ঢাকা-চট্টগ্রাম গ্রিডে বিপর্যয়, তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গতকাল ঢাকা ও চট্টগ্রামের বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়। দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটের দিকে এই বিভ্রাটের শুরু হয়। এর ফলে ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন ও মতিঝিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এছাড়া মগবাজার, বনশ্রী, খিলগাঁও, মালিবাগ, শান্তিনগর ও মধুবাগের মতো এলাকাগুলোতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেমন সচিবালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়, যা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে। এতে এসব এলাকায় ভোগান্তিতে পড়েন গ্রাহকরা।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যাচ্ছেন ব্রাজিলের বলসোনারো, গ্রেপ্তার দাবি লুলার দলের
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেঘনাঘাট-হরিপুর জাতীয় গ্রিড লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়ার কারণেই এই বিঘ্ন ঘটে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরপরই ন্যাশনাল লোড ডেসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) তত্ত্বাবধানে গ্রিড পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর গতকাল দুপুর আড়াইটায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিবি) জানিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যেই সব গ্রিড লাইন ও উপকেন্দ্র সচল হয়েছে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পর্যায়ক্রমে চালু হওয়ায় বিক্ষিপ্ত লোডশেডিংয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: ২২ বছরের ঐতিহাসিক মহাকাশ অভিযানের সমাপ্তি টানল নাসা
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সঞ্চালন-২ এর প্রধান প্রকৌশলী (অতিঃ দায়িত্ব) সৈয়দ এবাদুল্লাহ হায়দার আলীর নেতৃত্বে এই কমিটি আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। পিজিবি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল।
পিডিবি-এর তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৬০১ মেগাওয়াট এবং উৎপাদন ছিল ১৪ হাজার ৩০৩ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ২৯৮ মেগাওয়াট উৎপাদন ঘাটতি থাকলেও এই ঘাটতি বিপর্যয়ের মূল কারণ কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা সরাসরি মন্তব্য করেননি। বর্তমানে গ্রিডের পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এর আগেও জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের বিপর্যয়ের নজির রয়েছে। ২০২২ সালের ৪ঠা অক্টোবর দুপুর ২টা ৫ মিনিটে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে বিপর্যয় ঘটেছিল, যার ফলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চল বিদ্যুৎহীন ছিল। তখন দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির দুইজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এছাড়াও ২০১৪ সালের ১লা নভেম্বর জাতীয় গ্রিডের ত্রুটির কারণে সারা দেশে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এটিকে সাময়িক অসুবিধা উল্লেখ করে কোম্পানিটি গ্রাহকদের কাছে দুঃখও প্রকাশ করেছে। তবে এই ঘাটতির সঙ্গে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা, তা জানা যায়নি।

















