প্রথম প্রান্তিকে নতুন ছাড়ে প্রাপ্ত সহায়তার দ্বিগুণ অর্থ পরিশোধ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মেয়াদে যে পরিমাণ বিদেশি ঋণ ছাড় হয়েছে, তার দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ আগের ঋণের আসল ও সুদ মেটাতে ব্যয় করতে হয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনটির তথ্যমতে, প্রথম তিন মাসে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ ও অনুদান মিলে মোট ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার ছাড় পাওয়া গেছে। তবে একই সময়ে অতীতে নেওয়া ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে ১৩৫ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার। ফলে নতুন পাওয়া বৈদেশিক সহায়তার চেয়ে ঋণের দায় মেটাতে প্রায় ৬৮ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার বেশি গুনতে হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে আজ নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ
ইআরডির প্রকাশিত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় এবার ঋণ শোধে মোট ব্যয় ৫.৬ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে আসল মেটাতে খরচ করা হয়েছে ৮৫ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের ৮১ কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার ডলারের চেয়ে ৪ কোটি ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার বেশি।
একইভাবে বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধেও সরকারের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে সুদ বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৪৯ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৪৬ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সুদ বাবদ ব্যয় বেড়েছে ২ কোটি ৯৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার।
আরও পড়ুন: খেলাধুলা ও দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম একনজরে
অন্যথায় ঋণ পরিশোধে খরচ বাড়লেও আন্তর্জাতিক অর্থছাড়ের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বৈশ্বিক সহায়তার প্রকৃত অর্থ ছাড় কমেছে ৪২.৩ শতাংশ। এবার ছাড় হওয়া ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলারের মধ্যে ৫৪ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার ঋণ এবং ১১ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে। শতাংশের হিসাবে এ হ্রাস ৪২ দশমিক ৩।
গত অর্থবছরের একই মেয়াদে যেখানে ১১৪ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার ছাড় করেছিল উন্নয়ন সহযোগীরা, সেখানে এবার প্রকৃত অর্থ প্রাপ্তি কমেছে ৪৮ কোটি ৬২ লাখ ৮০ হাজার ডলার। বিদেশি ঋণের টাকা হাতে আসার হার কমে যাওয়ায় দায় পরিশোধে সরকারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
অর্থছাড় কমলেও নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি অবশ্য আগের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে উন্নয়ন অংশীদারদের কাছ থেকে ১২৭ কোটি ৩০ লাখ ডলারের সহায়তার সম্মতি মিলেছে, যার মধ্যে ১১৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার ঋণ এবং ১২ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার অনুদান। আগের অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এই প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ৯১ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার।
নতুন এই অঙ্গীকারের ফলে এক বছরের ব্যবধানে সহায়তার আশ্বাস ৩৬ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার বাড়লেও বাস্তবে বৈদেশিক অর্থের প্রাপ্তি বাড়েনি। এই বিষয়ে ইআরডি কর্মকর্তারা জানান, অঙ্গীকার ও অর্থছাড়ের মধ্যে প্রযুক্তিগত ব্যবধান থাকে। প্রকল্প অনুমোদন, চুক্তি সম্পাদন ও প্রাসঙ্গিক শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিশ্রুত অর্থ হাতে আসে না, যা নগদ অর্থে রূপান্তর হতে সময় নেয়।





















