ফোডেনের হ্যাটট্রিকে ম্যান সিটির জয়, রোমাঞ্চকর ম্যাচে লিভারপুলের জয়

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের একই রাতে ভিন্ন দুটি ম্যাচে জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি ও লিভারপুল। ফিল ফোডেনের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে এইকে এথেন্সকে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। অন্যদিকে, ভয়ারিয়ালের বিপক্ষে শুরুতেই দুই গোল হজম করেও অবিশ্বাস্যভাবে ৪-৩ গোলের জয় তুলে নিয়েছে লিভারপুল। লিভারপুলের এই জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও তরুণ তারকা রিও এনগুমোহা। চ্যাম্পিয়নস লিগে একই রাতে দেখা গেল দুই রকম গল্প। লিভারপুল দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে ভিয়ারিয়ালকে হারিয়েছে ৪-৩ গোলে। সেখানে নায়ক লিভারপুলের আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও ১৮ বছর বয়সী রিও এনগুমোহা। সেই ধাক্কা কাটিয়ে জয়ে ফিরতে এনজো মারেসকার দল দল বেছে নিল এইকে এথেন্সকে। তিন গোল করার সঙ্গে একটিতে সহায়তা, সব মিলিয়ে ইতিহাদে একেবারে ফোডেনের রাত। খেলার আধা ঘণ্টার মধ্যে ভিয়ারিয়ালের কাছে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে বিপদে পড়ে যায় আন্দোনি ইরাওলার দল। ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে জয়ী দল থেকে এই ম্যাচে ছয়টি পরিবর্তন এনেছিলেন ইরাওলা।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে সাবেক দুই মেয়রসহ আটক আওয়ামী লীগের তিন নেতা
ম্যানচেস্টার সিটি গত সপ্তাহে পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে আসতে এথেন্সের বিপক্ষে জ্বলে ওঠে। উড়তে থাকা বার্সেলোনাকে মাটিতে নামিয়ে আনল পিএসজি। গত সপ্তাহেই ঘরের মাঠে পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হেরেছিল দলটি।
ম্যাচের শুরুতেই এনজো ফার্নান্দেজের ফ্রি-কিক ক্রসবারে লাগার পর ফিরতি বলে এলিয়ট অ্যান্ডারসন গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। গ্রীষ্মে দলে আসা এনজো ফার্নান্দেজের ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে বল জালে ঠেলে দেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন। একটু পরে অ্যালানের শট আটকে যায় পোস্টে।
আরও পড়ুন: ঋণের পাহাড় ও রাজনৈতিক অস্থিরতা: গভীর সংকটে মার্কিন অর্থনীতি
এরপর রিকো লুইসের পাস থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফিল ফোডেন। এথেন্স বিরতির পর একটি গোল পরিশোধ করলেও সিটির দাপট কমেনি। ফোডেনের পাস থেকে গোল করেন রায়ান শেরকি। পরবর্তীতে ফোডেন ভলি এবং ম্যাচের শেষদিকে কাছ থেকে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন। একটি গোলে সহায়তাসহ ম্যাচে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছেন এই ইংলিশ তারকা। ১১ মিনিট পর কাছ থেকে জাল খুঁজে নিয়ে পূরণ করেন নিজের হ্যাটট্রিকও। লক্ষ্যে রাখা প্রথম শটেই সিটির রক্ষণ ভেদ করেন স্ট্যাভ্রোস পিলিওস। প্রথম স্পর্শেই বল পাঠান পোস্টের কোনায়।
অ্যানফিল্ডের চিত্র ছিল একদমই ভিন্ন। প্রথমার্ধেই ভয়ারিয়ালের কাছে দুই গোল হজম করে চাপে পড়ে গিয়েছিল লিভারপুল। ভার্জিল ফন ডাইকের ভুলে জর্জেস মিকাউতাদজে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর সের্হি কার্দোনা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। তবে ৩৬ মিনিটে কনস্তান্তিনোস সিমিকাসের কর্নার থেকে হেডে গোল করে লিভারপুলের আশা জাগান ম্যাক অ্যালিস্টার। বিরতির ঠিক আগে রিও এনগুমোহার চমৎকার চিপে পা ছুঁইয়ে স্কোরলাইন ২-২ করেন রোনাল্ড আরাউহো।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে লিভারপুলের কোচ আন্দোনি ইরাওলা মাঠে নামান ফ্লোরিয়ান ভির্টৎসকে। এরপরই মাঠে লিভারপুলের একক আধিপত্য শুরু হয়। এনগুমোহার বুদ্ধিমত্তায় তৈরি সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাক অ্যালিস্টার দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পরেই বাঁ পায়ের ফিনিশিংয়ে লিভারপুলের হয়ে নিজের প্রথম গোলটি করেন ভির্টৎস। ম্যাচের শেষদিকে ভয়ারিয়ালের তানি ওলুউসাহি ব্যবধান কমালেও শেষ পর্যন্ত ৪-৩ গোলের নাটকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিভারপুল। একটু পর বাঁ পায়ের ফিনিশিংয়ে ক্লাবের হয়ে প্রথম গোল পান ভির্টৎস, ৪-২।


















