শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: আগাম তথ্য পায়নি কেন ঢাকা?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩০ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: আগাম তথ্য পায়নি কেন ঢাকা?

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাটি এখন কূটনৈতিক অঙ্গনে বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। গত ১৪ অক্টোবর সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সিতে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য প্রকাশ করা হয়। দণ্ডিতদের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি (সিঁথি) আক্তার হিসেবে জানানো হয়। অথচ এত বড় একটি ঘটনার আগে ঢাকা বা জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন কোনো আগাম বার্তা পায়নি। এই দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন কেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অন্ধকারে ছিল, তা নিয়ে ব্যাপক জনমনে ও প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি কর্তৃপক্ষের মধ্যে টানাপোড়েনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালে বাংলাদেশিরা দোভাষী হিসেবে কাজ করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: লেবাননের জ্বালানি সংকট সমাধানে কাতারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি

কূটনৈতিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর জেদ্দায় বাংলাদেশ কন্স্যুলেটে সৌদি কর্তৃপক্ষ বন্দিদের একটি তালিকা পাঠিয়েছিল। সেই তালিকায় নজরুলের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ এবং সুইটির বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগের উল্লেখ ছিল। তবে তাদের কী সাজা হতে পারে বা মামলার বর্তমান অবস্থা কী, সে বিষয়ে কোনো তথ্য ওই তালিকায় ছিল না। অথচ তালিকায় নাম পাওয়ার পরও মিশনের পক্ষ থেকে মামলা অনুসরণে কেন তৎপরতা চালানো হয়নি, তা নিয়ে বড় ধরনের ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, তথ্য আদান-প্রদান ও কূটনৈতিক যোগাযোগে কিছুটা ঘাটতি ছিল এবং অভিযোগের ধরন বিশ্লেষণ করে আগে পদক্ষেপ নেওয়া যেত। অথচ দেশটিতে প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত।

ঘটনার পর ১৫ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশের কন্স্যুলেট বিস্তারিত জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে কূটনৈতিক পত্র পাঠায়। পরবর্তীতে ১৮ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ বিন আবিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এছাড়া গত সোমবার জেদ্দায় সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের কূটনীতিকরা প্রশ্ন তুলেছেন—বিচারপ্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হলে এবং তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও কেন মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি মিশনকে জানানো হলো না? তবে সৌদি পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে শিগগিরই বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে সূত্রটি। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের দূতাবাস কিংবা কন্স্যুলেটকে কিছু জানায়নি।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে সাবেক দুই মেয়রসহ আটক আওয়ামী লীগের তিন নেতা

পরিবারের দাবি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্টের শুরুতে নজরুল ও সুইটি আটক হন। নজরুলের পরিবার তার গ্রেপ্তারের খবর জানলেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি তারা সংবাদমাধ্যম থেকে জানতে পারেন। এদিকে জেদ্দায় বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের একটি গোপন স্মারকলিপি বলছে, আইনি সহায়তা চেয়ে নজরুল বা সুইটির পরিবারের পক্ষ থেকে মিশনের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, একজন নাগরিক বিদেশে কারাগারে থাকাকালীন মিশন কীভাবে তাদের বিষয়ে উদাসীন থাকতে পারে? বিদেশ বিভুঁইয়ে কোনো বাংলাদেশি গুরুতর অভিযোগে আটক হলে তার মামলার হালনাগাদ তথ্য রাখা, আপিলের সুযোগ দেখা এবং আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা কন্স্যুলার দায়িত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা এক্ষেত্রে সঠিকভাবে পালিত হয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে। তার সঙ্গে সপ্তাহে একবার পরিবারের সদস্যদের কথা হতো। বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ডের আশঙ্কা থাকলে আইনি সহায়তা, দোভাষীর ব্যবস্থা এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের মতো বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেয়া জরুরি। ফলে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের আগে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। বিদেশে দণ্ডিত নাগরিকদের প্রত্যাবাসন ও আইনি সহযোগিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সৌদি আরবের বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল একটি সূত্র দাবি করেছে, দেশটিতে দণ্ড কার্যকরের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের মিশনকে লিখিতভাবে জানানোর অলিখিত রীতি রয়েছে। অথচ নজরুল ও সুইটির ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে। অন্যদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ১৩ জন বিচারকের একটি প্যানেল তাদের সাজা বহাল রাখেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিচারপ্রক্রিয়ায় দোভাষী থাকলেও অভিযুক্তরা নিজেদের পছন্দমতো দোভাষী বেছে নিতে পারতেন না, যা ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি করে। নিম্ন আদালতে দণ্ডিত হওয়ার পর আপিল আদালতের ১৩ বিচারকের একটি প্যানেল তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।

এই ঘটনা বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বন্দি হস্তান্তর চুক্তির প্রয়োজনীয়তাকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। গত ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসা বিন ইউসুফ আল-দুহাইলানের সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দেশের বিচার বিভাগের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল। তখন একটি চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছিল, কিন্তু ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এমন কোনো কার্যকর চুক্তি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। ভারতের সঙ্গে ২০১০ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ২০১৪ সালে বাংলাদেশের এমন চুক্তি থাকলেও সৌদির সঙ্গে সেটি এখনো ঝুলে আছে। নজরুল ও সুইটির মামলার বিস্তারিত জানতে ঢাকা থেকে নতুন করে কূটনৈতিক পত্র পাঠানো হয়েছে, যার মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাওয়ার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

এল ক্লাসিকোর আগে বড় জয়ে আত্মবিশ্বাসী রিয়াল মাদ্রিদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৭ এম
এল ক্লাসিকোর আগে বড় জয়ে আত্মবিশ্বাসী রিয়াল মাদ্রিদ

তিন দিন পর লা লিগায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো। সেই বড় ম্যাচের আগে চ্যাম্পিয়নস লিগে লাইপজিগের বিপক্ষে ৪-১ গোলের বিশাল জয় রিয়াল মাদ্রিদকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাল। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে রিয়ালের হয়ে গোল পেয়েছেন বের্নার্দো সিলভা, আরদা গুলের, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ইয়ান দিওমান্দে। বুন্দেসলিগার ক্লাব লাইপজিগের বিপক্ষে রিয়াল জিতেছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে সেই প্রস্তুতিটা বড় জয়ে সেরেছে জোসে মরিনিওর দল। রিয়ালের চার গোলই এসেছে ম্যাচের প্রথম চল্লিশ মিনিটের পর।

ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল বেশ ঘটনাহীন। তবে ৪৩ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন বের্নার্দো সিলভা। আরদা গুলেরের শট থেকে আসা ফিরতি বলে গোলটি করেন এই পর্তুগিজ মিডফিল্ডার, যা রিয়ালের জার্সিতে তাঁর প্রথম গোল। বিরতির পর ৫২ মিনিটে গুলের নিজেই গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। জুড বেলিংহামের ক্রস থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পের হেডে বল পেয়ে কাছ থেকে লক্ষ্যভেদ করেন তুরস্কের এই তরুণ তারকা।

আরও পড়ুন: লিবিয়ায় জিম্মি বাংলাদেশি যুবক, অভিযোগ প্রত্যাহারে পুলিশের চাপ

ম্যাচের ৮৩ মিনিটে স্কোরশিটে নাম লেখান এমবাপ্পে। ইয়ান দিওমান্দের পাস থেকে দারুণ এক বাঁকানো শটে বল জালে জড়ান তিনি। এটি চলতি মৌসুমে এমবাপ্পের ১২ ম্যাচে ১২তম গোল। যদিও এর দুই মিনিট পর লাইপজিগের বদলি খেলোয়াড় তিদিয়াম গোমিস একটি গোল শোধ করেন, তবে ৮৭ মিনিটে দিওমান্দে দুর্দান্ত এক ভলিতে গোল করে রিয়ালের বড় জয় নিশ্চিত করেন। ৩-০ গোলে পিছিয়ে যাওয়ার দুই মিনিট পর লাইপজিগের হয়ে একটি গোল শোধ করেন বদলি খেলোয়াড় তিদিয়াম গোমিস। শুরু থেকে দুই দলই খেলেছে উত্তাপহীন ফুটবল। মিউনিখে বায়ার্নকে আটকে দিল আর্সেনাল।

স্নায়ুচাপের এই ম্যাচে গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া ছিলেন অসামান্য। ২৮ মিনিটে রোমুলোর প্রচেষ্টা এবং ৪১ মিনিটে ক্রিস্টোফার এনকুনকুর শট ঠেকিয়ে রিয়ালকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করেন তিনি। অন্যদিকে, লাইপজিগের গোলরক্ষকও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একটি আক্রমণ প্রতিহত করেছিলেন। ২৮ মিনিটে থিবো কোর্তোয়া দেয়াল হয়ে না দাঁড়ালে গোল প্রায় করেই ফেলেছিলেন রোমুলো। ৪১ মিনিটে ক্রিস্টোফার এনকুনকুর কাছ থেকেও রিয়ালকে দারুণভাবে দলকে রক্ষা করেন বেলজিয়ান গোলরক্ষক।

চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা তিন ম্যাচ জিতে রিয়াল মাদ্রিদ এখন সুবিধাজনক অবস্থানে। বিপরীত চিত্র লাইপজিগের। দুই ম্যাচে ১০ গোল হজম করে তারা পয়েন্ট টেবিলের ২৯তম স্থানে নেমে গেছে। সব প্রস্তুতির ইতি টেনে এখন রিয়ালের সম্পূর্ণ মনোযোগ রোববারের এল ক্লাসিকোর দিকে।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

লিবিয়ায় জিম্মি বাংলাদেশি যুবক, অভিযোগ প্রত্যাহারে পুলিশের চাপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৭ এম
লিবিয়ায় জিম্মি বাংলাদেশি যুবক, অভিযোগ প্রত্যাহারে পুলিশের চাপ

রাজধানীর খিলক্ষেতের বাসিন্দা ৩৯ বছর বয়সী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এনামুল হাসান বর্তমানে লিবিয়ায় জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন।

সচ্ছল জীবনের আশায় বিদেশ যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য।

আরও পড়ুন: এল ক্লাসিকোর আগে বড় জয়ে আত্মবিশ্বাসী রিয়াল মাদ্রিদ

এর আগেও বছরখানেক আগে দালালকে সাড়ে ১১ লাখ টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন তিনি। তবুও হাল ছাড়েননি এনামুল; যোগাযোগ করেছিলেন নিকুঞ্জের একটি এজেন্সিতে। সেই আগ্রহকে পুঁজি করেই প্রতারক চক্র তাকে স্পেনে কর্মসংস্থানের লোভ দেখিয়ে কৌশলে লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে ফেলেছে। গত ৭ অক্টোবর বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি ওই চক্রের কবলেই রয়েছেন তিনি। বছরখানেক আগে দালালের কথায় বিশ্বাস রেখে সাড়ে ১১ লাখ টাকা দিয়ে প্রতারিত হন। যোগাযোগ করেন নিকুঞ্জ এলাকার একটি এজেন্সির অফিসে। সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা তার আগ্রহ কাজে লাগিয়ে স্পেনে কর্মসংস্থানের নামে ফাঁদ পাতে। কৌশলে কয়েক দেশ ঘুরিয়ে নিয়ে যায় ‘লিবিয়ায়’। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরের সঙ্গে মৌখিক চুক্তিতে স্পেনে যাওয়ার উদ্দেশে ৭ অক্টোবর রাতে খিলক্ষেতের বাসা থেকে বের হন এনামুল হাসান।

ভুক্তভোগীর স্ত্রী হেপি আক্তার জানান, গত সোমবার খিলক্ষেত থানায় জাহাঙ্গীর, রিয়াজ, হারুন ও সায়মন নামের চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। কিন্তু পুলিশ সেই অভিযোগকে গুরুত্ব না দিয়ে কাটছাঁট করে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে গ্রহণ করে। এমনকি জিডির বিবরণে এনামুল খিলক্ষেতের তেঁতুলতলা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা মূল ঘটনার সাথে সাংঘর্ষিক। হেপি আক্তারের অভিযোগ, পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপই নেয়নি, বরং উল্টো তাকে অভিযোগ বা জিডি তুলে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে।

আরও পড়ুন: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে যৌথ হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, এসআই সাইদুর রহমান তাদের থানায় ডেকে অপরাধীদের সাথে সমঝোতা করে মুক্তিপণের টাকা দিয়ে এনামুলকে ছাড়িয়ে আনতে বলছেন। এই ধরনের অযৌক্তিক পরামর্শে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এনামুলের চাচা জাহাঙ্গীর আলম। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অপরাধীরা খিলক্ষেতে অবস্থান করে বাংলাদেশি নম্বর থেকে কল দিচ্ছে, অথচ প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত না করে পুলিশ দায় এড়াতে ভুক্তভোগী দুবাই বা লিবিয়ায় আছে বলে অজুহাত দিচ্ছে। এ ছাড়া টাকা দিলেই যে এনামুল সুস্থভাবে ফিরে আসবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই বলেও জানান তিনি।

প্রতারক চক্রটি দফায় দফায় মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে মুক্তিপণ দাবি করছে। শুরুতে ১৯ লাখ টাকা দাবি করলেও বর্তমানে তারা টাকার পরিমাণ কমিয়ে সাড়ে ৪ লাখ টাকা চাচ্ছে এবং আপাতত ২ লাখ টাকা পাঠানোর জন্য হুমকি দিচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, তারা এমএফএস নম্বর ও দেশের একটি বেসরকারি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নম্বর পাঠিয়ে টাকা দাবি করছে। চক্রের সদস্যরা ভুক্তভোগীর স্ত্রীকে অডিও বার্তার মাধ্যমে হুমকি দিচ্ছে যে, অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে পরিণাম ভালো হবে না। উলটো অভিযোগ প্রত্যাহার করে চক্রের সঙ্গে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছে। এরপর ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় অপর একটি নম্বর থেকে ফোন করে ফের ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করে হুমকি দেওয়া অব্যাহত রাখা হয়।

এ বিষয়ে এসআই সাইদুর রহমানের সাথে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনেই লাইন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। থানার ওসি বা অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। হেপি আক্তার আকুতি জানিয়ে বলেছেন, অভিযোগ প্রত্যাহার করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তিনি যে কোনো উপায়ে স্বামীর প্রাণ বাঁচাতে এবং তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে থানার ওসিসহ একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ফোন করে সাড়া মেলেনি। তারা যে কোনো মূল্যে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মূল অভিযোগ অনুযায়ী, এনামুলকে স্পেনে পাঠানোর চুক্তিতে গত ৭ অক্টোবর বাসা থেকে বের হতে হয়েছিল। এরপর মোবাইল ফোনে তিনি জানিয়েছিলেন, তাকে দুবাই হয়ে মরক্কো দিয়ে স্পেনে নেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে তাকে প্রতারণামূলকভাবে লিবিয়ায় আটকে রাখা হয়। এরপর ১৫ ও ১৬ অক্টোবর দফায় দফায় ফোন করে ১৯ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এনামুলকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় অপহরণকারী চক্রটি। এ অবস্থায় চরম আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন নিখোঁজ ব্যবসায়ীর পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, এনামুলকে উদ্ধারে পুলিশের ভূমিকা নির্বাক দর্শকের মতো।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে যৌথ হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৭ এম
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে যৌথ হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন পরবর্তীতে ইরানে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর লক্ষ্য নিয়ে যৌথ প্রস্তুতি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। সম্ভাব্য এ হামলার পরিকল্পনা বেশ জোরেশোরে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যেখানে স্বল্পমেয়াদে তীব্র সামরিক আঘাত হানার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি সামনে এসেছে। বুধবার নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: লিবিয়ায় জিম্মি বাংলাদেশি যুবক, অভিযোগ প্রত্যাহারে পুলিশের চাপ

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র ও কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, দুই দেশের সামরিক বাহিনী মহড়া ও প্রস্তুতি বৃদ্ধি করেছে। হামলার সার্বিক কৌশল ঝালিয়ে নিতেই ইরাকি আকাশসীমায় যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন পরিচালনা করা হচ্ছে। এ সামরিক অভিযানের সম্ভাব্য মূল লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রসমূহ, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের প্রধান মজুত কেন্দ্র এবং দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে ফ্লাইট স্থগিতের মেয়াদ বাড়াল কাতার এয়ারওয়েজ

চলতি সপ্তাহে নতুন এ সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কিত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরাইল সফর করেন এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে বৈঠক সম্পন্ন করেন। এ ছাড়া ইরানি পারমাণবিক কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে যে হামলা পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে, তার মধ্যে মাটির গভীরে তৈরি পিকঅ্যাক্স মাウントেন সামরিক স্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

তবে সামরিক এসব নকশায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত সম্মতি প্রদান করবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে গেছে।

কারণ চলতি বছরে বৃহৎ পরিসরে একাধিক হামলা পুনরায় শুরুর প্রস্তাবে ট্রাম্প শুরু থেকেই আপত্তি তুলেছেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ইরানের সাথে কূটনৈতিক আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোতে থাকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের পূর্বে সেখানে হামলা চালাবে না ওয়াশিংটন।

হোয়াইট হাউসের বক্তব্য ও হরমুজ প্রণালির বর্তমান অচলাবস্থা

  • হোয়াইট হাউসের দৃষ্টিভঙ্গি: হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রশাসন এমন কোনো সামরিক প্রস্তাব নিয়ে মন্তব্য করে না, যেগুলো বাস্তবায়ন হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। তবে ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন না করতে পারে, সে বিষয়ে ট্রাম্প সম্ভাব্য সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখছেন।
  • যুদ্ধ ও পাল্টা হামলা: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান আক্রমণের মাধ্যমে সংঘাতের সূচনা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এর জবাবে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ও ইসরাইলি স্বার্থে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে পাল্টা জবাব দেয় তেহরান।
  • জ্বালানি পথ ও ভূরাজনীতি: সংঘাতের জের ধরে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি স্থবির হয়ে পড়ে। গত জুন মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুপক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিয়মসহ নানা অমীমাংসিত বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হওয়ায় চুক্তি বাস্তবায়নে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com