বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

ইশরাক ইস্যুতে মিডিয়া ট্রায়াল ও রাজনৈতিক সমীকরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩২ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ইশরাক ইস্যুতে মিডিয়া ট্রায়াল ও রাজনৈতিক সমীকরণ

সম্প্রতি ইশরাক হোসেনকে কেন্দ্র করে যে মিডিয়া ট্রায়ালের ঘটনা ঘটেছে, তা গণমাধ্যমের বিতর্কিত ভূমিকার এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। ঐতিহাসিকভাবে ইরাক ও আফগান যুদ্ধের আগে পশ্চিমা মিডিয়ার সংবাদ পরিবেশনের ধরনে এমন পক্ষপাতিত্ব দেখা গিয়েছিল। বাংলাদেশে গত ১৫ বছর ধরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে যেভাবে চরিত্র হননের মিশন চলেছে, ইশরাক ইস্যুতেও সেই একই ফ্রেমিং লক্ষ্য করা গেছে। গণমাধ্যম প্রকৃত ইস্যু আড়াল করে ব্যক্তি চরিত্র হননে বেশি তৎপর হয়ে উঠেছে। গণমাধ্যম যে মাঝে মাঝে বিতর্কিত ভূমিকায় উপনীত হয় এটা আমরা ইরাক ও আফগান যুদ্ধের পূর্বে আমেরিকার বিভিন্ন মিডিয়ার সংবাদ প্রকাশের ধরন দেখে হাতেনাতে প্রমাণ পেয়েছি। বাংলাদেশে তো সাংবাদিকতার নামে একদল লোকের চরিত্র নির্মাণ ও আরেক দল লোকের চরিত্র নাশের এক নগ্ন খেলায় পরিণত হতে আমরা এর আগে বহু দেখেছি। আজকে যিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, জনাব তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে মিডিয়াগুলোর চরিত্রনাশা মিশন আমরা বিগত ১৫ বছর ভালো মতোই দেখেছি। বিধি মোতাবেক তা বে-আইনি এটা বলার সুযোগ নাই। পুলিশ কেন এখনো যথেষ্ট সক্রিয় হতে পারছে না। বাংলাদেশের গণতন্ত্রবিরোধী মিডিয়াগুলো এই ইস্যুতে তাদের চরিত্র ভালোই উদাম করে দিয়েছে। আমরা দেখলাম মিডিয়া একের পর এক খবর ছাপিয়ে যাচ্ছে এমন ভাবে যার সঙ্গে আসল ঘটনার কোনো সংযোগ নেই। এই ঘটনায় বিরল ব্যতিক্রমবাদে পত্রিকা ও অন্য মিডিয়াগুলো যে পপুলার বয়ান তৈরি করতে চেষ্টা করলো, যেভাবে পারসেপশন তৈরি করলো তাতে কতোগুলো বিষয় সামনে আসে।

আরও পড়ুন: নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের ঘোষণা দেবে কাতার

মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ইশরাক পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাজ করছিলেন। অতীতে এই এলাকায় মাদক সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর গুলি চালিয়েছিল, যার ফলে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস করত না। আত্মরক্ষার জন্য নিজের লাইসেন্স করা বৈধ অস্ত্র সাথে রাখা সত্ত্বেও মিডিয়া এটাকে নেতিবাচকভাবে প্রচার করেছে। মাত্র কয়েক মিনিটের একটি দৃশ্যকে বড় করে দেখিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে জনগুরুত্বপূর্ণ অভিযানকে আড়াল করা হয়েছে। মার্শাল ম্যাকলোহানের সেই বিখ্যাত উক্তি ‘মিডিয়া ইজ দ্যা মেসেজ’ এবার যেন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আবারও প্রমাণিত হলো। হারিয়ে গেল মাদকের বিরুদ্ধে তার অভিযানে নামার জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি। মাদকের ভয়াল থাবা থেকে দেশ ও নতুন প্রজন্মকে কীভাবে রক্ষা করা সম্ভব- এই সকল আলোচনার বদলে মিডিয়াতে সয়লাব হয়ে গেল অস্ত্র হাতে ইশরাক। মিডিয়া পণ্ডিত মার্শাল ম্যাকলোহান একটা কথা বলেছিলেন: মিডিয়া ইজ দ্যা মেসেজ।

ইশরাক হোসেনকে নিয়ে যখন পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ে, তখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ইশরাক নিজে একে গুজব বলে উড়িয়ে দেন। পরবর্তী সময়ে বিটিভি যখন খবর প্রচার করে যে প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন, তখন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে তা ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করে সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ইশরাক এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, তিনি দলের বা প্রধানমন্ত্রীর চাপে নয়, বরং নিজেই স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার লক্ষ্য হলো, পপুলার সেন্টিমেন্টকে ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলোকে যেন বিতর্কিত বা আড়াল করা না হয়। পরদিন দুপুরে নিজেই সংবাদ সম্মেলন করে জানান, প্রধানমন্ত্রীকে তিনি নিজেই পদত্যাগ করতে চান বলে জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের সব শিশুকে স্পেসএক্সের শেয়ার দেবেন ইলন মাস্ক

এই পুরো ঘটনায় ইশরাকের কর্মকাণ্ডের ইনটেনশন বা উদ্দেশ্যকে পুরোপুরি এড়িয়ে কেবল অ্যাকশন বা দৃশ্যপটকে সামনে আনা হয়েছে। উমবার্তো একোর ভাষায়, আধুনিক সেন্সরশিপ এখন খবর গোপন করার চেয়ে ইস্যুকে নন-ইস্যু বানানো বা অপ্রাসঙ্গিক বিষয়কে মূল ফোকাসে নিয়ে আসার মাধ্যমে কার্যকর হয়। মাদক সিন্ডিকেট ও তাদের মদদদাতারা কি মিডিয়ার এই ফ্রেমিং থেকে সুবিধা পাচ্ছে? ইশরাক নিজেই আন্তর্জাতিক মাদক সিন্ডিকেটের যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সরকার যদি সুশীল সমাজের বয়ানে প্রভাবিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা মাদক সম্রাটদের মনোবল বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে সরকারের অফিসিয়াল সিদ্ধান্ত আসার আগে পদত্যাগের বিষয়ে যে খবর চাউর হয় তা সারাদিনের মিস-ফ্রেমিং এর বাই প্রোডাক্ট।

বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার জন্য এই ধরনের হাইপ তৈরির পেছনে সরকারি দলের ভেতরের ও বাইরের শক্তির যোগসাজশ রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। দলকে রাজনৈতিকভাবে বলি দিয়ে সরকারের স্থায়িত্ব বাড়ানো বা জনপ্রিয়তা অর্জন করা আত্মঘাতী কৌশল হতে পারে। জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে এবং বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করতে বরং এই ধরনের মিডিয়া ট্রায়ালের বিপরীতে দাঁড়িয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ইশরাক হোসেন যেন এক নতুন রাজনৈতিক যাত্রার ইঙ্গিত দিয়েছেন। মন্ত্রী বা সরকারি পদের চেয়ে জননেতা হিসেবে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকারই এখন তার মূল লক্ষ্য। সাহসিকতার জন্য নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন, এবার নতুন পরিচয়ে পুনর্জন্ম হচ্ছে তার। আদালতের বিচারে অপরাধের ক্ষেত্রে যেমন ইনটেনশন দেখা হয়, মিডিয়া ট্রায়ালের ক্ষেত্রে তার তোয়াক্কা করা হয়নি। তবে মাঠের লড়াই ও মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হওয়াই এখন ইশরাকের প্রধান চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এই দৃশ্যটা অনেকের পছন্দ হয়নি।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

উপনিবেশোত্তর রাষ্ট্রে মাতৃভাষার গুরুত্ব ও জ্ঞানচর্চার রূপান্তর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩২ এম
উপনিবেশোত্তর রাষ্ট্রে মাতৃভাষার গুরুত্ব ও জ্ঞানচর্চার রূপান্তর

ঔপনিবেশিক শাসন-শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে আসা দেশগুলোর সামনে বুদ্ধিবৃত্তিক মুক্তির পথ সুগম করতে মাতৃভাষায় শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ইতিহাস ও শিক্ষার ঔপনিবেশিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বিচার করলে দেখা যায়, বিদ্যাসাগর একাধিক ভাষায় সুপণ্ডিত হয়েও মাতৃভাষা বাংলার চর্চার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তিনি সংস্কৃত ও ইংরেজি চিরায়ত সাহিত্য বাংলায় অনুবাদ করে মাতৃভাষার ভিত্তি মজবুত করার প্রয়াস চালিয়েছিলেন। নগুগি ওয়া থিয়ঙ্গো-এর মতে, মাতৃভাষার পরিবর্তে অন্য ভাষায় পারদর্শী হওয়া দাসত্বের নামান্তর। তাঁর মতে, “আপনি যদি নিজের মাতৃভাষা ছাড়া জগতের অন্য সকল ভাষাও রপ্ত করে থাকেন, তাহলে আপনি দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দি রয়েছেন। কিন্তু মাতৃভাষা রপ্ত থাকার পাশাপাশি অন্যান্য ভাষার শক্তি যুক্ত করতে পারলে প্রকৃত ক্ষমতায়ন ঘটে।” এই সত্যটি উপনিবেশোত্তর দেশগুলোর জন্য গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক (তথ্যসূত্র: Ngugi wa thiong’o, ‘Makers Dream’, Dcolonizing Language and Other Revolutuinary Ideas, পৃষ্ঠা ৭৩)। ইতিহাস, ভাষা ও শিক্ষার ঔপনিবেশিক রাজনীতি ৩৫। অন্যদিকে, মাতৃভাষা যদি আপনার রপ্ত থাকে, আর তার সঙ্গে যদি জগতের অন্যান্য ভাষার শক্তি যুক্ত করেন, তাহলে আপনার ক্ষমতায়ন ঘটেছে।”২৯১। তথাপি, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আপন ‘জাতিভাষা’ অর্থাৎ মাতৃভাষা বাংলা চর্চার বিশেষ গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি বরাবরই সচেতন ছিলেন। কিন্তু এখানে এটাও উপলব্ধি করা জরুরি যে, ঔপনিবেশিক ভাষার বদলে নিজেদের মাতৃভাষায় শিক্ষাপ্রদানের ক্ষেত্রে, পশ্চিমা ঔপনিবেশিক শক্তিসমূহ আপন আপন দেশে নিজ নিজ ভাষায় শিক্ষাদানের মাধ্যমে জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখায় ইতিমধ্যেই যে প্রভূত অগ্রগতি সাধন করেছে, উপনিবেশোত্তর।

আরও পড়ুন: এফডিআই বাড়লেও নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতা, মুনাফা পুনর্বিনিয়োগই ভরসা

তৃতীয়ত, উপনিবেশোত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতন্ত্রায়ণের জন্য জনশিক্ষার প্রসার একান্ত জরুরি। বৈশ্বিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রাক্তন উপনিবেশক শক্তিগুলোসহ উন্নত দেশগুলো মাতৃভাষায় জনশিক্ষা নিশ্চিত করেই জ্ঞান-বিজ্ঞানে উৎকর্ষ সাধন করেছে। তাই উন্নয়নকামী দেশগুলোকে এই মডেল অনুসরণের মাধ্যমেই বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে হবে। তবে মাতৃভাষায় শিক্ষার অর্থ এই নয় যে, বিশ্বজ্ঞান থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা। পশ্চিমা দেশগুলো তাদের নিজেদের ভাষায় যে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা করছে, তা আমাদের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনে বিদেশি ভাষা শেখাও একটি অপরিহার্য দায়িত্ব।

নানা বিদেশি ভাষায় থাকা উন্নত জ্ঞান-বিজ্ঞান দেশীয় ভাষায় নিয়ে আসার প্রধান মাধ্যম হলো অনুবাদ। উপনিবেশোত্তর দেশগুলোর নীতিনির্ধারকদের উচিত রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়-কেন্দ্রিক বৃহৎ অনুবাদ প্রকল্প গ্রহণ করা। প্রথিতযশা অধ্যাপকদের নেতৃত্বে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ বিউপনিবেশায়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে এবং গণতান্ত্রিক মুক্তির পথ প্রশস্ত করবে। এটি কেবল একটি ভাষাগত পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, যথাযথ অনুবাদ ও মাতৃভাষার চর্চাই আধুনিক জ্ঞান-ভিত্তিক সমাজ নির্মাণের একমাত্র কার্যকর পথ হতে পারে। এই প্রশ্নের সর্বজনীন উত্তর হলো, অনুবাদ — প্রচুর অনুবাদ।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

এফডিআই বাড়লেও নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতা, মুনাফা পুনর্বিনিয়োগই ভরসা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩২ এম
এফডিআই বাড়লেও নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতা, মুনাফা পুনর্বিনিয়োগই ভরসা

দেশের অর্থনীতিতে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবাহে প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হলেও, নতুন মূলধন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থবিরতা কাটছে না। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে নিট এফডিআই ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির সিংহভাগই এসেছে আগে থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশি কোম্পানিগুলোর মুনাফা পুনর্বিনিয়োগের মাধ্যমে। বিপরীতে, নতুন করে মূলধন বিনিয়োগের হার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি, বিদেশি কোম্পানিগুলোর আন্তঃকোম্পানি ঋণের নিট প্রবাহেও বড় ধরনের ধস নেমেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আগে থেকে বিনিয়োগ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্বিনিয়োগ করা আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অর্থাৎ, আগের প্রান্তিকের তুলনায় বিনিয়োগ বাড়লেও বছরওয়ারি হিসাবে তা কমেছে।

বিদেশি বিনিয়োগের খাত ও পরিসংখ্যান

  • নিট এফডিআই প্রবাহ: ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার।
  • মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ: ২৬ কোটি ৯ লাখ ১০ হাজার ডলার (মোট এফডিআইয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশ)।
  • নতুন ইকুইটি বিনিয়োগ: ৭ কোটি ৭৪ লাখ ২০ হাজার ডলার (৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ হ্রাস)।
  • আন্তঃকোম্পানি ঋণ প্রবাহ: ৮৬ লাখ ১০ হাজার ডলারে নেমে এসেছে (৮৫ দশমিক ১৭ শতাংশ হ্রাস)।

ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বাংলাদেশে প্রধানত তিনভাবে বিদেশি বিনিয়োগ আসে—পুনর্বিনিয়োগকৃত আয়, নতুন ইকুইটি মূলধন এবং আন্তঃকোম্পানি ঋণ। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে বিশ্বজুড়েই বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে থাকায় বাংলাদেশে নতুন মূলধন প্রবাহের গতি কমে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে বিনিয়োগ পরিবেশের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন: উপনিবেশোত্তর রাষ্ট্রে মাতৃভাষার গুরুত্ব ও জ্ঞানচর্চার রূপান্তর

ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য নাহিয়ান রহমান রচি জানান, বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের পুনর্বিনিয়োগের এই প্রবণতা দেশের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্ভাবনার প্রতি তাদের আস্থারই বহিঃপ্রকাশ। এতে ব্যবসার সম্প্রসারণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে সংস্থাটি প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনে থাকা প্রকল্পগুলোকে দ্রুত বাস্তবায়নের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছে।

অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিনিয়োগ পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে সাঈদ আল নোমানের আনন্দ মিছিল

এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নিট এফডিআই এসেছে ৪ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ কম। এ খাতে মোট ৩৩ কোটি ৩৮ লাখ ডলারের ঋণপ্রবাহ থাকলেও আগের ঋণ পরিশোধের কারণে নিট প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। যদিও আগের প্রান্তিকে এসব অঞ্চলে বিনিয়োগ ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার।

তবে ইপিজেডের বাইরের খাতে বিনিয়োগ ২০ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে ২৮০ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের তালিকায় অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুত করা এবং এক দশকের বেশি সময় ধরে আটকে থাকা চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করা রয়েছে।

২০২৮ সালের মধ্যে এ প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে তা ঘিরে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্প্রতি ইনভেস্ট বাংলাদেশ তাদের ১৮০ দিনের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে সত্যিকারের ব্যবসায়িক সাফল্য ও কর্মসংস্থানে রূপান্তর করাই এখন মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সম্প্রতি কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ঘোষণাকেও আশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেন তিনি। ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি আরও জানান, ইনভেস্ট বাংলাদেশের প্রকাশিত ১৮০ দিনের অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ পর্যন্ত অর্জন ও বাকি কাজের বিষয়ে তুলে ধরা হয়েছে।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com

চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে সাঈদ আল নোমানের আনন্দ মিছিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩২ এম
চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে সাঈদ আল নোমানের আনন্দ মিছিল

চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেছেন, বৈচিত্র্যের মাঝে বিদ্যমান সম্প্রীতিই আমাদের বড় শক্তি। এই সম্প্রীতি অটুট রাখার বার্তা দিতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামে আসছেন। সোমবার দুপুরে নগরীর পাহাড়তলীর সাগরিকা মোড়ে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাতে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন: এফডিআই বাড়লেও নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতা, মুনাফা পুনর্বিনিয়োগই ভরসা

সাঈদ আল নোমান জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিএনপিকে ভোট দিয়ে যে আস্থা স্থাপন করেছিলেন, সেই আস্থার প্রতি সম্মান জানাতে এবং সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতেই প্রধানমন্ত্রী নিজে চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আসছেন। এ সময় তিনি অতীতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সফরের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৯৩ সালে তৎকালীন এমপি ও মন্ত্রী প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমানের আমন্ত্রণে তিনি জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপে গিয়েছিলেন। এবার তার সন্তান হিসেবে একই মণ্ডপে চট্টগ্রামবাসীর আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী আসছেন।

আরও পড়ুন: নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের ঘোষণা দেবে কাতার

বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, মানবতাই আমাদের পরিচয়। বিএনপি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব ধরণের সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে নাগরিকদের তিন বেলা খাবার, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং সমাজকে মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত রাখা তার দায়িত্বের অংশ। বিএনপি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুধু পাহারা দেওয়া নয়, বরং পূর্ণ সহযোগিতা করছে।

সমাবেশ শেষে সাঈদ আল নোমান সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ র‍্যালি বের করেন, যা বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাগরিকা স্কয়ারে শেষ হয়। র‍্যালি চলাকালে তিনি নিজেই ঢাক বাজিয়ে উৎসবে আনন্দ ছড়িয়ে দেন। পরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে দুঃস্থদের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী বেলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়া, শফিকুর রহমান স্বপন, এসকে খোদা তোতন, আবুল হাশেম, মোশাররফ হোসেন ডিপ্টি, রাজীব ধর তমাল এবং স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জসিম উদ্দিন জিয়া।

External comments notice: You may need to sign in to the external service to view or post comments.
dailydigantapratidin.com
dailydigantapratidin.com