মাথাপিছু আয়ে ভারতকে পেছনে ফেলছে বাংলাদেশ: আইএমএফ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাথাপিছু জিডিপির সূচকে এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারতকে পেছনে ফেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। চলতি বছর বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু গড় আয় ২,৮৮৬ ডলারে উন্নীত হতে পারে, যেখানে ভারতের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ দাঁড়াবে ২,৭৪৯ ডলারে। যদিও সামগ্রিক অর্থনীতির বিচারে ভারত বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় আট গুণ বড়, তবুও জনসংখ্যা অনুপাতে মাথাপিছু আয়ের এই সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকছে।
আরও পড়ুন: নিষিদ্ধ হয়েছিল নাটকটি, স্তালিন দেখেছিলেন ১৪ বার: মিখাইল বুলগাকভের শতবর্ষের ইতিহাস
১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর গত দুই দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এই উত্থান বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশের প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাকশিল্প, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এবং উৎপাদনমুখী কর্মক্ষেত্রে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এই অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। তবে আইএমএফ-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই ব্যবধান সাময়িক হতে পারে এবং ২০২৯ সালের দিকে ভারত মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে পুনরায় এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর গত দুই দশকে বাংলাদেশের এই অর্থনৈতিক অগ্রগতি বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। আইএমএফের পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েক বছর এই ব্যবধান এদিক-সেদিক হলেও ২০২৯ সালের দিকে ভারত মাথাপিছু আয়ে আবার এগিয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: ব্যালন ডি’অর এবং ফুটবলের লড়াইয়ে ঠাসা আজকের দিন
উন্নতির এই চিত্র থাকলেও অর্থনীতিতে বেশকিছু বড় চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। ভারতের চলতি বছরের প্রবৃদ্ধি যেখানে ৭ শতাংশের প্রত্যাশায় রয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.৬ শতাংশে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ৮.৭ শতাংশের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিত্যপণ্যের খরচ মেলাতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। এছাড়া জীবনযাত্রার ব্যয় ও ক্রয়ক্ষমতার বাস্তবতায় ভারত এখনো বাংলাদেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। স্থানীয় বাজার ও জীবনযাত্রার খরচ বিবেচনা করলে ভারতের মানুষের জিনিসপত্র কেনার ক্ষমতা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি।
অর্থনৈতিক কাঠামোর দিক থেকেও দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। ভারতের অর্থনীতি বেশ বৈচিত্র্যময়, যেখানে প্রযুক্তি ও বড় সেবা খাতের বিশাল অবদান রয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানিতে বাড়তি খরচ গুণতে হচ্ছে, যা উভয় দেশের অর্থনীতিতেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে এই সাফল্যের উল্টো পিঠে বেশ কিছু নতুন চ্যালেঞ্জও উঁকি দিচ্ছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি দুই দেশের জন্যই দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ তার জ্বালানি চাহিদার প্রায় পুরোটাই বিদেশ থেকে আনে এবং তৈরি পোশাকের চালানও এই পথেই বিদেশে যায়, ফলে পরিবহন খরচ বাড়ায় অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
পরিশেষে, মাথাপিছু জিডিপির এই গড় হিসাব সমাজের প্রকৃত আয়বৈষম্য বা ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান পুরোপুরি প্রকাশ করে না। গত এক দশকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও এর সুফল দেশের সব মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছায়নি, বরং সম্পদ মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। তাই এই পরিসংখ্যান যেমন অর্থনৈতিক সফলতার ইঙ্গিত দেয়, তেমনি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বৈষম্য নিরসনে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদও তৈরি করে।





















