সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

নদীপথে বাড়ছে অপরাধ, চ্যালেঞ্জে নৌ পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৩ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নদীপথে বাড়ছে অপরাধ, চ্যালেঞ্জে নৌ পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা

দেশের বিস্তৃত নৌপথ এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠছে। নদীপথে মাছ ধরতে গিয়ে জলদস্যুদের হাতে প্রাণ হারাচ্ছেন জেলেরা, আর চাঁদাবাজি দিতে অস্বীকৃতি জানালে নৌশ্রমিকদের ওপর চালানো হচ্ছে নির্মম নির্যাতন। পণ্যবাহী নৌযান থেকে লুটপাটের পাশাপাশি অপহরণ, ছিনতাই, মাদক পাচার ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মতো ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। নৌ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, সন্ধ্যা নামলেই নদীপথে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বহুগুণ বেড়ে যায়। এ ঘটনায় ওই এলাকার জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে নৌ পুলিশ। এই চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান তিনি। ঘটনাস্থল থেকে রানা ও সাজ্জাদ নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নৌ পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের নদীপথকে ১১টি প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ চালানো হচ্ছে। এতে হত্যা, অপমৃত্যু, ডাকাতি, ছিনতাই, অবৈধ বালু উত্তোলনসহ নানা অপরাধসংক্রান্ত মামলার সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ২০২৪ সালে এ ধরনের ২ হাজার ৮৫টি মামলা নথিভুক্ত হয়, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ৩ হাজার ৩৯৯টিতে দাঁড়ায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে মামলা বেড়েছে ১ হাজার ৩১৪টি। এর বাইরে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরও ৫০৫টি মামলা হয়েছে। সব মিলিয়ে গত প্রায় তিন বছরে মোট ৫ হাজার ৯৮৯টি অপরাধের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। আগের দুই বছরের উল্লিখিত সব শ্রেণির মামলা এবং চলতি বছরের ৯ মাসের এই ৫ শ্রেণির মামলা মিলিয়ে সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ হাজার ৯৮৯। গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি রাতে ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের কাছে মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় জলদস্যুদের গুলিতে মো. হোসেন (৩০) নামের এক জেলে নিহত হন। গুলিতে আহত হন আব্বাস (৩২), কাঞ্চন (৩৪) ও সোহেল (২৯) নামের আরও তিন জেলে। এতে জেলে, নৌযানের চালক ও যাত্রীরা সন্ধ্যার পর আতঙ্কে থাকেন। স্রোতে ভাসে অপরাধের চিহ্ন, পচন ধরে মরদেহে। একপর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। তিনি বলেন, নদীতে চাঁদাবাজির অভিযোগ করলেও কেউ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করেন না। চলতি বছরের ২১ এপ্রিল দিবাগত রাতে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর এলাকাঘেঁষা পদ্মা নদীতে এমন অভিযানে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন পাবনার ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পাঁচ সদস্য।

নদীপথে সংঘটিত সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো

আরও পড়ুন: আদালতের নির্দেশে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন স্থগিত

  1. গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি রাতে ভোলার মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় মো. হোসেন নামের এক জেলে নিহত হন।
  2. একই ঘটনায় গুলিতে আহত হন আব্বাস, কাঞ্চন ও সোহেল নামের তিন জেলে।
  3. তাঁদের সবার বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার বাঘার হাওলা গ্রামে।

একদল জলদস্যু ট্রলারে ডাকাতির চেষ্টা করলে জেলেরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন, যার ফলে তাঁরা গুলির মুখে পড়েন। এছাড়া পণ্যবাহী নৌযানেও দস্যুতা চলছে। গত বছরের ১০ অক্টোবর নরসিংদীর মেঘনায় একটি বাল্কহেড থেকে ৩১৭ মেট্রিক টন সার লুট করে দুর্বৃত্তরা। এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর চাঁদপুরের হাইমচরে এমভি আল-বাখেরা জাহাজের সাত কর্মচারীকে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশ মৎস্যজীবী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মল্লিকের মতে, দুর্গম চরাঞ্চলে রাতে ডাকাতির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। সাধারণত সন্ধ্যার পর চাঁদপুরের হাইমচর, শরীয়তপুরের লক্ষ্মীচর ও কাঁচিকাটা, মুন্সিগঞ্জের পদ্মা-মেঘনার মোহনা ও সংলগ্ন চরাঞ্চল, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরসংলগ্ন মেঘনা এবং বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জসংলগ্ন মেঘনার চরাঞ্চলে এসব হামলা হয়। শাহ আলম মল্লিক বলেন, এখন পদ্মা-মেঘনায় মা ইলিশ রক্ষায় কোস্টগার্ড, পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের দিনরাত অভিযান চলায় তেমন ডাকাতির ঘটনা ঘটছে না। তাঁর মতে, জেলার সীমানাসংলগ্ন নদীপথ ও প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে টহল বাড়ালে এসব অপরাধ কমবে। গত বছরের ১০ অক্টোবর নরসিংদীসংলগ্ন মেঘনা নদীতে একটি বাল্কহেড থেকে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার বস্তা বা ৩১৭ মেট্রিক টন সার ডাকাতি করে দুর্বৃত্তরা। চাঁদা না দিলে হামলা, আক্রান্ত পুলিশও। বাংলাদেশ বাল্কহেড মালিক সমিতির সহসভাপতি আহমাদুল কবির মোল্লা বলেন, মানিকগঞ্জের হরিরামপুর সংলগ্ন নদীতে পণ্য বোঝাইয়ের সময় প্রতিটি নৌযান থেকে ২ হাজার টাকা, ভোলার ইলিশায় ৫০০ টাকা এবং সাভারের রুস্তমপুর ও আমিনবাজারে আড়াই হাজার টাকা করে টোলের নামে চাঁদা নেওয়া হয়। গত বছরের ৭ অক্টোবর সকালে নারায়ণগঞ্জে মেঘনা নদীতে টেঁটা, বল্লম, রামদাসহ দেশি অস্ত্র নিয়ে নৌযান থামিয়ে চাঁদা দাবি করে একটি সংঘবদ্ধ দল।

চাঁদাবাজির শিকার নৌশ্রমিকরাও।

বাল্কহেড মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, মানিকগঞ্জ, ভোলা, সাভারসহ বিভিন্ন এলাকায় পণ্যবাহী নৌযান থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হয়।

আরও পড়ুন: স্প্যানিশ ‘নোবেল’ পেলেন লিওনেল মেসি

চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় গত বছরের ৭ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের মেঘনায় শ্রমিকদের পিটিয়ে জখম করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ অভিযানে গেলে তাদের ওপরও টেঁটা ও বল্লম নিয়ে হামলা চালায় চাঁদাবাজরা।

এতে নৌ পুলিশের তিন সদস্য আহত হন।

এছাড়া কুষ্টিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন পুলিশ সদস্যরা এবং পিরোজপুরে টহল শেষে ফেরার পথে ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছেন পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ পাঁচজন। এতে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মাকসুদ এবং কনস্টেবল সোহাগ ও সাইদুর জখম হন।

নৌ পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, চাঁদাবাজির ভুক্তভোগীরা মামলার ক্ষেত্রে অনাগ্রহ দেখান, যা অপরাধ দমনে বড় বাধা। বর্তমানে সারা দেশে নৌ পুলিশের ১২৪টি ফাঁড়ি অপরাধ দমনে কাজ করছে। নদীপথে মাদকসহ অন্যান্য অপরাধীদের শনাক্তে জেলা ও মহানগর পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। নৌ পুলিশের অঞ্চলভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত দুই বছরে চাঁদপুর ও বরিশাল অঞ্চলে অপরাধমূলক মামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ঢাকা, ফরিদপুর, রাজশাহী ও টাঙ্গাইলেও অপরাধের হার ঊর্ধ্বমুখী।

অধ্যাপক মুহাম্মদ উমর ফারুকের মতে, নথিবদ্ধ পরিসংখ্যানের বাইরেও অনেক অপরাধের ঘটনা ঘটে যা রিপোর্ট হয় না। তাঁর মতে, কেবল টহল দিয়েই নদীপথের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; অপরাধীদের নজরদারি ও তত্ত্বাবধান আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। বিশাল জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নৌ পুলিশের জন্য নিয়মিত একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের মতে, স্থলপথের তুলনায় দীর্ঘ নৌপথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি কম থাকায় অপরাধীরা এই পথ বেছে নিচ্ছে। মৎস্যজীবীদের জানমালের নিরাপত্তায় তখনো কোস্টগার্ড ও পুলিশের টহল জোরদার রাখা দরকার।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

তামিলনাড়ুতে দলিত ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় শ্রেণি শিক্ষক গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম
তামিলনাড়ুতে দলিত ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় শ্রেণি শিক্ষক গ্রেপ্তার

ভারতের তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরে ১৬ বছর বয়সী একাদশ শ্রেণির এক দলিত শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে গভীর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার পিলামেডু এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে গরুর গোশত খাওয়ার বিষয়টি প্রকাশের পর থেকে জাতপাতের বিদ্বেষ ও বুলিংয়ের শিকার হয়ে আসছিল সে। এই অসহনীয় হেনস্তাই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর কারণ বলে দাবি তাদের।

শিক্ষার্থীর মায়ের ভাষ্যমতে, শ্রেণিশিক্ষক পি বিজয়কুমার তফসিলি জাতিভুক্ত শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের শনাক্ত করতে চেয়েছিলেন। সেই সময় শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে যারা গরুর গোশত খায়, তাদের দাঁড়াতে বললে ওই শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন দাঁড়িয়েছিল। এরপর থেকেই দুই সহপাঠী নিয়মিত তাকে নিয়ে কটূক্তি, খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিদ্রূপ এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন শুরু করে। বৃত্তির সুবিধা নিতে ওই শিক্ষার্থীও নাম লেখায়।

পরিবারের অভিযোগ, শ্রেণিশিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষক অরুণ কুমারকে বারবার বিষয়টি জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। শিক্ষার্থীর মা জানান, তার ছেলে আইনজীবী হতে চেয়েছিল। তবে স্কুলে ক্রমাগত হেনস্তার কারণে কয়েকদিন সে ক্লাসেও যায়নি। এ ঘটনার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করছেন তিনি এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ছেলের কাছে স্কুলে গিয়ে অভিযোগ জানানোর কথা ভাবলেও সে আশঙ্কা করেছিল, এতে তাকে আরো একঘরে করা হতে পারে এবং হেনস্তা বাড়তে পারে। পুলিশের ধারণা, পরে সে বাড়িতে ফিরে আসে। দুপুরের দিকে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করা তার মা বাড়িতে ফিরে ছেলেকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। শিক্ষার্থীর বাবা কেরালার একটি অবকাশযাপন কেন্দ্রে কাজ করেন।

আরও পড়ুন: ইরানের নিশানায় মার্কিন নাগরিক, হত্যার ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত পর্যায়ে

পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পিলামেডু থানা পুলিশ অভিযুক্ত শ্রেণিশিক্ষক পি বিজয়কুমারকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া প্রধান শিক্ষক অরুণ কুমার এবং ওই দুই সহপাঠীকেও মামলায় আসামি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বুধবার সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি।

ঘটনার প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর স্বজনেরা স্থানীয় থানায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তামিলনাড়ু রাজ্যের তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতি কমিশন কোয়েম্বাটুরের পুলিশ কমিশনারের কাছে এক সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন তলব করেছে।

দলিত অধিকারকর্মী সুরজ কুমার বৌদ্ধ ১৬ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে একটি ‘প্রাতিষ্ঠানিক হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, দলিত খ্রিষ্টান ও অধিকারকর্মী শালিন মারিয়া লরেন্স উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলোতে গরুর গোশত খাওয়ার অজুহাতে শিক্ষার্থীদের প্রকাশ্যে শনাক্ত করার প্রবণতা বাড়ছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, এ ধরনের বৈষম্য শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে এবং শিক্ষাব্যবস্থায় জাতপাতভিত্তিক বিদ্বেষ নির্মূল করা জরুরি। এর ফলে দলিত শিশুরা জাতপাতভিত্তিক হেনস্তার ঝুঁকিতে পড়ছে।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

ইরানের নিশানায় মার্কিন নাগরিক, হত্যার ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত পর্যায়ে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম
ইরানের নিশানায় মার্কিন নাগরিক, হত্যার ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত পর্যায়ে

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন কর্মকর্তা ও কর্মীদের লক্ষ্য করে ইরান তাদের নাশকতার তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটন গত ২৩ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো একটি বিশেষ মেমোতে এমন উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন। মেমোটির অনুলিপি মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফকেও দেয়া হয়েছে। ক্লেটনের মতে, মার্কিন নাগরিকদের হত্যার উদ্দেশ্যে ইরান বর্তমানে অত্যন্ত সক্রিয় এবং এই ষড়যন্ত্র এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে বা ‘উচ্চ পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রথম এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা একটি মেমোতে এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক জে ক্লেটন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানপন্থি হুতি বাহিনীর কাছ থেকে হুমকি বৃদ্ধির বিষয়টি সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: তামিলনাড়ুতে দলিত ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় শ্রেণি শিক্ষক গ্রেপ্তার

আরও পড়ুন: ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন আজ

নিরাপত্তা ঝুঁকির এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত বুধবার সৌদি আরবে অবস্থিত তাদের কূটনৈতিক মিশনের জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অবিলম্বে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন মিশনগুলো থেকেও পরিবার সদস্যদের সরিয়ে নেয়ার প্রস্তুতি চলছে। এর আগে গত শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পারস্য উপসাগরসহ মধ্যপ্রাচ্যের এক ডজনেরও বেশি দেশের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করে। এর মধ্যে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক ও ইসরাইল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে সৌদি আরবে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনে জনবল কমিয়ে আনার পর এ সতর্কবার্তা সামনে এলো।

এ বিষয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন দূতাবাসে জনবল কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যালোচনার অংশ। মূলত ইরান সমর্থিত হুতিদের হামলার ঝুঁকি এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইরানের সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রের তথ্যের ভিত্তিতেই এই মিশনগুলোতে ‘রেস্ট্রিকটেড অপারেশনস স্ট্যাটাস’ বা সীমিত কার্যক্রমের নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। ইরান যুদ্ধের আট মাস শেষ হতে চললেও পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অস্থিরতা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনসমর্থনের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ক্রমাগত হামলার ঘটনাও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নতুন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে ইরান যুদ্ধ আট মাস পূর্ণ করে নবম মাসে প্রবেশের দ্বারপ্রান্তে।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম
ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন আজ

আজ ২৫ অক্টোবর ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন। ১৯৯৫ সালের এই দিনে ঢাকার হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। জাইমা রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র কন্যা। তার দাদা ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বীর উত্তম জিয়াউর রহমান এবং দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া। এছাড়া তার নানা নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান। জাইমা রহমানের বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রভাবশালী এক পরিবারে। পারিবারিক এই ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক আবহের মধ্যে বড় হলেও জাইমা রহমান নিজের পথটি বেছে নিয়েছেন আইন ও জনসেবার অঙ্গনে।

আরও পড়ুন: ইরানের নিশানায় মার্কিন নাগরিক, হত্যার ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত পর্যায়ে

আরও পড়ুন: ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকটে উত্তাল রাজপথ

শৈশবে ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রোডের ৬ নম্বর বাসায় বেড়ে ওঠেন জাইমা। ২০০৮ সালে বাবার সঙ্গে তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান। দীর্ঘ সময় বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ারে ব্যস্ত থাকার পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি মা-বাবার সঙ্গে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এর আগে ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের সম্মানজনক প্রতিষ্ঠান ইনার টেম্পল থেকে তিনি ‘বার-অ্যাট-ল’ ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশের আইনি ব্যবস্থার সাথে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬ সালের জুন মাসে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তার বাবা তারেক রহমান গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি বাবার সঙ্গে ২০০৮ সালে লন্ডনে চলে যান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর মা-বাবার সঙ্গে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। জাইমা যুক্তরাজ্যের ‘কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন’ থেকে আইনে স্নাতক (এলএলবি) সম্পন্ন করেন।

পেশাগত জীবনে তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বেশ সক্রিয়। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ব্যারিস্টার জাইমা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা বা ‘লিগ্যাল অফিসার’ হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি সভাপতির এক্সিকিউটিভ অফিসের অধীনে আন্তর্জাতিক আইনি বিষয়গুলো দক্ষতার সাথে তদারকি করছেন।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com