হরমুজ প্রণালিতে ইন্টারনেট ক্যাবল নিয়ে ইরানের হুমকি, কাতারের উদ্বেগ

হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ সাবমেরিন ক্যাবলগুলোতে হামলার হুমকির তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে কাতার। সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এ ধরনের উসকানিমূলক ইঙ্গিত দেওয়ার পর কাতার এই সতর্কবার্তা দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি এবং জনজীবনকে ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে জানানো হয় সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইরানের বাহিনীটি ওই হুমকি দেয় বাহিনীটি।
আরও পড়ুন: নাব্যতা ও শিল্পবর্জ্যের দূষণে মৃতপ্রায় হবিগঞ্জের সুতাং নদী
আইআরজিসির মুখপাত্র হুসেইন মোহেব্বি তেহরানের স্যাক্রেড ডিফেন্স জাদুঘরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে সাতটি প্রধান ইন্টারনেট ফাইবার-অপটিক ক্যাবল বিস্তৃত রয়েছে।
তিনি এই ক্যাবলগুলোকে ‘নতুন লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং নতুন অস্ত্র প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দেন। এর আগে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়িও সতর্ক করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সামরিক সংঘাত শুরু হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা সেন্টার এবং সমুদ্রের নিচের ক্যাবলগুলো তাদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শুধু তাদের জানাতে চাই, নতুন লক্ষ্যবস্তু প্রকাশ করা হবে।
আরও পড়ুন: দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সৌদি কর্তৃপক্ষের নীরবতায় ধোঁয়াশা
টেলিযোগাযোগ বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টেলিজিওগ্রাফির তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি ডেটা আদান-প্রদান হয় লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে। এর আগে মার্চের শুরুতে আমিরাত ও বাহরাইনে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের অবকাঠামোর ওপর ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যা বিদ্যুৎ ও ক্লাউড সেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করে। সেই অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতেই নতুন এই হুমকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক ইব্রাহিম আল-হাশমি মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সমুদ্রের তলদেশের এসব ক্যাবলে কোনো ধরনের ক্ষতি হলে ইরানসহ এই অঞ্চলের প্রতিটি দেশই চরম ক্ষতির শিকার হবে। তিনি আরও বলেন, এই প্রণালির পানি লবণ উৎপাদন, সেচ ও মৎস্য আহরণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা পানির নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
মোহেব্বি তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবশিষ্ট শক্তিকে এই অঞ্চল থেকে বিতাড়িত করার যে অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে কাতার জলপথটিকে কেন্দ্র করে সব ধরনের হুমকি ও হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। কাতার জোর দিয়ে বলেছে, পারস্পরিক উত্তেজনার বলি হওয়া থেকে প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক অবকাঠামোকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার অবশিষ্টাংশ বলে তিনি যাকে উল্লেখ করেছেন, সেগুলোকে অঞ্চল থেকে বিতাড়িত করার অঙ্গীকার করেছেন।


















