মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনসমর্থন ৩২ শতাংশে পৌঁছেছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন কিছুটা বেড়ে ৩২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ জরিপে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় তাঁর জনপ্রিয়তায় ১ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে। গত সপ্তাহে তা রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। এসব জরিপ জাতীয় পর্যায়ের জনগণের মতামত সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়। অথচ এই প্রতিযোগিতাগুলোই সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করে। ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প ইরানে সামরিক হামলার নির্দেশ দেওয়ার পর জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায়, যার কারণে মূল্যস্ফীতিও অনেক বেড়েছে।
রিপাবলিকান পার্টির নেতারা বর্তমানে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেটে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে মরিয়া লড়াই করছেন। জরিপটিতে ভোটারদের কাছে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, তাঁরা কংগ্রেসে কোন দলকে দেখতে চান। এই জেনেরিক ব্যালট জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন ছিল ৪৭ শতাংশ, যেখানে রিপাবলিকানদের পক্ষে সমর্থন ছিল ৩৬ শতাংশ। এর জবাবে নিবন্ধিত ভোটাররা রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্র্যাটদের বেশি পছন্দ করেছেন। তাঁদের সমর্থন ৫০ শতাংশ, রিপাবলিকানদের ৪১ শতাংশ। আর এসব ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের কিছু কাঠামোগত সুবিধা রয়েছে। তাঁদের সমর্থন ৫৩ শতাংশ, রিপাবলিকানদের ৪৪ শতাংশ।
আরও পড়ুন: ইসরাইল ও মার্কিন নির্বাচন: বিশ্ব রাজনীতির নতুন মোড়
জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ১১ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, আজই নির্বাচন হলে কাকে ভোট দেবেন তা তাঁরা এখনও ঠিক করতে পারেননি। যদিও এই ব্যবধান ১৯ অক্টোবরের জরিপের চেয়ে ১ শতাংশ পয়েন্ট কম, তবুও দুই দলের লড়াইয়ের হাড্ডাহাড্ডি অবস্থা স্পষ্ট। সিদ্ধান্তহীনতায় থাকা ভোটারদের ঝোঁক বিবেচনায় নিলে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে ৯ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, বাস্তবে কতজন ভোটার গিয়ে ভোট দেন।
কংগ্রেসের কোনো কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালে তা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আরও পড়ুন: জাপান সফরে ৬৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগের আলোচনা: প্রধানমন্ত্রী
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদে জয়ের সম্ভাবনা থাকলেও সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের জন্য জয় পাওয়া বেশ কঠিন হবে।
এছাড়া দেশজুড়ে চালানো এই জাতীয় জরিপে অনেক সময় অঙ্গরাজ্যভিত্তিক সূক্ষ্ম প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলো প্রতিফলিত হয় না, যা কংগ্রেসের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখে। দেশজুড়ে পাঁচ দিন ধরে চলা এই জরিপে সাধারণ প্রশ্নও করা হয়েছিল। তবে এর মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যভিত্তিক প্রতিযোগিতার সূক্ষ্ম বিষয়গুলো ধরা পড়ে না।
মূল্যস্ফীতি এবারের নির্বাচনের একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭৩ শতাংশ ভোটার মনে করেন, বর্তমানে জীবনযাত্রার ব্যয় ভুল পথে এগোচ্ছে এবং খরচ অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। তবে অর্থনীতির বিষয়ে ডেমোক্র্যাটদের নীতিকে ৩৭ শতাংশ ভোটার সমর্থন দিয়েছেন, যেখানে রিপাবলিকানদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৩ শতাংশ।
নির্বাচনে ভোটারদের উৎসাহের দিক থেকেও পার্থক্যের চিত্র পাওয়া গেছে।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ৪৬ শতাংশ ভোটার নির্বাচন নিয়ে অত্যন্ত উৎসাহী, অথচ রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে এই হার মাত্র ৩০ শতাংশ। অনলাইনে পরিচালিত এই জরিপে মোট ১ হাজার ৬৭৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক অংশ নেন, যাদের মধ্যে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ১ হাজার ২৮০ জন। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতির হারই এই প্রতিযোগিতার আসল চিত্র তুলে ধরবে। অন্যদিকে, মাত্র ৩০ শতাংশ রিপাবলিকান একই কথা বলেছেন।

















