রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

মাত্র সাত বছরেই ৪৯ কবিতার কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করল ক্ষুদে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৯ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
মাত্র সাত বছরেই ৪৯ কবিতার কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করল ক্ষুদে

মাত্র সাত বছর বয়সে ৪৯টি কবিতা নিয়ে প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করে প্রবাসের সাহিত্যাঙ্গনে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে ক্ষুদে কবি পরমা টি পার্ল। তার এই অসামান্য সাহিত্যিক পদচারণা প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ২০১৯ সালের ২ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করা পরমা বর্তমানে নিউ ইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকার অ্যাবিগেইল অ্যাডামস স্কুলের প্রথম শ্রেণির একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। তার এই কাব্যগ্রন্থে স্থান পাওয়া ৪৯টি কবিতার মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে এক শৈশবের কল্পনা, আবেগ, অনুভূতি, ভয় ও স্বপ্নের মিশ্র রূপ। ঢাকার উচ্ছ্বাস প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত এই বইটির প্রতিটি কপির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ ডলার। শৈশবের কল্পনা, অনুভূতি, ভয়, স্বপ্ন ও ভালোবাসার বিচিত্র রং নিয়ে প্রকাশিত তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ Smell of My Words ঘিরে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে বসেছিল কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সংস্কৃতিকর্মী ও বিশিষ্টজনদের বর্ণাঢ্য মিলনমেলা। এসব কবিতায় ফুটে উঠেছে শিশুমনের কৌতূহল, আবেগ, ভালোবাসা, ভয়, আশা, স্বপ্ন এবং চারপাশের পৃথিবীকে নিজের মতো করে দেখার প্রবণতা। সহজ ভাষায় লেখা এ কবিতায় ভয়কে মোকাবিলা করা, প্রস্তুত থাকা এবং স্বপ্ন পূরণের আনন্দকে তুলে ধরেছে ক্ষুদে কবি। জীবনের পথে ভয় ও অনিশ্চয়তা আসতে পারে, কিন্তু সেগুলো যেন স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়—কবিতাটির অন্তর্নিহিত বার্তায় এমনই ইতিবাচক মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে। শিশুসুলভ সরলতা ও আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির মধ্য দিয়ে পরমা পাঠককে সাহসী হওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। Smell of My Words বইটির প্রচ্ছদেও রয়েছে শৈশবের কল্পনার রঙিন ছোঁয়া। দুই পাশে ঝুঁটি বাঁধা একটি ছোট্ট মেয়েকে ডেস্কে বসে বই পড়তে দেখা যায়। চারপাশে প্যাস্টেল রঙের মেঘ ও বর্ণিল প্রজাপতির চিত্র প্রচ্ছদটিকে করেছে আকর্ষণীয়। তাঁদের মতে, শিশুরা যখন নিজেদের অনুভূতি ও কল্পনাকে ভাষায় প্রকাশের সুযোগ পায়, তখন তাদের চিন্তাশক্তি, আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতা বিকশিত হয়। পরিবার, শিক্ষক এবং সমাজের সম্মিলিত উৎসাহ একটি শিশুর সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরমার এই উদ্যোগ অন্য শিশু-কিশোরদেরও বই পড়া, কবিতা লেখা এবং সাহিত্যচর্চায় আগ্রহী করে তুলতে পারে।

আরও পড়ুন: সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক

কাব্যগ্রন্থটির প্রকাশনা উপলক্ষে নিউ ইয়র্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে লেখক-শিল্পী, সাংবাদিক ও বিশিষ্টজনরা পরমার এই সৃজনশীল উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। বক্তারা পরমার সাহিত্যচর্চার ধারাবাহিক বিকাশ কামনা করে বলেন, বিদেশের মাটিতে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ধারা বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন সাপ্তাহিক ঠিকানার সাবেক প্রধান সম্পাদক ফজলুর রহমান, অধ্যাপিকা হুসনে আরা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চিত্রশিল্পী তাজুল ইমাম, রাজনীতিবিদ ড. প্রদীপ কর, সিনিয়র সাংবাদিক শামীম আল আমিন এবং রাজনীতিবিদ ও ফোবানার সেন্ট্রাল কমিটির চেয়ারম্যান যাকারিয়া চৌধুরী। মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন, অতিথিদের প্রাণবন্ত আলোচনা, দেশাত্মবোধক গান, শিশুর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির মানুষের আন্তরিক শুভেচ্ছায় অনুষ্ঠানটি পরিণত হয়েছিল এক অনন্য আনন্দঘন আয়োজনে। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন বিশিষ্ট ছড়াকার মনজুর কাদের। অনুষ্ঠানের সূচনায় আমন্ত্রিত সম্মানিত অতিথিরা মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে প্রকাশনা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

আরও পড়ুন: বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে রেকর্ড গড়া ‘তাপঝড়’

অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে পরমার কাব্যযাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করে বক্তব্য রাখেন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সাংস্কৃতিক কর্মী স্বপন দত্ত, রওশন আরা নিপা, স্কুলশিক্ষিকা মনিরা আখঞ্জি এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট স্বীকৃতি বড়ুয়া। এছাড়া কলামিস্ট ও সাংস্কৃতিক সংগঠক গোপাল স্যানাল, পরিমল সাহা, বিদ্যুৎ সরকার, হরিপদ মণ্ডলসহ পরমার মেজজেঠুও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তার এই অর্জনকে স্বাগত জানান। সাত বছর বয়সে ৪৯টি কবিতা নিয়ে গ্রন্থ প্রকাশ করাকে তার শৈশবের একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন অতিথিরা। তিনিই পরমার কাব্যগ্রন্থের নামকরণ করেছেন। বইটির উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলোর একটি My Fear Is Here। সনজীবন সরকার, কবি হাসান আল আবদুল্লাহ, খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক, কবি ও গীতিকার হুমায়ূন কবীর ঢালী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বাচিকশিল্পী মিনহাজ আহমদ শাম্মু এবং সংগঠক ও আবৃত্তিশিল্পী মিথুন আহমেদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রজ্ঞা নিউজের সম্পাদক উত্তম কুমার সাহা, নির্বাহী সম্পাদক ও আবৃত্তিশিল্পী মুনমুন সাহা, সম্পাদক দীপক আচার্য, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নিউটন দাসসহ প্রবাসের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পরমার বাবা পিনাকী তালুকদার ও মা সেঁজুতি তালুকদার সমবেত অতিথি, শুভানুধ্যায়ী এবং আয়োজনে যারা নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, পরমার বাবা পিনাকী তালুকদার গত ১২ বছর ধরে নিউ ইয়র্কের এইচ অ্যান্ড আর ব্লকে বেনিফিট স্পেশালিস্ট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের মাঝেও নিজের কন্যাকে বাংলা সাহিত্যের অনুরাগী করে গড়ে তোলার এই প্রচেষ্টা উপস্থিত সাহিত্যিক ও সমাজসেবীদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। পরমার এই কাব্যগ্রন্থটি কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষার চর্চাকে উৎসাহিত করার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন উপস্থিত বিশিষ্টজনরা। অল্প বয়সেই নিজের ভাবনা ও অনুভূতিকে কবিতার ভাষায় প্রকাশ করার মাধ্যমে সে দেখিয়েছে, সৃজনশীলতার বিকাশের জন্য বয়স কোনো চূড়ান্ত সীমা নয়। সাহা পূর্ণা, পরমার স্কুলশিক্ষিকা মিস শারমিন, পরমার মামা তন্ময় তালুকদার, মামী রুম্পা বসাক, ফুলমা প্রতিভা দাস, মা সেঁজুতি তালুকদার ও বাবা পিনাকী তালুকদার।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

তুরস্কের সঙ্গে সংঘাতের ইঙ্গিত দিলেন নেতানিয়াহু

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ পিএম
তুরস্কের সঙ্গে সংঘাতের ইঙ্গিত দিলেন নেতানিয়াহু

তুরস্কের সঙ্গে সংঘাতের

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে তিনি তুরস্কের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার কথাও ব্যক্ত করেছেন। ইসরাইলের চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন তিনি। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের প্রেক্ষাপট তৈরি করতে পারে।

সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুর বক্তব্য

  • নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইসরাইল তুরস্কের সঙ্গে কোনো সংঘর্ষে জড়াতে চায় না।
  • তবে ইসরাইলের নিরাপত্তানীতি অনুযায়ী সম্ভাব্য হুমকি ঠেকাতে আগাম আঘাত হানার সুযোগ রয়েছে, যা তুরস্কের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে।
  • ইসরাইলের কৌশলগত পরিকল্পনা সম্পর্কে সরাসরি উত্তর না দিলেও তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তার দেশ কোনোভাবেই নতি স্বীকার করবে না।
  • যেকোনো ধরনের সংঘাত মোকাবিলায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের সতর্কবার্তা দিল কাতার

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের সতর্কবার্তা দিল কাতার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের সতর্কবার্তা দিল কাতার

মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক মধ্যস্থতা ও পরোক্ষ আলোচনা চলমান রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কাতার। মঙ্গলবার দোহায় অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরাম’-এ এমন তথ্য জানান কাতারের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. মাজেদ বিন মোহাম্মদ আল-আনসারি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পর্যায়ভিত্তিক আলাপ-আলোচনা থমকে যায়নি।

আরও পড়ুন: তুরস্কের সঙ্গে সংঘাতের ইঙ্গিত দিলেন নেতানিয়াহু

আলোচনার গোপনীয়তা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে আল-আনসারি বলেন, মিডিয়ায় এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না পাওয়াই প্রমাণ করে যে মধ্যস্থতাকারীরা তাদের দায়িত্ব নিভৃতে পালন করে যাচ্ছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি এক ভয়াবহ পরিণতির ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়লে পুরো অঞ্চল এক ধ্বংসাত্মক বৈশ্বিক যুদ্ধের সম্মুখীন হবে, যা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয় বরং আন্তর্জাতিক শান্তিকেও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে।

আরও পড়ুন: সাইবার আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার গভীর উদ্বেগ

আঞ্চলিক অস্থিরতা নিরসনের ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, অতীতের যুদ্ধবিরতিগুলো স্থায়ী সমাধান দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। যেকোনো যুদ্ধবিরতিকে তিনি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির একটি প্রবেশদ্বার হিসেবে অভিহিত করেছেন। এ সময় তিনি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য এই আঞ্চলিক অস্থিরতাকে ব্যবহারের কড়া সমালোচনা করেন।

সৌদি আরবের নিরাপত্তা ইস্যুতে কাতার তার পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। আল-আনসারি জানান, নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র সৌদি আরব যেকোনো পদক্ষেপ নিলে তার পাশে রয়েছে কাতার। বিশেষ করে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার বিপরীতে রিয়াদের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে আঞ্চলিক সংকটগুলো সমন্বিতভাবে সমাধান করা প্রয়োজন।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

সাইবার আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার গভীর উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ পিএম
সাইবার আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার গভীর উদ্বেগ

বাংলাদেশের প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইনের সংশোধনী ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের নতুন কাঠামো নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘লা ফুনেত্র দ্য পারিস’ তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ২০২৬ সালের খসড়া সাইবার আইনের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি বলছে, এতে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। প্যারিসভিত্তিক এই সংগঠনটি জানায়, আইনে থাকা অস্পষ্ট ধারা, বিনা পরোয়ানায় তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা এবং বিচারিক তদারকি ছাড়া কনটেন্ট বন্ধ করার বিধান মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করবে। এছাড়া ‘গুজব’ ও ‘ভুল তথ্য’র মতো অস্পষ্ট বিষয়গুলোকে অপরাধের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করায় উদ্বেগের মাত্রা আরও বেড়েছে। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ২০২৬ সালের খসড়া সাইবার আইনের বিভিন্ন ধারা নিয়ে সামপ্রতিক বিশ্লেষণে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য উদ্বেগজনক বিষয় উঠে এসেছে। প্রস্তাবিত কাঠামোয় জামিন অযোগ্য অপরাধের কঠোর বিধান বহাল রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের সতর্কবার্তা দিল কাতার

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আগাম বিচারিক অনুমোদন ছাড়া কর্তৃপক্ষের এমন ব্যাপক ক্ষমতা সাইবার জগতে অনিয়ন্ত্রিত নজরদারি ও নিপীড়নের সুযোগ তৈরি করবে। এর ফলে সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট ও মানবাধিকারকর্মীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন এবং গণমাধ্যমগুলো স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে। রাজনৈতিক সমালোচনা বা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার এই প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী বলে মনে করছে সংস্থাটি। কোনো বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে তা অবশ্যই স্পষ্ট আইনের ভিত্তিতে, বৈধ উদ্দেশ্যে এবং প্রয়োজনীয় অনুপাতে হতে হবে বলে তারা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট ও মানবাধিকারকর্মীদের নিরাপত্তাও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর যেকোনো বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে তিনটি শর্ত পূরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছে এই সংস্থা।

আরও পড়ুন: আফগানিস্তানের কাছে বড় হারে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় বাংলাদেশের

মানবাধিকার সংস্থাটি সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র ও নাগরিক-রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে বলেছে, তথ্য ও ধারণা আদান-প্রদান করা মানুষের স্বীকৃত অধিকার। আইনকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে তারা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে, সাইবার অপরাধের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক মতপ্রকাশের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেকোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিচারিক অনুমোদনের প্রক্রিয়া পুনর্বহাল করতে হবে। এছাড়া, বাংলাদেশের সম্পাদক পরিষদ ও সুশীল সমাজের উদ্বেগের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে সংস্থাটি অবিলম্বে আইনি কাঠামোয় প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার তাগিদ দিয়েছে। প্রস্তাবিত আইনটি যেন নিপীড়নের হাতিয়ার না হয়ে ওঠে, সে বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com