আদালতের নির্দেশে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন স্থগিত

নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন আদালতের নির্দেশে আকস্মিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ২৩ অক্টোবর শুক্রবার নিউইয়র্কের সাটিফিন বুলেভার্ডে অবস্থিত কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শেষে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। দুপুর ১২টায় শুনানি শুরু হওয়ার পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিচারক এই স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। আগামী ২৫ অক্টোবর রোববার এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্তে সংগঠনের সদস্য ও ভোটারদের মাঝে ব্যাপক অনিশ্চয়তা ও হতাশা তৈরি হয়েছে। এদিকেম নির্বাচন অনুষ্ঠানের ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে আকস্মিক এ স্থগিতাদেশে প্রার্থী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পরে বিকাল সাড়ে ৫টায় বিচারক স্থগিতাদেশ দেন। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি, প্রচার-প্রচারণা এবং নির্বাচনী ব্যস্ততার পর শেষ মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্তে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাজ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনায় চক্রের ২১ সদস্যের কারাদণ্ড
আরও পড়ুন: নদীপথে বাড়ছে অপরাধ, চ্যালেঞ্জে নৌ পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা
আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য ৫ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন। তবে কী সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে বা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি। বাংলাদেশ সোসাইটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন দ্রুত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানাবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মিয়া মোহাম্মদ দুলাল জানান, শুক্রবার রাত ৮টায় সংগঠনের কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে পরবর্তী করণীয় ও আদালতের আদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হবে।
সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে আদালতে আইনি লড়াই নতুন কিছু নয়। এর আগে ২০১৮ সালেও সংগঠনের সাবেক কর্মকর্তা ওসমান চৌধুরী ভোটার তালিকা ও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে কুইন্স কাউন্টি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সে সময় আদালত কর্তৃপক্ষকে জবাব দেওয়ার জন্য ২০ দিনের সময় দিয়েছিলেন। একই বছরের অক্টোবরে একাধিক সদস্য পৃথক মামলাও করেছিলেন। দীর্ঘ আট বছর পর আবারও নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে আদালতের হস্তক্ষেপে ভোট স্থগিত হওয়ার ঘটনায় সংগঠনের সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ ও নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। এখন সকলের দৃষ্টি আগামী ৫ নভেম্বরের শুনানির দিকে। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনের ভাগ্য। আদালত তখন সোসাইটি কর্তৃপক্ষকে অভিযোগের জবাব দিতে ২০ দিনের সময় দিয়েছিলেন।একই বছরের অক্টোবরে আরও কয়েকজন সদস্য পৃথক মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে আইনি জটিলতার কারণে সে বছরের নির্বাচনও স্থগিত হয়ে যায়। এখন সবার নজর আগামী ৫ নভেম্বরের শুনানি এবং নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের দিকে।


















