সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫২ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল ২৬ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে তিনি এই সফর করবেন, যা শেষ হবে ২৯ অক্টোবর। সফরে ২৭ অক্টোবর দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি শীর্ষ পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

সফরের মূল আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা বিগ-বি মহাপরিকল্পনা। ২০১৪ সালে তৎকালীন জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের উদ্যোগে এই মহাপরিকল্পনাটি নেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনা করে এটিকে চারটি নতুন স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। সফরের শেষভাগে দুই নেতার যৌথ বিবৃতিতে এই হালনাগাদ রূপরেখা উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। হালনাগাদ করা বিগ–বিতে বিনিয়োগ, জ্বালানি, সমুদ্র নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতি একসুতায় বাঁধা পড়ছে। ২০১৪ সালের বিগ-বি পরিকল্পনা প্রধানত মাতারবাড়ীকে ঘিরে শিল্প ও বন্দর গড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।

আরও পড়ুন: পিরোজপুরে শেষ হলো বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন

জাপানের সঙ্গে অংশীদারত্বের নতুন মাত্রা হিসেবে বিনিয়োগ ও জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাপানি গণমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার তথ্য অনুযায়ী, জাপানি বেসরকারি খাত আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৭৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান প্রকল্প হলো টয়োটা কোম্পানির প্রায় ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগে বাংলাদেশে একটি অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্ট স্থাপন করা। এটি কার্যকর হলে দেশে অটোমোবাইল শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ গড়ে উঠবে এবং তরুণ প্রকৌশলীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

জ্বালানি খাতে সংকট সমাধানে জাপানের বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান ‘জেরা’ মহেশখালীর মাতারবাড়ী এলাকায় এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে এই প্রস্তাবটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এ ছাড়া সফরে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য প্রদান করবেন এবং চিবার ফুতসুতে বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন।

আরও পড়ুন: ের জবাব চেয়েছে ঢাকা: সৌদির কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ

বিগ-বি মহাপরিকল্পনার নতুন চারটি স্তম্ভের মধ্যে রয়েছে আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি, ঝুঁকি মোকাবিলা ও ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ, আধুনিক ব্যবসায়িক নিয়ম প্রতিষ্ঠা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা। বিশেষ করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে পণ্য পরিবহনের লজিস্টিক হাব তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাপান বর্তমানে কোস্টগার্ডের জন্য ৩৫ মিটার দীর্ঘ আধুনিক টহল জাহাজ হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও এগিয়ে নিচ্ছে। এর আগে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে পাঁচটি টহল নৌযান দিয়েছে জাপান। দ্বিতীয়ত, ঝুঁকি মোকাবিলা ও ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা, যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৈশ্বিক সংঘাত বা সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন হলে বাংলাদেশকে বিকল্প সামুদ্রিক পথ হিসেবে প্রস্তুত রাখা যায়। টোকিওর একটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, এই সফরে কোস্টগার্ডকে ৩৫ মিটার দীর্ঘ একটি আধুনিক টহল জাহাজ দেওয়ার প্রক্রিয়াও এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে জাপান ঐতিহাসিকভাবেই বিশ্বস্ত সহযোগী। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎ প্রকল্প, ঢাকা মেট্রোরেল এবং হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের মতো মেগা প্রকল্পগুলো এর প্রমাণ। তবে এখনকার কৌশলগত সম্পর্কের মূল লক্ষ্য কেবল ঋণ নয়, বরং বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানো। গত ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইপিএ স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা বর্তমান সফরের আলোচনার ভিত্তি আরও শক্তিশালী করেছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, টোকিওর ভূমিকা এত দিন মূলত ঋণনির্ভর সহায়তায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন জোর দেওয়া হচ্ছে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব ও সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগে (পিপিপি)। প্রথমত, আঞ্চলিক সংযোগ ও সমন্বিত লজিস্টিকসকে প্রাধান্য দিয়ে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও এলএনজি অবকাঠামোকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্রে পরিণত করা। তৃতীয়ত, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব ও ব্যবসার আধুনিক নিয়ম প্রতিষ্ঠা করা, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের ‘নিয়মভিত্তিক’ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো যায়।

বঙ্গোপসাগরের ভৌগোলিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে জাপান ও বাংলাদেশের এই কৌশলগত অংশীদারত্ব ক্রমশ গভীর হচ্ছে।

একদিকে চীন তার ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ বা বিআরআইয়ের মাধ্যমে অঞ্চলে উপস্থিতি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে জাপান তার মিত্রদের নিয়ে ‘অবাধ ও মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগর’ বা এফওআইপির ধারণা নিয়ে কাজ করছে। এই বাস্তবতায় অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী বাংলাদেশ জাপানের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। মাতারবাড়ী কেন্দ্রিক শিল্প ও বন্দর সুবিধা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে তা শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দেশীয় সরবরাহকারীরা যদি যন্ত্রাংশ ও কেব্‌ল তৈরির কাজ পায়, তাহলে শক্তিশালী ‘ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ’ শিল্প গড়ে উঠতে পারে। শিল্প খাতের গ্যাস–সংকট বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির বড় বাধা। তবে বৈশ্বিক জ্বালানিবাজারের অস্থিরতা ও ডলারের দাম বড় চ্যালেঞ্জ থেকে যাবে। বঙ্গোপসাগর শুধু বাংলাদেশের বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার নয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে যুক্ত করার প্রধান সামুদ্রিক পথও। একদিকে চীন অঞ্চল ও পথের উদ্যোগের (বিআরআই) মাধ্যমে এ অঞ্চলে অবকাঠামোগত উপস্থিতি ও প্রভাব বাড়াচ্ছে।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

তামিলনাড়ুতে দলিত ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় শ্রেণি শিক্ষক গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম
তামিলনাড়ুতে দলিত ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় শ্রেণি শিক্ষক গ্রেপ্তার

ভারতের তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরে ১৬ বছর বয়সী একাদশ শ্রেণির এক দলিত শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে গভীর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার পিলামেডু এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে গরুর গোশত খাওয়ার বিষয়টি প্রকাশের পর থেকে জাতপাতের বিদ্বেষ ও বুলিংয়ের শিকার হয়ে আসছিল সে। এই অসহনীয় হেনস্তাই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর কারণ বলে দাবি তাদের।

শিক্ষার্থীর মায়ের ভাষ্যমতে, শ্রেণিশিক্ষক পি বিজয়কুমার তফসিলি জাতিভুক্ত শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের শনাক্ত করতে চেয়েছিলেন। সেই সময় শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে যারা গরুর গোশত খায়, তাদের দাঁড়াতে বললে ওই শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন দাঁড়িয়েছিল। এরপর থেকেই দুই সহপাঠী নিয়মিত তাকে নিয়ে কটূক্তি, খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিদ্রূপ এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন শুরু করে। বৃত্তির সুবিধা নিতে ওই শিক্ষার্থীও নাম লেখায়।

পরিবারের অভিযোগ, শ্রেণিশিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষক অরুণ কুমারকে বারবার বিষয়টি জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। শিক্ষার্থীর মা জানান, তার ছেলে আইনজীবী হতে চেয়েছিল। তবে স্কুলে ক্রমাগত হেনস্তার কারণে কয়েকদিন সে ক্লাসেও যায়নি। এ ঘটনার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করছেন তিনি এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ছেলের কাছে স্কুলে গিয়ে অভিযোগ জানানোর কথা ভাবলেও সে আশঙ্কা করেছিল, এতে তাকে আরো একঘরে করা হতে পারে এবং হেনস্তা বাড়তে পারে। পুলিশের ধারণা, পরে সে বাড়িতে ফিরে আসে। দুপুরের দিকে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করা তার মা বাড়িতে ফিরে ছেলেকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। শিক্ষার্থীর বাবা কেরালার একটি অবকাশযাপন কেন্দ্রে কাজ করেন।

আরও পড়ুন: ইরানের নিশানায় মার্কিন নাগরিক, হত্যার ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত পর্যায়ে

পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পিলামেডু থানা পুলিশ অভিযুক্ত শ্রেণিশিক্ষক পি বিজয়কুমারকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া প্রধান শিক্ষক অরুণ কুমার এবং ওই দুই সহপাঠীকেও মামলায় আসামি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বুধবার সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি।

ঘটনার প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর স্বজনেরা স্থানীয় থানায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তামিলনাড়ু রাজ্যের তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতি কমিশন কোয়েম্বাটুরের পুলিশ কমিশনারের কাছে এক সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন তলব করেছে।

দলিত অধিকারকর্মী সুরজ কুমার বৌদ্ধ ১৬ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে একটি ‘প্রাতিষ্ঠানিক হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, দলিত খ্রিষ্টান ও অধিকারকর্মী শালিন মারিয়া লরেন্স উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলোতে গরুর গোশত খাওয়ার অজুহাতে শিক্ষার্থীদের প্রকাশ্যে শনাক্ত করার প্রবণতা বাড়ছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, এ ধরনের বৈষম্য শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে এবং শিক্ষাব্যবস্থায় জাতপাতভিত্তিক বিদ্বেষ নির্মূল করা জরুরি। এর ফলে দলিত শিশুরা জাতপাতভিত্তিক হেনস্তার ঝুঁকিতে পড়ছে।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

ইরানের নিশানায় মার্কিন নাগরিক, হত্যার ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত পর্যায়ে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম
ইরানের নিশানায় মার্কিন নাগরিক, হত্যার ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত পর্যায়ে

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন কর্মকর্তা ও কর্মীদের লক্ষ্য করে ইরান তাদের নাশকতার তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটন গত ২৩ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো একটি বিশেষ মেমোতে এমন উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন। মেমোটির অনুলিপি মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফকেও দেয়া হয়েছে। ক্লেটনের মতে, মার্কিন নাগরিকদের হত্যার উদ্দেশ্যে ইরান বর্তমানে অত্যন্ত সক্রিয় এবং এই ষড়যন্ত্র এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে বা ‘উচ্চ পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রথম এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা একটি মেমোতে এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক জে ক্লেটন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানপন্থি হুতি বাহিনীর কাছ থেকে হুমকি বৃদ্ধির বিষয়টি সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: তামিলনাড়ুতে দলিত ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় শ্রেণি শিক্ষক গ্রেপ্তার

আরও পড়ুন: ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন আজ

নিরাপত্তা ঝুঁকির এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত বুধবার সৌদি আরবে অবস্থিত তাদের কূটনৈতিক মিশনের জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অবিলম্বে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন মিশনগুলো থেকেও পরিবার সদস্যদের সরিয়ে নেয়ার প্রস্তুতি চলছে। এর আগে গত শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পারস্য উপসাগরসহ মধ্যপ্রাচ্যের এক ডজনেরও বেশি দেশের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করে। এর মধ্যে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক ও ইসরাইল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে সৌদি আরবে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনে জনবল কমিয়ে আনার পর এ সতর্কবার্তা সামনে এলো।

এ বিষয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন দূতাবাসে জনবল কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যালোচনার অংশ। মূলত ইরান সমর্থিত হুতিদের হামলার ঝুঁকি এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইরানের সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রের তথ্যের ভিত্তিতেই এই মিশনগুলোতে ‘রেস্ট্রিকটেড অপারেশনস স্ট্যাটাস’ বা সীমিত কার্যক্রমের নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। ইরান যুদ্ধের আট মাস শেষ হতে চললেও পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অস্থিরতা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনসমর্থনের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ক্রমাগত হামলার ঘটনাও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নতুন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে ইরান যুদ্ধ আট মাস পূর্ণ করে নবম মাসে প্রবেশের দ্বারপ্রান্তে।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম
ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন আজ

আজ ২৫ অক্টোবর ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন। ১৯৯৫ সালের এই দিনে ঢাকার হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। জাইমা রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র কন্যা। তার দাদা ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বীর উত্তম জিয়াউর রহমান এবং দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া। এছাড়া তার নানা নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান। জাইমা রহমানের বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রভাবশালী এক পরিবারে। পারিবারিক এই ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক আবহের মধ্যে বড় হলেও জাইমা রহমান নিজের পথটি বেছে নিয়েছেন আইন ও জনসেবার অঙ্গনে।

আরও পড়ুন: ইরানের নিশানায় মার্কিন নাগরিক, হত্যার ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত পর্যায়ে

আরও পড়ুন: ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকটে উত্তাল রাজপথ

শৈশবে ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রোডের ৬ নম্বর বাসায় বেড়ে ওঠেন জাইমা। ২০০৮ সালে বাবার সঙ্গে তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান। দীর্ঘ সময় বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ারে ব্যস্ত থাকার পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি মা-বাবার সঙ্গে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এর আগে ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের সম্মানজনক প্রতিষ্ঠান ইনার টেম্পল থেকে তিনি ‘বার-অ্যাট-ল’ ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশের আইনি ব্যবস্থার সাথে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬ সালের জুন মাসে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তার বাবা তারেক রহমান গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি বাবার সঙ্গে ২০০৮ সালে লন্ডনে চলে যান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর মা-বাবার সঙ্গে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। জাইমা যুক্তরাজ্যের ‘কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন’ থেকে আইনে স্নাতক (এলএলবি) সম্পন্ন করেন।

পেশাগত জীবনে তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বেশ সক্রিয়। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ব্যারিস্টার জাইমা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা বা ‘লিগ্যাল অফিসার’ হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি সভাপতির এক্সিকিউটিভ অফিসের অধীনে আন্তর্জাতিক আইনি বিষয়গুলো দক্ষতার সাথে তদারকি করছেন।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com