শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

রপ্তানি পণ্যের নতুন সম্ভাবনা: তাঁবু ও আউটডোর সরঞ্জাম শিল্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩১ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
রপ্তানি পণ্যের নতুন সম্ভাবনা: তাঁবু ও আউটডোর সরঞ্জাম শিল্প

প্রচলিত তৈরি পোশাক শিল্পের বাইরে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে তাঁবু ও আউটডোর সরঞ্জাম তৈরির শিল্প একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের বাজারে ক্যাম্পিং ও অ্যাডভেঞ্চার সরঞ্জামের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে এ শিল্পের বিনিয়োগ এবং উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে তাঁবু রপ্তানির ক্ষেত্রে চীনের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। এই খাতে ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোও বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে, যা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে। বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি নতুন উৎপাদন ইউনিট স্থাপন এবং বিদ্যমান কারখানাগুলোর সক্ষমতা সম্প্রসারণ হলে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। ইপিবির তথ্যানুযায়ী এই প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে খাতটিতে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহও বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগ বাড়াতে চান তারা। তাঁবুর অ্যাকসেসরিজ, সেফটি শু ও ফ্যাশন শু উৎপাদন করে বাংলাদেশের শিল্পায়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। আরো উন্নত পণ্য, টেকসই উপকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ক্যাম্পিং সরঞ্জাম তৈরির সক্ষমতা অর্জন করা গেলে স্থানীয় উৎপাদকরা উচ্চমূল্যের অর্ডার পাওয়ার প্রতিযোগিতায় আরো ভালো অবস্থানে যেতে পারবেন। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা যখন আরো কঠিন হয়ে উঠবে, তখন প্রচলিত পোশাকের বাইরে প্রযুক্তিনির্ভর টেক্সটাইল পণ্যের এই ধরনের বহুমুখীকরণ বাংলাদেশের রপ্তানি অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

জাতিসংঘের বাণিজ্য পরিসংখ্যান সংস্থা কমট্রেড এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, বৈশ্বিক বাজারে ক্যাম্পিং তাঁবুর বাজার বর্তমানে প্রায় ৬.১৮ বিলিয়ন ডলারের। ইপিবির সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ তাঁবু ও ক্যাম্পিং সামগ্রী রপ্তানি করে প্রায় ২৩৭.৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে এই খাত থেকে আয় হয়েছে প্রায় ২০.৮৩ মিলিয়ন ডলার। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের মোট রপ্তানি করা তাঁবুর প্রায় ৯৩ শতাংশই সিনথেটিক ফাইবার থেকে তৈরি, যার আর্থিক মূল্য ২২ কোটি ৭ লাখ ডলার। বাকি অংশ ক্যাম্পিং সরঞ্জাম, তারপলিন ও ছাউনি এবং টেক্সটাইল ভিত্তিক তাঁবু থেকে আসে। পার্ক বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানান, কারখানায় উৎপাদিত ব্যাগের প্রায় ৮০ শতাংশই নেদারল্যান্ডসে রপ্তানি করা হয়।

এই খাতের রপ্তানি আয়ের ধারা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ৪২১ মিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছিল ২৭৬ মিলিয়ন ডলারে এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ২২২ মিলিয়ন ডলার। করোনা মহামারির প্রভাবে বিশ্ববাজারে চাহিদা কিছুটা সংকুচিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে খাতটি নতুন করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ বিশ্বের ৪৯টি দেশে তাঁবু ও ক্যাম্পিং সরঞ্জাম রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বাজার হলো যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে গত অর্থবছরে ৮৭.৫২ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা মোট রপ্তানির প্রায় ৩৬.৯ শতাংশ। এরপর উল্লেখযোগ্য বাজারের তালিকায় রয়েছে ফ্রান্স (২৮.৭৩ মিলিয়ন ডলার), কানাডা (১৯.৯৯ মিলিয়ন ডলার), স্পেন (১৯.১৭ মিলিয়ন ডলার) এবং যুক্তরাজ্য (১৮.৪৪ মিলিয়ন ডলার)। এই পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন নতুন পণ্য রপ্তানিতে দেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে সবাই বাংলাদেশি: এলজিআরডি মন্ত্রী

দেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোতে (ইপিজেড) এই শিল্পটি মূলত কেন্দ্রীভূত। বর্তমানে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) অধীনে ১৪টি কারখানা সক্রিয়ভাবে উৎপাদন চালাচ্ছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ করা গেছে। গত ২০ মে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস ও হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘সানশাইন আউটডোর বিডি কোং লিমিটেড’ তাঁবু ও ক্যাম্পিং পণ্য উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগের জন্য জমি ইজারা চুক্তি করেছে। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার ‘পিএইচ ক্রিয়েটিভ বিডি লিমিটেড’ একই অর্থনৈতিক অঞ্চলে তাঁবুর ফ্রেম, ফাইবারগ্লাস পোল, স্লিপিং ব্যাগ, ক্যাম্পিং চেয়ার ও আনুষঙ্গিক পণ্য উৎপাদনের জন্য ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার বিনিয়োগের চুক্তি সম্পন্ন করে। দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও হংকংসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশকে এসব পণ্যের অন্যতম উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করছেন। আউটডোর বিনোদন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সহায়তায় তাঁবুর ব্যবহার বাড়ায় এ পণ্যের বৈশ্বিক বাজারও বড় হচ্ছে। যেখানে বছরে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ পিস তাঁবু, ব্যাগ-ব্যাকপ্যাক, ক্যাম্পিং চেয়ার-ফার্নিচার, লাগেজ, স্লিপিং ব্যাগ ও গেজেবো উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। গত অর্থবছরে ৩ কোটি ৭২ লাখ ডলারের তাঁবু রপ্তানি করেছে এইচকেডি আউটডোর ইনোভেশনস লিমিটেডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ইপিজেডে অফমা ক্যাম্প লিমিটেড ক্যাম্পিংয়ে ব্যবহৃত হ্যামক বা ঝুলন্ত বিছানা, স্লিপিং ব্যাগ, বালিশ, ঘোড়ার স্যাডল প্যাডসহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে। ২০১০ সালে কর্ণফুলী ইপিজেডে যাত্রা শুরু করা ‘এ-টাইপ’ প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার কর্মী কাজ করছেন।

বিনিয়োগের তালিকায় আরও রয়েছে ক্যাম্পভ্যালি গ্লোবাল লিমিটেড, যারা প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। হংকং-চীনভিত্তিক গ্রিন পিউর হাউসওয়্যার কোম্পানি লিমিটেড গ্রিনহাউস ও হাইড্রোপনিকস টেন্ট উৎপাদনে প্রায় ৩ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

এছাড়া তাইওয়ানের ন্যাটওয়ে আউটডোর ৩ কোটি ৩ লাখ ডলার এবং কুইন্ডা আউটডোর ১ কোটি ২০ লাখ ডলারের কারখানা স্থাপনে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ১০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং সক্ষমতা বাড়াতে সম্প্রতি আরো সাড়ে ৩ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে।

আরও পড়ুন: জ্বালানি বাজারের সবচেয়ে বড় সংকট এখনো বাকি: কাতার

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ইপিজেডে অবস্থিত ক্যাম্পভ্যালি গ্লোবাল লিমিটেড বছরে প্রায় ১২ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী হং উ লি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ তাদের বৈশ্বিক সম্প্রসারণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

এছাড়া এইচকেডি ইন্টারন্যাশনাল তাদের ১১টি উৎপাদন লাইনের মাধ্যমে মাসে প্রায় ৩ লাখ তাঁবু তৈরি করছে এবং বিশ্বের ৩৩টি দেশে তা সরবরাহ করছে।

অফমা ক্যাম্প লিমিটেড নামক আরেকটি প্রতিষ্ঠান গত অর্থবছরে ৪ কোটি ২৫ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যাদের অন্যতম বড় ক্রেতা ফরাসি খুচরা বিক্রেতা ডিক্যাথেলন।

তবে সম্ভাবনার বিপরীতে এ শিল্পের বিকাশে কাঁচামাল আমদানিনির্ভরতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্যাম্পভ্যালির বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক কামার উল হক জানান, উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত কাঁচামালের মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ দেশে উৎপাদিত হয়। বাকি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কাঁচামাল, বিশেষ করে পলিয়েস্টার ও নাইলন ফেব্রিক, পিইউ ও সিলিকন কোটিং, পলিয়েস্টার মেশ, দড়ি ও ফ্রেমের মতো উপকরণগুলো চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তিনি আরও জানান, যদি এসব কাঁচামাল স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করা যায়, তবে উৎপাদন খরচ অনেকাংশে কমে আসবে এবং দ্রুত পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হবে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু উদ্যোক্তা দেশে কাঁচামাল উৎপাদনের উদ্যোগ নিচ্ছেন, যা ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে। তাঁবু তৈরিতে ব্যবহৃত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষায়িত ফেব্রিক, কাঠামোগত পোল, জিপার, ফিটিংসসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক উপকরণের বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

কর্ণফুলী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক মনে করেন, ইপিজেডগুলো শুধু পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভর না থেকে এই ধরনের বৈচিত্র্যময় শিল্প গড়ে তোলায় দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং কাঁচামাল উৎপাদনে বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তাঁবু ও আউটডোর সরঞ্জাম শিল্প বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের তালিকায় একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হয়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

এল ক্লাসিকোর আগে বড় জয়ে আত্মবিশ্বাসী রিয়াল মাদ্রিদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৭ এম
এল ক্লাসিকোর আগে বড় জয়ে আত্মবিশ্বাসী রিয়াল মাদ্রিদ

তিন দিন পর লা লিগায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো। সেই বড় ম্যাচের আগে চ্যাম্পিয়নস লিগে লাইপজিগের বিপক্ষে ৪-১ গোলের বিশাল জয় রিয়াল মাদ্রিদকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাল। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে রিয়ালের হয়ে গোল পেয়েছেন বের্নার্দো সিলভা, আরদা গুলের, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ইয়ান দিওমান্দে। বুন্দেসলিগার ক্লাব লাইপজিগের বিপক্ষে রিয়াল জিতেছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে সেই প্রস্তুতিটা বড় জয়ে সেরেছে জোসে মরিনিওর দল। রিয়ালের চার গোলই এসেছে ম্যাচের প্রথম চল্লিশ মিনিটের পর।

ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল বেশ ঘটনাহীন। তবে ৪৩ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন বের্নার্দো সিলভা। আরদা গুলেরের শট থেকে আসা ফিরতি বলে গোলটি করেন এই পর্তুগিজ মিডফিল্ডার, যা রিয়ালের জার্সিতে তাঁর প্রথম গোল। বিরতির পর ৫২ মিনিটে গুলের নিজেই গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। জুড বেলিংহামের ক্রস থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পের হেডে বল পেয়ে কাছ থেকে লক্ষ্যভেদ করেন তুরস্কের এই তরুণ তারকা।

আরও পড়ুন: লিবিয়ায় জিম্মি বাংলাদেশি যুবক, অভিযোগ প্রত্যাহারে পুলিশের চাপ

ম্যাচের ৮৩ মিনিটে স্কোরশিটে নাম লেখান এমবাপ্পে। ইয়ান দিওমান্দের পাস থেকে দারুণ এক বাঁকানো শটে বল জালে জড়ান তিনি। এটি চলতি মৌসুমে এমবাপ্পের ১২ ম্যাচে ১২তম গোল। যদিও এর দুই মিনিট পর লাইপজিগের বদলি খেলোয়াড় তিদিয়াম গোমিস একটি গোল শোধ করেন, তবে ৮৭ মিনিটে দিওমান্দে দুর্দান্ত এক ভলিতে গোল করে রিয়ালের বড় জয় নিশ্চিত করেন। ৩-০ গোলে পিছিয়ে যাওয়ার দুই মিনিট পর লাইপজিগের হয়ে একটি গোল শোধ করেন বদলি খেলোয়াড় তিদিয়াম গোমিস। শুরু থেকে দুই দলই খেলেছে উত্তাপহীন ফুটবল। মিউনিখে বায়ার্নকে আটকে দিল আর্সেনাল।

স্নায়ুচাপের এই ম্যাচে গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া ছিলেন অসামান্য। ২৮ মিনিটে রোমুলোর প্রচেষ্টা এবং ৪১ মিনিটে ক্রিস্টোফার এনকুনকুর শট ঠেকিয়ে রিয়ালকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করেন তিনি। অন্যদিকে, লাইপজিগের গোলরক্ষকও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একটি আক্রমণ প্রতিহত করেছিলেন। ২৮ মিনিটে থিবো কোর্তোয়া দেয়াল হয়ে না দাঁড়ালে গোল প্রায় করেই ফেলেছিলেন রোমুলো। ৪১ মিনিটে ক্রিস্টোফার এনকুনকুর কাছ থেকেও রিয়ালকে দারুণভাবে দলকে রক্ষা করেন বেলজিয়ান গোলরক্ষক।

চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা তিন ম্যাচ জিতে রিয়াল মাদ্রিদ এখন সুবিধাজনক অবস্থানে। বিপরীত চিত্র লাইপজিগের। দুই ম্যাচে ১০ গোল হজম করে তারা পয়েন্ট টেবিলের ২৯তম স্থানে নেমে গেছে। সব প্রস্তুতির ইতি টেনে এখন রিয়ালের সম্পূর্ণ মনোযোগ রোববারের এল ক্লাসিকোর দিকে।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

লিবিয়ায় জিম্মি বাংলাদেশি যুবক, অভিযোগ প্রত্যাহারে পুলিশের চাপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৭ এম
লিবিয়ায় জিম্মি বাংলাদেশি যুবক, অভিযোগ প্রত্যাহারে পুলিশের চাপ

রাজধানীর খিলক্ষেতের বাসিন্দা ৩৯ বছর বয়সী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এনামুল হাসান বর্তমানে লিবিয়ায় জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন।

সচ্ছল জীবনের আশায় বিদেশ যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য।

আরও পড়ুন: এল ক্লাসিকোর আগে বড় জয়ে আত্মবিশ্বাসী রিয়াল মাদ্রিদ

এর আগেও বছরখানেক আগে দালালকে সাড়ে ১১ লাখ টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন তিনি। তবুও হাল ছাড়েননি এনামুল; যোগাযোগ করেছিলেন নিকুঞ্জের একটি এজেন্সিতে। সেই আগ্রহকে পুঁজি করেই প্রতারক চক্র তাকে স্পেনে কর্মসংস্থানের লোভ দেখিয়ে কৌশলে লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে ফেলেছে। গত ৭ অক্টোবর বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি ওই চক্রের কবলেই রয়েছেন তিনি। বছরখানেক আগে দালালের কথায় বিশ্বাস রেখে সাড়ে ১১ লাখ টাকা দিয়ে প্রতারিত হন। যোগাযোগ করেন নিকুঞ্জ এলাকার একটি এজেন্সির অফিসে। সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা তার আগ্রহ কাজে লাগিয়ে স্পেনে কর্মসংস্থানের নামে ফাঁদ পাতে। কৌশলে কয়েক দেশ ঘুরিয়ে নিয়ে যায় ‘লিবিয়ায়’। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরের সঙ্গে মৌখিক চুক্তিতে স্পেনে যাওয়ার উদ্দেশে ৭ অক্টোবর রাতে খিলক্ষেতের বাসা থেকে বের হন এনামুল হাসান।

ভুক্তভোগীর স্ত্রী হেপি আক্তার জানান, গত সোমবার খিলক্ষেত থানায় জাহাঙ্গীর, রিয়াজ, হারুন ও সায়মন নামের চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। কিন্তু পুলিশ সেই অভিযোগকে গুরুত্ব না দিয়ে কাটছাঁট করে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে গ্রহণ করে। এমনকি জিডির বিবরণে এনামুল খিলক্ষেতের তেঁতুলতলা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা মূল ঘটনার সাথে সাংঘর্ষিক। হেপি আক্তারের অভিযোগ, পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপই নেয়নি, বরং উল্টো তাকে অভিযোগ বা জিডি তুলে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে।

আরও পড়ুন: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে যৌথ হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, এসআই সাইদুর রহমান তাদের থানায় ডেকে অপরাধীদের সাথে সমঝোতা করে মুক্তিপণের টাকা দিয়ে এনামুলকে ছাড়িয়ে আনতে বলছেন। এই ধরনের অযৌক্তিক পরামর্শে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এনামুলের চাচা জাহাঙ্গীর আলম। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অপরাধীরা খিলক্ষেতে অবস্থান করে বাংলাদেশি নম্বর থেকে কল দিচ্ছে, অথচ প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত না করে পুলিশ দায় এড়াতে ভুক্তভোগী দুবাই বা লিবিয়ায় আছে বলে অজুহাত দিচ্ছে। এ ছাড়া টাকা দিলেই যে এনামুল সুস্থভাবে ফিরে আসবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই বলেও জানান তিনি।

প্রতারক চক্রটি দফায় দফায় মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে মুক্তিপণ দাবি করছে। শুরুতে ১৯ লাখ টাকা দাবি করলেও বর্তমানে তারা টাকার পরিমাণ কমিয়ে সাড়ে ৪ লাখ টাকা চাচ্ছে এবং আপাতত ২ লাখ টাকা পাঠানোর জন্য হুমকি দিচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, তারা এমএফএস নম্বর ও দেশের একটি বেসরকারি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নম্বর পাঠিয়ে টাকা দাবি করছে। চক্রের সদস্যরা ভুক্তভোগীর স্ত্রীকে অডিও বার্তার মাধ্যমে হুমকি দিচ্ছে যে, অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে পরিণাম ভালো হবে না। উলটো অভিযোগ প্রত্যাহার করে চক্রের সঙ্গে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছে। এরপর ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় অপর একটি নম্বর থেকে ফোন করে ফের ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করে হুমকি দেওয়া অব্যাহত রাখা হয়।

এ বিষয়ে এসআই সাইদুর রহমানের সাথে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনেই লাইন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। থানার ওসি বা অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। হেপি আক্তার আকুতি জানিয়ে বলেছেন, অভিযোগ প্রত্যাহার করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তিনি যে কোনো উপায়ে স্বামীর প্রাণ বাঁচাতে এবং তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে থানার ওসিসহ একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ফোন করে সাড়া মেলেনি। তারা যে কোনো মূল্যে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মূল অভিযোগ অনুযায়ী, এনামুলকে স্পেনে পাঠানোর চুক্তিতে গত ৭ অক্টোবর বাসা থেকে বের হতে হয়েছিল। এরপর মোবাইল ফোনে তিনি জানিয়েছিলেন, তাকে দুবাই হয়ে মরক্কো দিয়ে স্পেনে নেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে তাকে প্রতারণামূলকভাবে লিবিয়ায় আটকে রাখা হয়। এরপর ১৫ ও ১৬ অক্টোবর দফায় দফায় ফোন করে ১৯ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এনামুলকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় অপহরণকারী চক্রটি। এ অবস্থায় চরম আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন নিখোঁজ ব্যবসায়ীর পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, এনামুলকে উদ্ধারে পুলিশের ভূমিকা নির্বাক দর্শকের মতো।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে যৌথ হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৭ এম
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে যৌথ হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন পরবর্তীতে ইরানে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর লক্ষ্য নিয়ে যৌথ প্রস্তুতি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। সম্ভাব্য এ হামলার পরিকল্পনা বেশ জোরেশোরে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যেখানে স্বল্পমেয়াদে তীব্র সামরিক আঘাত হানার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি সামনে এসেছে। বুধবার নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: লিবিয়ায় জিম্মি বাংলাদেশি যুবক, অভিযোগ প্রত্যাহারে পুলিশের চাপ

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র ও কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, দুই দেশের সামরিক বাহিনী মহড়া ও প্রস্তুতি বৃদ্ধি করেছে। হামলার সার্বিক কৌশল ঝালিয়ে নিতেই ইরাকি আকাশসীমায় যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন পরিচালনা করা হচ্ছে। এ সামরিক অভিযানের সম্ভাব্য মূল লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রসমূহ, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের প্রধান মজুত কেন্দ্র এবং দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে ফ্লাইট স্থগিতের মেয়াদ বাড়াল কাতার এয়ারওয়েজ

চলতি সপ্তাহে নতুন এ সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কিত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরাইল সফর করেন এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে বৈঠক সম্পন্ন করেন। এ ছাড়া ইরানি পারমাণবিক কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে যে হামলা পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে, তার মধ্যে মাটির গভীরে তৈরি পিকঅ্যাক্স মাウントেন সামরিক স্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

তবে সামরিক এসব নকশায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত সম্মতি প্রদান করবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে গেছে।

কারণ চলতি বছরে বৃহৎ পরিসরে একাধিক হামলা পুনরায় শুরুর প্রস্তাবে ট্রাম্প শুরু থেকেই আপত্তি তুলেছেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ইরানের সাথে কূটনৈতিক আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোতে থাকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের পূর্বে সেখানে হামলা চালাবে না ওয়াশিংটন।

হোয়াইট হাউসের বক্তব্য ও হরমুজ প্রণালির বর্তমান অচলাবস্থা

  • হোয়াইট হাউসের দৃষ্টিভঙ্গি: হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রশাসন এমন কোনো সামরিক প্রস্তাব নিয়ে মন্তব্য করে না, যেগুলো বাস্তবায়ন হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। তবে ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন না করতে পারে, সে বিষয়ে ট্রাম্প সম্ভাব্য সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখছেন।
  • যুদ্ধ ও পাল্টা হামলা: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান আক্রমণের মাধ্যমে সংঘাতের সূচনা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এর জবাবে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ও ইসরাইলি স্বার্থে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে পাল্টা জবাব দেয় তেহরান।
  • জ্বালানি পথ ও ভূরাজনীতি: সংঘাতের জের ধরে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি স্থবির হয়ে পড়ে। গত জুন মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুপক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিয়মসহ নানা অমীমাংসিত বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হওয়ায় চুক্তি বাস্তবায়নে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com