সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

মাত্র সাত বছরেই ৪৯ কবিতার কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করল ক্ষুদে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৯ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
মাত্র সাত বছরেই ৪৯ কবিতার কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করল ক্ষুদে

মাত্র সাত বছর বয়সে ৪৯টি কবিতা নিয়ে প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করে প্রবাসের সাহিত্যাঙ্গনে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে ক্ষুদে কবি পরমা টি পার্ল। তার এই অসামান্য সাহিত্যিক পদচারণা প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ২০১৯ সালের ২ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করা পরমা বর্তমানে নিউ ইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকার অ্যাবিগেইল অ্যাডামস স্কুলের প্রথম শ্রেণির একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। তার এই কাব্যগ্রন্থে স্থান পাওয়া ৪৯টি কবিতার মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে এক শৈশবের কল্পনা, আবেগ, অনুভূতি, ভয় ও স্বপ্নের মিশ্র রূপ। ঢাকার উচ্ছ্বাস প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত এই বইটির প্রতিটি কপির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ ডলার। শৈশবের কল্পনা, অনুভূতি, ভয়, স্বপ্ন ও ভালোবাসার বিচিত্র রং নিয়ে প্রকাশিত তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ Smell of My Words ঘিরে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে বসেছিল কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সংস্কৃতিকর্মী ও বিশিষ্টজনদের বর্ণাঢ্য মিলনমেলা। এসব কবিতায় ফুটে উঠেছে শিশুমনের কৌতূহল, আবেগ, ভালোবাসা, ভয়, আশা, স্বপ্ন এবং চারপাশের পৃথিবীকে নিজের মতো করে দেখার প্রবণতা। সহজ ভাষায় লেখা এ কবিতায় ভয়কে মোকাবিলা করা, প্রস্তুত থাকা এবং স্বপ্ন পূরণের আনন্দকে তুলে ধরেছে ক্ষুদে কবি। জীবনের পথে ভয় ও অনিশ্চয়তা আসতে পারে, কিন্তু সেগুলো যেন স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়—কবিতাটির অন্তর্নিহিত বার্তায় এমনই ইতিবাচক মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে। শিশুসুলভ সরলতা ও আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির মধ্য দিয়ে পরমা পাঠককে সাহসী হওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। Smell of My Words বইটির প্রচ্ছদেও রয়েছে শৈশবের কল্পনার রঙিন ছোঁয়া। দুই পাশে ঝুঁটি বাঁধা একটি ছোট্ট মেয়েকে ডেস্কে বসে বই পড়তে দেখা যায়। চারপাশে প্যাস্টেল রঙের মেঘ ও বর্ণিল প্রজাপতির চিত্র প্রচ্ছদটিকে করেছে আকর্ষণীয়। তাঁদের মতে, শিশুরা যখন নিজেদের অনুভূতি ও কল্পনাকে ভাষায় প্রকাশের সুযোগ পায়, তখন তাদের চিন্তাশক্তি, আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতা বিকশিত হয়। পরিবার, শিক্ষক এবং সমাজের সম্মিলিত উৎসাহ একটি শিশুর সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরমার এই উদ্যোগ অন্য শিশু-কিশোরদেরও বই পড়া, কবিতা লেখা এবং সাহিত্যচর্চায় আগ্রহী করে তুলতে পারে।

আরও পড়ুন: সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক

কাব্যগ্রন্থটির প্রকাশনা উপলক্ষে নিউ ইয়র্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে লেখক-শিল্পী, সাংবাদিক ও বিশিষ্টজনরা পরমার এই সৃজনশীল উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। বক্তারা পরমার সাহিত্যচর্চার ধারাবাহিক বিকাশ কামনা করে বলেন, বিদেশের মাটিতে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ধারা বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন সাপ্তাহিক ঠিকানার সাবেক প্রধান সম্পাদক ফজলুর রহমান, অধ্যাপিকা হুসনে আরা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চিত্রশিল্পী তাজুল ইমাম, রাজনীতিবিদ ড. প্রদীপ কর, সিনিয়র সাংবাদিক শামীম আল আমিন এবং রাজনীতিবিদ ও ফোবানার সেন্ট্রাল কমিটির চেয়ারম্যান যাকারিয়া চৌধুরী। মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন, অতিথিদের প্রাণবন্ত আলোচনা, দেশাত্মবোধক গান, শিশুর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির মানুষের আন্তরিক শুভেচ্ছায় অনুষ্ঠানটি পরিণত হয়েছিল এক অনন্য আনন্দঘন আয়োজনে। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন বিশিষ্ট ছড়াকার মনজুর কাদের। অনুষ্ঠানের সূচনায় আমন্ত্রিত সম্মানিত অতিথিরা মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে প্রকাশনা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

আরও পড়ুন: বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে রেকর্ড গড়া ‘তাপঝড়’

অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে পরমার কাব্যযাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করে বক্তব্য রাখেন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সাংস্কৃতিক কর্মী স্বপন দত্ত, রওশন আরা নিপা, স্কুলশিক্ষিকা মনিরা আখঞ্জি এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট স্বীকৃতি বড়ুয়া। এছাড়া কলামিস্ট ও সাংস্কৃতিক সংগঠক গোপাল স্যানাল, পরিমল সাহা, বিদ্যুৎ সরকার, হরিপদ মণ্ডলসহ পরমার মেজজেঠুও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তার এই অর্জনকে স্বাগত জানান। সাত বছর বয়সে ৪৯টি কবিতা নিয়ে গ্রন্থ প্রকাশ করাকে তার শৈশবের একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন অতিথিরা। তিনিই পরমার কাব্যগ্রন্থের নামকরণ করেছেন। বইটির উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলোর একটি My Fear Is Here। সনজীবন সরকার, কবি হাসান আল আবদুল্লাহ, খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক, কবি ও গীতিকার হুমায়ূন কবীর ঢালী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বাচিকশিল্পী মিনহাজ আহমদ শাম্মু এবং সংগঠক ও আবৃত্তিশিল্পী মিথুন আহমেদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রজ্ঞা নিউজের সম্পাদক উত্তম কুমার সাহা, নির্বাহী সম্পাদক ও আবৃত্তিশিল্পী মুনমুন সাহা, সম্পাদক দীপক আচার্য, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নিউটন দাসসহ প্রবাসের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পরমার বাবা পিনাকী তালুকদার ও মা সেঁজুতি তালুকদার সমবেত অতিথি, শুভানুধ্যায়ী এবং আয়োজনে যারা নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, পরমার বাবা পিনাকী তালুকদার গত ১২ বছর ধরে নিউ ইয়র্কের এইচ অ্যান্ড আর ব্লকে বেনিফিট স্পেশালিস্ট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের মাঝেও নিজের কন্যাকে বাংলা সাহিত্যের অনুরাগী করে গড়ে তোলার এই প্রচেষ্টা উপস্থিত সাহিত্যিক ও সমাজসেবীদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। পরমার এই কাব্যগ্রন্থটি কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষার চর্চাকে উৎসাহিত করার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন উপস্থিত বিশিষ্টজনরা। অল্প বয়সেই নিজের ভাবনা ও অনুভূতিকে কবিতার ভাষায় প্রকাশ করার মাধ্যমে সে দেখিয়েছে, সৃজনশীলতার বিকাশের জন্য বয়স কোনো চূড়ান্ত সীমা নয়। সাহা পূর্ণা, পরমার স্কুলশিক্ষিকা মিস শারমিন, পরমার মামা তন্ময় তালুকদার, মামী রুম্পা বসাক, ফুলমা প্রতিভা দাস, মা সেঁজুতি তালুকদার ও বাবা পিনাকী তালুকদার।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

তামিলনাড়ুতে দলিত ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় শ্রেণি শিক্ষক গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম
তামিলনাড়ুতে দলিত ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় শ্রেণি শিক্ষক গ্রেপ্তার

ভারতের তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরে ১৬ বছর বয়সী একাদশ শ্রেণির এক দলিত শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে গভীর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার পিলামেডু এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে গরুর গোশত খাওয়ার বিষয়টি প্রকাশের পর থেকে জাতপাতের বিদ্বেষ ও বুলিংয়ের শিকার হয়ে আসছিল সে। এই অসহনীয় হেনস্তাই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর কারণ বলে দাবি তাদের।

শিক্ষার্থীর মায়ের ভাষ্যমতে, শ্রেণিশিক্ষক পি বিজয়কুমার তফসিলি জাতিভুক্ত শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের শনাক্ত করতে চেয়েছিলেন। সেই সময় শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে যারা গরুর গোশত খায়, তাদের দাঁড়াতে বললে ওই শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন দাঁড়িয়েছিল। এরপর থেকেই দুই সহপাঠী নিয়মিত তাকে নিয়ে কটূক্তি, খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিদ্রূপ এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন শুরু করে। বৃত্তির সুবিধা নিতে ওই শিক্ষার্থীও নাম লেখায়।

পরিবারের অভিযোগ, শ্রেণিশিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষক অরুণ কুমারকে বারবার বিষয়টি জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। শিক্ষার্থীর মা জানান, তার ছেলে আইনজীবী হতে চেয়েছিল। তবে স্কুলে ক্রমাগত হেনস্তার কারণে কয়েকদিন সে ক্লাসেও যায়নি। এ ঘটনার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করছেন তিনি এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ছেলের কাছে স্কুলে গিয়ে অভিযোগ জানানোর কথা ভাবলেও সে আশঙ্কা করেছিল, এতে তাকে আরো একঘরে করা হতে পারে এবং হেনস্তা বাড়তে পারে। পুলিশের ধারণা, পরে সে বাড়িতে ফিরে আসে। দুপুরের দিকে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করা তার মা বাড়িতে ফিরে ছেলেকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। শিক্ষার্থীর বাবা কেরালার একটি অবকাশযাপন কেন্দ্রে কাজ করেন।

আরও পড়ুন: ইরানের নিশানায় মার্কিন নাগরিক, হত্যার ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত পর্যায়ে

পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পিলামেডু থানা পুলিশ অভিযুক্ত শ্রেণিশিক্ষক পি বিজয়কুমারকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া প্রধান শিক্ষক অরুণ কুমার এবং ওই দুই সহপাঠীকেও মামলায় আসামি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বুধবার সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি।

ঘটনার প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর স্বজনেরা স্থানীয় থানায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তামিলনাড়ু রাজ্যের তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতি কমিশন কোয়েম্বাটুরের পুলিশ কমিশনারের কাছে এক সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন তলব করেছে।

দলিত অধিকারকর্মী সুরজ কুমার বৌদ্ধ ১৬ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে একটি ‘প্রাতিষ্ঠানিক হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, দলিত খ্রিষ্টান ও অধিকারকর্মী শালিন মারিয়া লরেন্স উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলোতে গরুর গোশত খাওয়ার অজুহাতে শিক্ষার্থীদের প্রকাশ্যে শনাক্ত করার প্রবণতা বাড়ছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, এ ধরনের বৈষম্য শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে এবং শিক্ষাব্যবস্থায় জাতপাতভিত্তিক বিদ্বেষ নির্মূল করা জরুরি। এর ফলে দলিত শিশুরা জাতপাতভিত্তিক হেনস্তার ঝুঁকিতে পড়ছে।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

ইরানের নিশানায় মার্কিন নাগরিক, হত্যার ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত পর্যায়ে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম
ইরানের নিশানায় মার্কিন নাগরিক, হত্যার ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত পর্যায়ে

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন কর্মকর্তা ও কর্মীদের লক্ষ্য করে ইরান তাদের নাশকতার তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটন গত ২৩ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো একটি বিশেষ মেমোতে এমন উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন। মেমোটির অনুলিপি মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফকেও দেয়া হয়েছে। ক্লেটনের মতে, মার্কিন নাগরিকদের হত্যার উদ্দেশ্যে ইরান বর্তমানে অত্যন্ত সক্রিয় এবং এই ষড়যন্ত্র এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে বা ‘উচ্চ পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রথম এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা একটি মেমোতে এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক জে ক্লেটন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানপন্থি হুতি বাহিনীর কাছ থেকে হুমকি বৃদ্ধির বিষয়টি সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: তামিলনাড়ুতে দলিত ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় শ্রেণি শিক্ষক গ্রেপ্তার

আরও পড়ুন: ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন আজ

নিরাপত্তা ঝুঁকির এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত বুধবার সৌদি আরবে অবস্থিত তাদের কূটনৈতিক মিশনের জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অবিলম্বে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন মিশনগুলো থেকেও পরিবার সদস্যদের সরিয়ে নেয়ার প্রস্তুতি চলছে। এর আগে গত শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পারস্য উপসাগরসহ মধ্যপ্রাচ্যের এক ডজনেরও বেশি দেশের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করে। এর মধ্যে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক ও ইসরাইল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে সৌদি আরবে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনে জনবল কমিয়ে আনার পর এ সতর্কবার্তা সামনে এলো।

এ বিষয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন দূতাবাসে জনবল কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যালোচনার অংশ। মূলত ইরান সমর্থিত হুতিদের হামলার ঝুঁকি এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইরানের সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রের তথ্যের ভিত্তিতেই এই মিশনগুলোতে ‘রেস্ট্রিকটেড অপারেশনস স্ট্যাটাস’ বা সীমিত কার্যক্রমের নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। ইরান যুদ্ধের আট মাস শেষ হতে চললেও পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অস্থিরতা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনসমর্থনের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ক্রমাগত হামলার ঘটনাও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নতুন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে ইরান যুদ্ধ আট মাস পূর্ণ করে নবম মাসে প্রবেশের দ্বারপ্রান্তে।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম
ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন আজ

আজ ২৫ অক্টোবর ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন। ১৯৯৫ সালের এই দিনে ঢাকার হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। জাইমা রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র কন্যা। তার দাদা ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বীর উত্তম জিয়াউর রহমান এবং দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া। এছাড়া তার নানা নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান। জাইমা রহমানের বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রভাবশালী এক পরিবারে। পারিবারিক এই ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক আবহের মধ্যে বড় হলেও জাইমা রহমান নিজের পথটি বেছে নিয়েছেন আইন ও জনসেবার অঙ্গনে।

আরও পড়ুন: ইরানের নিশানায় মার্কিন নাগরিক, হত্যার ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত পর্যায়ে

আরও পড়ুন: ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকটে উত্তাল রাজপথ

শৈশবে ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রোডের ৬ নম্বর বাসায় বেড়ে ওঠেন জাইমা। ২০০৮ সালে বাবার সঙ্গে তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান। দীর্ঘ সময় বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ারে ব্যস্ত থাকার পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি মা-বাবার সঙ্গে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এর আগে ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের সম্মানজনক প্রতিষ্ঠান ইনার টেম্পল থেকে তিনি ‘বার-অ্যাট-ল’ ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশের আইনি ব্যবস্থার সাথে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬ সালের জুন মাসে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তার বাবা তারেক রহমান গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি বাবার সঙ্গে ২০০৮ সালে লন্ডনে চলে যান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর মা-বাবার সঙ্গে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। জাইমা যুক্তরাজ্যের ‘কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন’ থেকে আইনে স্নাতক (এলএলবি) সম্পন্ন করেন।

পেশাগত জীবনে তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বেশ সক্রিয়। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ব্যারিস্টার জাইমা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা বা ‘লিগ্যাল অফিসার’ হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি সভাপতির এক্সিকিউটিভ অফিসের অধীনে আন্তর্জাতিক আইনি বিষয়গুলো দক্ষতার সাথে তদারকি করছেন।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com