ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেড়েছে সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায়, টার্গেটে নারী যাত্রীরা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম অংশে সম্প্রতি ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। দিন-দুপুরে এমনকি গভীর রাতেও মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছিনতাইকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠছে। অপরাধীরা মূলত সিএনজি অটোরিকশা ও মিশুক চালকের ছদ্মবেশ ধারণ করে যাত্রীদের টার্গেট করছে। বিশেষ করে নারী যাত্রীদের ওপর এসব ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটছে, যা জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, মহাসড়কে যাতায়াতের জন্য অটোরিকশা ও মিশুক সহজ মাধ্যম হলেও চালকের আসনে থাকা অপরাধীদের দৌরাত্ম্যে এটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই চালকের সঙ্গে সহযোগী হিসেবে ছিনতাইকারী চক্রের অন্য সদস্যরাও সক্রিয় থাকে। দিন-দুপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় আতঙ্ক বেড়েছে মহাসড়কে চলাচলকারী নারী যাত্রী ও জনসাধারণের মাঝে। জানা গেছে, দৈনন্দিন কাজে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাতায়াত করেন। চালক বেশে যাত্রী উঠিয়ে নির্জন স্থান এলাকায় পৌঁছলে এই চালকরাই হয়ে উঠছেন ছিনতাইকারী।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলার জবাবে সাবমেরিন কেবলে আঘাত হানবে ইরান
গত ১৮ অক্টোবর দুপুরে চৌদ্দগ্রাম ডায়াবেটিক হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জিনিয়া জামান কর্মস্থলে যাওয়ার সময় ছিনতাইয়ের কবলে পড়েন।
আরও পড়ুন: এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে ইতিহাস গড়ে জয় পেল ফর্টিস এফসি
তিনি ট্রেনিং সেন্টার থেকে মিশুকে করে হাড়িসর্দার এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে অফবিট হোটেলের সামনে পেছন থেকে আসা একটি সিএনজি অটোরিকশা থেকে ছিনতাইকারীরা তার ব্যাগ টান দেয়। এ সময় অন্তঃসত্ত্বা ওই চিকিৎসক মিশুক থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে হাছিনা বেগম নামের আরেক নারী ছিনতাইয়ের শিকার হন। তাকে সিএনজিতে তুলে অজ্ঞান করার পর ফালগুনকরা দিঘী ও মাজারের মাঝামাঝি নির্জন স্থানে নিয়ে মারধর করা হয়। পরে দুর্বৃত্তরা তার স্বর্ণের কানের দুল, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় ওই নারীকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মহাসড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় হাইওয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছেন মিয়াবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নিরঞ্জন কুমার। তিনি জানান, পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং অপরাধীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। এছাড়া চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আরিফ হোসাইন জানান, যেসব সিএনজি অটোরিকশা ও চালক যাত্রীবেশে ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এসব অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান চলমান থাকবে। স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মহাসড়কে নজরদারি আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।


















