরসহ মধ্যপ্রাচ্যের এক ডজনেরও বেশি দেশের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করে। এর মধ্যে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক ও ইসরাইল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে সৌদি আরবে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনে জনবল কমিয়ে আনার পর এ সতর্কবার্তা সামনে এলো।

এ বিষয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন দূতাবাসে জনবল কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যালোচনার অংশ। মূলত ইরান সমর্থিত হুতিদের হামলার ঝুঁকি এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইরানের সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রের তথ্যের ভিত্তিতেই এই মিশনগুলোতে ‘রেস্ট্রিকটেড অপারেশনস স্ট্যাটাস’ বা সীমিত কার্যক্রমের নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। ইরান যুদ্ধের আট মাস শেষ হতে চললেও পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অস্থিরতা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনসমর্থনের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ক্রমাগত হামলার ঘটনাও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নতুন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে ইরান যুদ্ধ আট মাস পূর্ণ করে নবম মাসে প্রবেশের দ্বারপ্রান্তে।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম
ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন আজ

আজ ২৫ অক্টোবর ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন। ১৯৯৫ সালের এই দিনে ঢাকার হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। জাইমা রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র কন্যা। তার দাদা ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বীর উত্তম জিয়াউর রহমান এবং দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া। এছাড়া তার নানা নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান। জাইমা রহমানের বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রভাবশালী এক পরিবারে। পারিবারিক এই ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক আবহের মধ্যে বড় হলেও জাইমা রহমান নিজের পথটি বেছে নিয়েছেন আইন ও জনসেবার অঙ্গনে।

আরও পড়ুন: ইরানের নিশানায় মার্কিন নাগরিক, হত্যার ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত পর্যায়ে

আরও পড়ুন: ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকটে উত্তাল রাজপথ

শৈশবে ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রোডের ৬ নম্বর বাসায় বেড়ে ওঠেন জাইমা। ২০০৮ সালে বাবার সঙ্গে তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান। দীর্ঘ সময় বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ারে ব্যস্ত থাকার পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি মা-বাবার সঙ্গে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এর আগে ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের সম্মানজনক প্রতিষ্ঠান ইনার টেম্পল থেকে তিনি ‘বার-অ্যাট-ল’ ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশের আইনি ব্যবস্থার সাথে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬ সালের জুন মাসে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তার বাবা তারেক রহমান গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি বাবার সঙ্গে ২০০৮ সালে লন্ডনে চলে যান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর মা-বাবার সঙ্গে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। জাইমা যুক্তরাজ্যের ‘কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন’ থেকে আইনে স্নাতক (এলএলবি) সম্পন্ন করেন।

পেশাগত জীবনে তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বেশ সক্রিয়। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ব্যারিস্টার জাইমা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা বা ‘লিগ্যাল অফিসার’ হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি সভাপতির এক্সিকিউটিভ অফিসের অধীনে আন্তর্জাতিক আইনি বিষয়গুলো দক্ষতার সাথে তদারকি করছেন।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com