ঋণের পাহাড় ও রাজনৈতিক অস্থিরতা: গভীর সংকটে মার্কিন অর্থনীতি

ফ্রান্সের রাজপথে বর্তমান অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং লাগামহীন ঋণের কারণে তৈরি হওয়া সংকটের ঢেউ এবার যুক্তরাষ্ট্রেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইউরোপের এই ভঙ্গুর অর্থনৈতিক দশা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, যদিও মার্কিন অর্থনীতি এই মুহূর্তে ফ্রান্সের মতো সরাসরি ধসের শিকার নয়, তবুও দুটি মৌলিক কারণে দেশটি অদূর ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে।
আরও পড়ুন: ফোডেনের হ্যাটট্রিকে ম্যান সিটির জয়, রোমাঞ্চকর ম্যাচে লিভারপুলের জয়
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণের পরিমাণ বর্তমানে ৩২ ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যা দেশটির বার্ষিক মোট উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় সমান। সেই সাথে বার্ষিক বাজেট ঘাটতি ২ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা মোট উৎপাদনের প্রায় ৬ শতাংশের বেশি। উদ্বেগের বড় কারণ হলো এই বিশাল ঋণের সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে প্রতি বছর ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ করতে হচ্ছে, যা তাদের মোট ফেডারেল বাজেটের প্রায় ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের প্রতি সাত ডলারের মধ্যে অন্তত এক ডলার কেবল ঋণের সুদ দিতেই চলে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: নরসিংদীর রায়পুরায় নিখোঁজের ঘটনায় বাড়ছে স্থানীয় উদ্বেগ
ফ্রান্সের মতো দেশগুলো যখন সংকট কাটাতে কঠোর ব্যয় সংকোচন বা কর বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করছে, তখন মার্কিন রাজনীতিতে এর বিপরীতে এক অদ্ভুত নির্লিপ্ততা দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির বর্তমান তুলনামূলক স্থিতিশীলতা অনেকাংশে ডলারের বৈশ্বিক আধিপত্য এবং এআই খাতের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির ওপর টিকে আছে। কিন্তু আগামী বছরে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বড় ধরনের অস্থিরতার ঝুঁকি রয়েছে।
আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আইনগত ‘ডেট সিলিং’ বা ঋণ সীমা পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। এই সীমা বাড়ানোর ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউস এবং নতুন কংগ্রেসের মধ্যে সমঝোতা প্রয়োজন। তবে বর্তমান তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণের পরিবেশে আইনপ্রণেতারা যদি ঋণ সীমার প্রশ্নে ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন, তবে দেশটি মারাত্মক অর্থনৈতিক খেলাপির ঝুঁকিতে পড়বে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, নিয়ন্ত্রণহীন ঋণ এবং আসন্ন এই রাজনৈতিক সংঘাতের ফলে মার্কিন অর্থনীতি ভবিষ্যতে এক গভীর সংকটের দিকে ধাবিত হতে পারে।


















