নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা আরব ভোটারদের

ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে বিরোধী শিবির। আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে দেশটির ২১ শতাংশ আরব সংখ্যালঘু মুসলিম নাগরিকদের ভোট এবার বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলার পর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে সরাসরি নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের ওপর একটি গণভোট হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। নেতানিয়াহু সরকারকে উৎখাত করতে আগামী সপ্তাহের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম নাগরিকদের বিপুল সংখ্যায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির আরব নেতারা। ইসরায়েলের জনসংখ্যার ২১ শতাংশ হলো আরব সংখ্যালঘু, যারা ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনি মুসলিম কিন্তু নাগরিকত্বে ইসরায়েলি।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঘাস কাটা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৩০, এলাকায় উত্তেজনা
নির্বাচনী জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ১২০ আসনবিশিষ্ট নেসেটে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৫২টি আসন পেতে পারে।
আরও পড়ুন: অভাবের তাড়নায় সন্তান বিক্রির ঘোষণা: পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী
অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী জোটের ঝুলিতে যেতে পারে ৫০টি আসন। এই পরিস্থিতিতে জয়ের পথে এগিয়ে যেতে আরব ভোটারদের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউনাইটেড আরব লিস্ট পার্টির প্রধান মনসুর আব্বাস এবং জয়েন্ট লিস্টের নেতা আহমেদ তিবি সরকার গঠনে আরবদের অংশগ্রহণকে নিয়ামক শক্তি হিসেবে দেখছেন।
পরিসংখ্যান বলছে, এবারের নির্বাচনে আরব ভোটারদের অংশগ্রহণের হার বেড়ে ৬৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা ২০২২ সালে ছিল ৫৬ শতাংশ। বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ এবং পুলিশ মন্ত্রী ইতামার বেন-গভীরের সাম্প্রতিক চরমপন্থী কর্মকাণ্ডের কারণে আরবদের মধ্যে ভোট দেওয়ার আগ্রহ বেড়েছে বলে স্ট্যাট-নেট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
আসন বিন্যাসের ক্ষেত্রে মনসুর আব্বাসের দল পাঁচটি এবং জয়েন্ট লিস্ট আটটি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও গাদি আইজেনকোট আরব দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি জোট সরকার গঠনে এখন পর্যন্ত অনীহা দেখাচ্ছেন, তবুও মনসুর আব্বাস মনে করেন নির্বাচনের পরের কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতায় জোট গঠনের নতুন পথ উন্মোচিত হতে পারে। কার্যত, এই ভোটের ফলাফলই ঠিক করবে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভাগ্য।














