এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে ইতিহাস গড়ে জয় পেল ফর্টিস এফসি

এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল ফর্টিস এফসির। কুয়েতের আল কাদসিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারের পর ভারতের এফসি গোয়ার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল দলটি। ফলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি কেবলই আনুষ্ঠানিকতায় রূপ নিয়েছিল। তবে সেই ম্যাচেই অভাবনীয় ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশের এই ক্লাবটি। কুয়েতের হাওয়ালির মোহামেদ আল হামাদ স্টেডিয়ামে তাজিকিস্তানের শক্তিশালী দল এফসি রেগার-তাদাজকে ৩-১ গোলে হারিয়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে নিজেদের প্রথম জয়ের স্বাদ পেল ফর্টিস। ফলে বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় রেগার-তাদাজকে। কিন্তু সেই ম্যাচকেই স্মরণীয় করে রাখল বাংলাদেশের ক্লাবটি। গোলটি যেন নতুন করে আত্মবিশ্বাস জোগায় বাংলাদেশের দলটিকে। তবু হতাশার সেই অভিযান শেষ হলো বড় এক প্রাপ্তিতে।
আরও পড়ুন: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেড়েছে সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায়, টার্গেটে নারী যাত্রীরা
ম্যাচের শুরুটা মোটেও সুখকর ছিল না ফর্টিসের জন্য। ১২ মিনিটের মাথায় শেরজোদ মাখামাদিয়েভের গোলে এগিয়ে যায় তাজিকিস্তানের ক্লাবটি। প্রথমার্ধে ফর্টিস সেই গোল শোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় তাদের। অবশ্য প্রথমার্ধেই ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত মিলেছিল যখন ফর্টিসের নরিকি আকাদাকে ফাউল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন তাজিক ডিফেন্ডার তকাম সেভেরিন। দশ জনের দলে পরিণত হয়েও প্রথমার্ধে আধিপত্য ধরে রেখেছিল রেগার-তাদাজ। তবে পাঁচ মিনিট পরই ম্যাচের চিত্র বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত মেলে। একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ বাড়িয়ে তিন গোল আদায় করে নেয় ফর্টিস।
আরও পড়ুন: লন্ডনে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাইয়ের ২৪০ কোটি টাকার ফ্ল্যাট জব্দ
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেয় ফর্টিস এফসি। গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড পা ওমর বাবুর অসাধারণ নৈপুণ্য এবং বদলি খেলোয়াড়দের সঠিক পরিকল্পনায় তাজিক রক্ষণভাগ ভেঙে পড়ে। ৬৭ মিনিটে পা ওমর বাবুর নিখুঁত পাস থেকে রাফায়েল টুডু দুর্দান্ত এক ব্যাকহিলে গোল করে সমতা ফেরান। এরপরই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। ৭১ মিনিটে কর্নার থেকে অনন্ত তামাংয়ের হেডের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নেটে বল জড়িয়ে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন শিয়ান কাওয়াসাকি।
ম্যাচের শেষ দিকেও নিজেদের জয়ের লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি দলটি। ৮৮ মিনিটে পা ওমর বাবুর বাড়িয়ে দেওয়া বলটি চমৎকার ফিনিশিংয়ে জালে জড়িয়ে ৩-১ ব্যবধান নিশ্চিত করেন বদলি হিসেবে নামা জাপানি মিডফিল্ডার শুকি ইতোফুসা। এই জয়টি টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হওয়া ফর্টিসের জন্য এক বড় প্রাপ্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক কোনো টুর্নামেন্টের মূল পর্বে জয় পাওয়ায় আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের এই ক্লাবটি এবার হার না মানা মানসিকতার পরিচয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করল। শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখে দলটি।



















