হাজারীবাগে কুরিয়ার সার্ভিসে হামলা, ইমনের নামে চাঁদা দাবি

রাজধানীর হাজারীবাগে অবস্থিত এ জে আর কুরিয়ার সার্ভিসের প্রধান গুদাম ও কার্যালয়ে ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে শিকদার মেডিকেল কলেজসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মুখোশ ও হেলমেট পরিহিত শতাধিক ব্যক্তির একটি দল এই তাণ্ডব চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, শুরুতে হামলাকারীরা কার্যালয়ের আশপাশের বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো করে দেয়। এরপর দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় তারা। হামলাকারীরা কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে ডিভিআর ও সিসি ক্যামেরা খুলে নেওয়ার পাশাপাশি আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং বেশ কয়েকটি ল্যাপটপ লুট করে নিয়ে যায়। এতে প্রতিষ্ঠানটির কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। সন্ত্রাসীরা মুখোশ ও হেলমেট পরা ছিল।
আরও পড়ুন: সৌদিতে হুতি হামলার নিন্দা ও শিশুদের সুরক্ষা আইন অনুমোদন
আরও পড়ুন: আরাফাত মিনহাসের ঘূর্ণিতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে পাকিস্তানের দাপুটে জয়
এ জে আর গ্রুপের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় দুই বছর আগে শিকদার গ্রুপের কাছ থেকে চুক্তির ভিত্তিতে জমিটি ভাড়া নিয়ে তারা সেখানে তাদের প্রধান কার্যালয় ও গুদাম নির্মাণ করেন। নিয়ম অনুযায়ী, তারা নিয়মিত শিকদার গ্রুপকে ভাড়া পরিশোধ করে আসছেন। কিন্তু হামলার সময় দুষ্কৃতকারীরা দাবি করে, তাদের সঙ্গে শিকদার গ্রুপের মালিকপক্ষের কথা হয়েছে এবং এখন থেকে নিয়মিত জমির ভাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। অন্যথায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেয় হামলাকারীরা। উল্লেখ্য, এই কার্যালয় থেকেই প্রতিদিন ৪০০টি গাড়ির মাধ্যমে সারা দেশে পণ্য আনা-নেওয়ার কাজ পরিচালিত হয়, যা এই হামলার পর থেকে বন্ধ রয়েছে। কার্যালয়টি থেকে প্রতিদিন ৪০০ গাড়ি সারা দেশে পণ্য আনা নেওয়ার কাজ করে।
ঘটনার বিষয়ে হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি আরও জানান, শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের নাম ব্যবহার করে এই হামলা ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ। এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। বর্তমানে পুরো এলাকাটিতে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং প্রতিষ্ঠানটির সকল কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে।






















