শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

ডায়েট করেও ওজন কমছে না? যে ৯টি ভুল হতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২২ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ডায়েট করেও ওজন কমছে না? যে ৯টি ভুল হতে

অনেকেই ওজন কমানোর জন্য কঠোর ডায়েট পরিকল্পনা অনুসরণ করেন, কিন্তু আশানুরূপ ফল পান না। কেউ কেউ ডায়েট শেষ করার পরই দ্রুত আগের ওজনে ফিরে যান। ডায়েট করেও কেন ওজন কমে না বা কমানো ওজন কেন ধরে রাখা যায় না, তার পেছনে বেশ কিছু সাধারণ ভুল ও অসংগতি দায়ী। সঠিক ও কার্যকর উপায়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে নয়টি সাধারণ ভুল সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বন্ধু, পরিচিত ব্যক্তি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সারের ডায়েট পরিকল্পনা দেখে অনেকেই তা অনুসরণ করতে শুরু করেন।

প্রথম ভুলটি হলো দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকা। অনেকে দ্রুত ওজন কমানোর আশায় সকাল, দুপুর বা রাতের খাবার পুরোপুরি বাদ দেন। মনে রাখা প্রয়োজন, দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। এতে শরীরে ক্লান্তি আসে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত উল্টো ফল দেয়। দ্বিতীয়ত, ক্যালরি হিসাব করতে গিয়ে অনেকেই ভুল খাবার বেছে নেন। ভাত বাদ দিয়ে ওটস বা মুড়ি খাওয়ার প্রবণতা থাকলেও, এগুলো পরিমাণে বেশি খেলে ক্যালরি উল্টো বেড়ে যেতে পারে। তাই শুধু খাবার পরিবর্তন নয়, সুষম পুষ্টি ও পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। যেমন, কার্বোহাইড্রেট কমানোর জন্য ভাত বাদ দিয়ে তার পরিবর্তে মুড়ি, ওটস বা নুডলস খেতে শুরু করেন। ফলে অন্যান্য সময়ে খাবার নিয়ন্ত্রণ করলেও মোট ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে বাদামে ক্যালরি বেশি থাকে। বেসাল মেটাবলিক রেট (বিএমআর), অর্থাৎ বিশ্রামকালীন অবস্থায় শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তির পরিমাণও ব্যক্তিভেদে আলাদা। সুস্থ থাকুন, সবল থাকুন, বাস্তবসম্মতভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন।

তৃতীয়ত, ডায়েটের পাশাপাশি বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। সপ্তাহের অধিকাংশ দিন ডায়েট মেনে চললেও মাঝে মাঝে ফাস্ট ফুড, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস বা উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার খেলে ওজন কমানোর লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হয়। চতুর্থত, বিদেশি বা দামী খাবারের প্রতি অতিরিক্ত মোহ। ওজন কমানোর জন্য চিয়া সিড, অলিভ অয়েল বা অ্যাপল সাইডার ভিনেগারের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে দেশি শাকসবজি, মাছ, মাংস ও ডাল খাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পুষ্টিমান বজায় রেখে সুষম খাবার গ্রহণই আসল চাবিকাঠি। অথচ এসব খাবারের ক্যালরি নির্ভর করে পরিমাণ, উপকরণ ও প্রস্তুতপ্রণালির ওপর। ডায়েট মানে সপ্তাহের পাঁচ দিন কঠোর নিয়ম মেনে চলা আর বাকি দুই দিন ইচ্ছেমতো খাওয়া নয়। আমাদের দেশেই রয়েছে সহজলভ্য ও পুষ্টিকর নানা খাবার—শাকসবজি, মৌসুমি ফল, ডাল, ডিম, মাছ ও অন্যান্য প্রোটিনের উৎস।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলের স্বাধীনতা দিবসে মোদিকে আমন্ত্রন জানালেন নেতানিয়াহু

পঞ্চমত, কোনো খাবার পুষ্টিকর বলেই তা অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না। বাদাম, ফল বা প্রোটিন স্বাস্থ্যকর হলেও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি গ্রহণ করলে ওজন বাড়তে পারে। ষষ্ঠত, ডায়েটের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতার অভাব। কিছুদিন কঠোর ডায়েট করে আবার তা ছেড়ে দেওয়া ওজন নিয়ন্ত্রণের পথে বড় বাধা। জীবনযাত্রার সঙ্গে মানানসই এমন খাদ্যাভ্যাস বেছে নিন যা দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখা সম্ভব। সপ্তম ভুল হলো অন্যের অনুসরণ করা। সবার শারীরিক চাহিদা ও বিপাকীয় হার এক নয়, তাই নিজের প্রয়োজন বুঝে পুষ্টিবিদের পরামর্শে পরিকল্পনা করা উচিত। কারও কারও ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু ফল বেশি খেলে পেট ফাঁপা বা অস্বস্তিও হতে পারে। আবার কিডনির ওপর প্রভাব নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, খাদ্যগ্রহণ ও আগে থেকে কোনো রোগ আছে কি না, তার ওপর। বয়স, উচ্চতা, শারীরিক গঠন, দৈনন্দিন কাজকর্ম, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং বিপাকীয় চাহিদার ওপর নির্ভর করে খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করা উচিত। মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা ও নেতিবাচক মনোভাবও খাদ্যাভ্যাস ও ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তুলতে পারে।

অষ্টমত, শুধু ডায়েটের ওপর জোর দিয়ে শরীরচর্চা, ঘুম ও পানি পানের অভ্যাস উপেক্ষা করা। নিয়মিত ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত ঘুম ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। সর্বশেষ, নবম ভুলটি হলো ওজন কিছুটা কমলেই ডায়েট বন্ধ করে আগের খাদ্যাভ্যাসে ফিরে যাওয়া। ওজন কমানোর মতোই, কমানো ওজন ধরে রাখাও ডায়েটের সমান গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পর্যাপ্ত ঘুম ক্ষুধা ও তৃপ্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়ক। ফলে পুরোনো খাদ্যাভ্যাসে ফিরে যাওয়ার পর কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে হারানো ওজন আবার ফিরে আসতে পারে। ওজন কমলেই ডায়েটকে বিদায় জানানো।

জীবনযাত্রায় এই অভ্যাসগুলো যোগ করা জরুরি: প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন: ইংল্যান্ডের ৪২৯ রান টপকে শ্রীলঙ্কার অবিশ্বাস্য জয়

মিষ্টি, চিনিযুক্ত পানীয়, অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার এবং ক্ষতিকর চর্বি বর্জন করুন।

দিনে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট হাঁটা বা শরীরচর্চা করুন।

পাশাপাশি শরীর ও বয়সের ওপর ভিত্তি করে পর্যাপ্ত পানি পান করুন; অনেকের ক্ষেত্রে দিনে ৮ থেকে ১৪ গ্লাস পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

মনে রাখবেন, ওজন কমানো একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া।

তাই বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নিয়ে ধৈর্য ধরে এগিয়ে যাওয়াই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

আয়শা আনিকা নাজনীন, পুষ্টিবিদ, প্রত্যয় মেডিক্যাল ক্লিনিক, বারিধারা।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

তুরস্কের সঙ্গে সংঘাতের ইঙ্গিত দিলেন নেতানিয়াহু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ পিএম
তুরস্কের সঙ্গে সংঘাতের ইঙ্গিত দিলেন নেতানিয়াহু

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে তিনি তুরস্কের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার কথাও ব্যক্ত করেছেন। ইসরাইলের চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন তিনি। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের প্রেক্ষাপট তৈরি করতে পারে।

সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুর বক্তব্য

  • নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইসরাইল তুরস্কের সঙ্গে কোনো সংঘর্ষে জড়াতে চায় না।
  • তবে ইসরাইলের নিরাপত্তানীতি অনুযায়ী সম্ভাব্য হুমকি ঠেকাতে আগাম আঘাত হানার সুযোগ রয়েছে, যা তুরস্কের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে।
  • ইসরাইলের কৌশলগত পরিকল্পনা সম্পর্কে সরাসরি উত্তর না দিলেও তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তার দেশ কোনোভাবেই নতি স্বীকার করবে না।
  • যেকোনো ধরনের সংঘাত মোকাবিলায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের সতর্কবার্তা দিল কাতার

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের সতর্কবার্তা দিল কাতার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের সতর্কবার্তা দিল কাতার

মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক মধ্যস্থতা ও পরোক্ষ আলোচনা চলমান রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কাতার। মঙ্গলবার দোহায় অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরাম’-এ এমন তথ্য জানান কাতারের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. মাজেদ বিন মোহাম্মদ আল-আনসারি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পর্যায়ভিত্তিক আলাপ-আলোচনা থমকে যায়নি।

আরও পড়ুন: তুরস্কের সঙ্গে সংঘাতের ইঙ্গিত দিলেন নেতানিয়াহু

আলোচনার গোপনীয়তা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে আল-আনসারি বলেন, মিডিয়ায় এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না পাওয়াই প্রমাণ করে যে মধ্যস্থতাকারীরা তাদের দায়িত্ব নিভৃতে পালন করে যাচ্ছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি এক ভয়াবহ পরিণতির ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়লে পুরো অঞ্চল এক ধ্বংসাত্মক বৈশ্বিক যুদ্ধের সম্মুখীন হবে, যা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয় বরং আন্তর্জাতিক শান্তিকেও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে।

আরও পড়ুন: সাইবার আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার গভীর উদ্বেগ

আঞ্চলিক অস্থিরতা নিরসনের ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, অতীতের যুদ্ধবিরতিগুলো স্থায়ী সমাধান দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। যেকোনো যুদ্ধবিরতিকে তিনি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির একটি প্রবেশদ্বার হিসেবে অভিহিত করেছেন। এ সময় তিনি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য এই আঞ্চলিক অস্থিরতাকে ব্যবহারের কড়া সমালোচনা করেন।

সৌদি আরবের নিরাপত্তা ইস্যুতে কাতার তার পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। আল-আনসারি জানান, নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র সৌদি আরব যেকোনো পদক্ষেপ নিলে তার পাশে রয়েছে কাতার। বিশেষ করে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার বিপরীতে রিয়াদের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে আঞ্চলিক সংকটগুলো সমন্বিতভাবে সমাধান করা প্রয়োজন।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

সাইবার আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার গভীর উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ পিএম
সাইবার আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার গভীর উদ্বেগ

বাংলাদেশের প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইনের সংশোধনী ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের নতুন কাঠামো নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘লা ফুনেত্র দ্য পারিস’ তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ২০২৬ সালের খসড়া সাইবার আইনের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি বলছে, এতে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। প্যারিসভিত্তিক এই সংগঠনটি জানায়, আইনে থাকা অস্পষ্ট ধারা, বিনা পরোয়ানায় তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা এবং বিচারিক তদারকি ছাড়া কনটেন্ট বন্ধ করার বিধান মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করবে। এছাড়া ‘গুজব’ ও ‘ভুল তথ্য’র মতো অস্পষ্ট বিষয়গুলোকে অপরাধের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করায় উদ্বেগের মাত্রা আরও বেড়েছে। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ২০২৬ সালের খসড়া সাইবার আইনের বিভিন্ন ধারা নিয়ে সামপ্রতিক বিশ্লেষণে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য উদ্বেগজনক বিষয় উঠে এসেছে। প্রস্তাবিত কাঠামোয় জামিন অযোগ্য অপরাধের কঠোর বিধান বহাল রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের সতর্কবার্তা দিল কাতার

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আগাম বিচারিক অনুমোদন ছাড়া কর্তৃপক্ষের এমন ব্যাপক ক্ষমতা সাইবার জগতে অনিয়ন্ত্রিত নজরদারি ও নিপীড়নের সুযোগ তৈরি করবে। এর ফলে সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট ও মানবাধিকারকর্মীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন এবং গণমাধ্যমগুলো স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে। রাজনৈতিক সমালোচনা বা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার এই প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী বলে মনে করছে সংস্থাটি। কোনো বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে তা অবশ্যই স্পষ্ট আইনের ভিত্তিতে, বৈধ উদ্দেশ্যে এবং প্রয়োজনীয় অনুপাতে হতে হবে বলে তারা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট ও মানবাধিকারকর্মীদের নিরাপত্তাও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর যেকোনো বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে তিনটি শর্ত পূরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছে এই সংস্থা।

আরও পড়ুন: আফগানিস্তানের কাছে বড় হারে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় বাংলাদেশের

মানবাধিকার সংস্থাটি সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র ও নাগরিক-রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে বলেছে, তথ্য ও ধারণা আদান-প্রদান করা মানুষের স্বীকৃত অধিকার। আইনকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে তারা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে, সাইবার অপরাধের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক মতপ্রকাশের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেকোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিচারিক অনুমোদনের প্রক্রিয়া পুনর্বহাল করতে হবে। এছাড়া, বাংলাদেশের সম্পাদক পরিষদ ও সুশীল সমাজের উদ্বেগের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে সংস্থাটি অবিলম্বে আইনি কাঠামোয় প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার তাগিদ দিয়েছে। প্রস্তাবিত আইনটি যেন নিপীড়নের হাতিয়ার না হয়ে ওঠে, সে বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com