ের উত্তর: এল ক্লাসিকোর ফল ঠিক করে দিতে পারে যে পাঁচ

ফুটবল বিশ্বে উত্তেজনার অপর নাম এল ক্লাসিকো। আগামীকাল রাতে ক্যাম্প ন্যুতে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ। লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে এখন দারুণ অবস্থানে বার্সা; নয় ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে তারা শীর্ষে। সমান ম্যাচে ২১ পয়েন্ট পাওয়া রিয়ালের জন্য এই ম্যাচটি বেশ চ্যালেঞ্জিং। এই লড়াইয়ে হারলে রিয়াল মাদ্রিদের শিরোপা দৌড় থেকে পিছিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে নয় পয়েন্ট পর্যন্ত। কত স্মৃতি জমা করে রাখে মনের অ্যালবামে। মেসির বাঁ পায়ের জাদু, রোনালদোর দুরন্ত গতি। তবে স্মৃতির আগুন একেবারে নিভেও যায়নি। তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবে ডালপালা মেলছে। লা লিগায় ৯ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সা। মাদ্রিদের দলটি হারলে শিরোপার দৌড়ে ব্যবধান হয়ে যাবে ৯ পয়েন্ট। ফুটবল কখনো কখনো অদ্ভুত বৃত্ত তৈরি করে। নিজের উঠোনে বার্সেলোনা যেন অজেয় এক দল। আগের ১৬ ম্যাচে তাদের জয়ও ছিল তিনটি।
বার্সার কোচ হান্সি ফ্লিকের সামনে যেমন ব্যবধান বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ, তেমনি রিয়ালের ডাগআউটে থাকা হোসে মরিনিওর সামনেও রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। সঙ্গে পেপ গার্দিওলা আর জোসে মরিনিওর মস্তিষ্কের যুদ্ধ। বার্সার সহকারী কোচ তিতো ভিয়ানোভার চোখে আঙুল ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন মরিনিও।
আরও পড়ুন: জামালগঞ্জে এসিল্যান্ডের বিস্ফোরক পোস্ট, ইউএনওকে দায়ী করে পদত্যাগ
এই মহারণের আগে ফুটবল বিশ্লেষকদের নজর থাকছে পাঁচটি বিশেষ বিষয়ের ওপর।
পরিসংখ্যান বলছে, রাফিনিয়া যখনই রিয়ালের বিপক্ষে মাঠে নামেন, বার্সেলোনার ভাগ্য সহায় হয়। রাফিনিয়া খেলেছেন এমন গত ছয়টি ক্লাসিকোর সব কটিতেই জিতেছে বার্সেলোনা। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১০ ম্যাচে ১৪ গোল করেছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা, যার মধ্যে লিগের ৮ ম্যাচে ১২ গোল নিয়ে তিনি এখন সর্বোচ্চ গোলদাতা। চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে দল হারলেও, তিনি আত্মবিশ্বাসী যে এল ক্লাসিকোর ফলাফলে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। মনে আছে ২০১১ সালের স্প্যানিশ সুপার কাপ। পরিসংখ্যান কখনো কখনো ফুটবলের ভবিষ্যৎ বলে দেওয়ার চেষ্টা করে। রিয়ালের কোচদের মধ্যে এর আগে এমন কীর্তি আছে মিগুয়েল মুনোজ ও ভিসেন্তে দেল বস্কের। জয় এসেছে এস্পানিওল ও এলচের বিপক্ষে।
আরও পড়ুন: এইচএসসির ফল প্রকাশ ২৯ অক্টোবর: জানালেন ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যান
ম্যাচটির অন্যতম আকর্ষণ দুই কোচের কৌশলগত লড়াই। হোসে মরিনিও ফিরেছেন রিয়ালের ডাগআউটে, যিনি অতীতেও এই লড়াইয়ে নাটকীয় সব মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন। রিয়ালের হয়ে প্রথম মেয়াদে ১৭টি এল ক্লাসিকোয় তার পরিসংখ্যান ৫ জয়, ৬ ড্র ও ৬ হারের। ২০১৩ সালে রিয়াল ছাড়ার আগে তিনি টানা পাঁচটি ক্লাসিকোয় অপরাজিত ছিলেন। এবার তার লক্ষ্য সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। অন্যদিকে বার্সা কোচ ফ্লিকের রেকর্ড বেশ ঈর্ষণীয়, সাত ম্যাচে তার ছয় জয়। বার্সা সেই ম্যাচ হারলেও রাফিনিয়ার বিশ্বাসে চিড় ধরেনি। পরে রিয়ালের দায়িত্ব নিয়ে সেই বার্সেলোনারই সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে উঠেছিলেন। প্রথম মেয়াদে ১৭ এল ক্লাসিকোয় তাঁর ৫ জয়, ৬ ড্র, ৬ হার। দুই কোচের লড়াই তাই শুধু কৌশলের নয়, ব্যক্তিত্বেরও।
ক্যাম্প ন্যু এখন বার্সেলোনার দুর্ভেদ্য দুর্গ। ঘরের মাঠে তারা টানা ২৩টি লিগ ম্যাচে অপরাজিত। চলতি মৌসুমে ঘরের মাঠে খেলা ৫ ম্যাচে তারা প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়েছে ২২ বার, অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি গড়ে চারটিরও বেশি গোল। রিয়ালের অ্যাওয়ে ফর্ম কিছুটা উদ্বেগের কারণ, শেষ চার লিগ ম্যাচের দুটিতেই হেরেছে তারা। যদিও বার্সার মাঠ ক্যাম্প ন্যু-তে সর্বশেষ ছয়টি লিগ ম্যাচের তিনটিতেই রিয়াল জিতেছে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে। ঘরের মাঠে টানা ২৩ লিগ ম্যাচে জয়ের ধারায় তারা। গত মৌসুমে ১৯ ম্যাচের সব কটিতে জিতেছে।
বার্সেলোনার আক্রমণভাগ চলতি মৌসুমে বিধ্বংসী ফর্মে, ১২ ম্যাচে তারা করেছে ৫০ গোল। তবে পিএসজির কাছে ৪-২ গোলের হার ফ্লিকের রক্ষণভাগের দুর্বলতাগুলো সামনে এনেছে। লিগে বার্সা প্রতি ম্যাচে গড়ে মাত্র ৬.৮টি শট হজম করলেও, প্রতিপক্ষের শটের বিপরীতে তাদের এক্সজি (xG) মান বেশ উচ্চ, যা নির্দেশ করে যে সুযোগ পেলে প্রতিপক্ষ গোল করার ভালো সম্ভাবনা পায়। এছাড়া রক্ষণভাগে জুলস কুন্দের অনুপস্থিতি বার্সাকে ভোগাতে পারে।
রিয়াল মাদ্রিদের ক্ষেত্রেও বড় ধাক্কা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের অনুপস্থিতি। নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি মাঠে নামতে পারছেন না, কিন্তু রিয়ালের আক্রমণে যথেষ্ট গভীরতা রয়েছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে বার্সার বিপক্ষে ছয় ম্যাচে ছয় গোল করেছেন, গড়ে প্রতি ৭৫ মিনিটে একটি। এছাড়া জুড বেলিংহামও এল ক্লাসিকোতে চার গোল ও দুই অ্যাসিস্ট নিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ভিনিসিয়ুসের জায়গায় দিওমান্দেও সেভিয়া ও লাইপজিগের বিপক্ষে ভালো খেলেছেন। নতুন যুগে লামিনে ইয়ামাল আর কিলিয়ান এমবাপ্পে। নিজে করেছেন ৭ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট।
ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, এল ক্লাসিকোর জয় এখন সমান ১০৬টি করে। ড্র হয়েছে ৫২টি। রিয়ালের মোট গোল ৪৪৪টি, যেখানে বার্সেলোনা করেছে ৪৪১টি। লা লিগায় টানা নয়টি জয়ের রেকর্ড ছুঁয়েছে বার্সেলোনা, যা ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে মিগুয়েল মুনোজের রিয়াল গড়েছিল। এই ম্যাচটি একদিকে যেমন ফ্লিকের সাম্রাজ্য গড়ার স্বপ্ন, অন্যদিকে মরিনিওর নতুন ইতিহাস তৈরির মঞ্চ। লিওনেল মেসি বা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো না থাকলেও এল ক্লাসিকোর আবেদন আজও অমলিন। প্রধান কোচ হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি।


















