মহাষ্টমীতে কুমারী পূজায় ভক্তদের ঢল ও ধর্মীয় আড়ম্বর

শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষ্টমীতে দেবীজ্ঞানে কুমারী পূজার মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ভক্তি ও শ্রদ্ধায় মেতে ওঠেন। সোমবার রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আড়ম্বরের সঙ্গে এই পূজা পালিত হয়েছে। ভোর থেকেই মণ্ডপগুলোতে চণ্ডীপাঠের ধ্বনি শোনা যায়। রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠে কুমারী মায়ের দর্শন ও প্রার্থনায় হাজারো পুণ্যার্থীর ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বাদ্য আর উলুধ্বনিতে চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য হিসেবে পুলিশ, আনসার ও এসআরবি মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীও দায়িত্বরত রয়েছে এবং ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গনে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: লেবাননে শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলায় কাতারের তীব্র নিন্দা
শাস্ত্রীয় ইতিহাস অনুযায়ী, কোলাসুরকে বধ করে দেবতাদের বিপদমুক্ত করতে দেবী মহাকালী কুমারীরূপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। সেই থেকে মর্ত্যে এই পূজার প্রচলন। কুমারী পূজার মূল বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে জাত-পাত বিবেচনা করা হয় না। এখনও ঋতুবতী হয়নি এমন ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী যেকোনো কন্যাশিশুকে কুমারীরূপে পূজা করা হয়। এর মাধ্যমে কন্যাশিশুর মাঝে দেবী দুর্গার প্রতিচ্ছবি কল্পনা করে নারীকে মাতৃরূপে সম্মান জানানোর বার্তা দেওয়া হয়। ষোলো বছর বয়স পর্যন্ত কন্যার মাঝে দেবিত্ব ও মাতৃসত্তার প্রকাশ অনুভব করাই এই পূজার তাৎপর্য।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা আশ্রয় দিয়ে সংকটে বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পূজার আচার অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে কুমারী মা-কে প্রথমে গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধ করা হয়। এরপর তার চরণ ধুয়ে শঙ্খপাত্রে বেল পাতা, আতপ চাল, চন্দন, পুষ্প ও দুর্বাঘাস সহযোগে বিশেষ অর্ঘ্য প্রদান করা হয়। সবশেষে অগ্নি, জল, বস্ত্র, পুষ্প ও বায়ু—এই পাঁচ উপকরণ উৎসর্গ করা হয়। সুগন্ধি চন্দন, ধূপদ্বীপ ও পুষ্পমালার সমারোহে চলে মহাষ্টমীর অর্চনা। অঞ্জলি দেওয়ার সময় ভক্তরা মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে নিজেদের ও জগতের মঙ্গল কামনা করেছেন।
আজ মঙ্গলবার শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী পালিত হচ্ছে। পঞ্জিকামতে, এবার দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছেন এবং নৌকায় করে স্বর্গলোকে ফিরে যাবেন। মহাষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ১০৮টি প্রদীপ প্রজ্বালন ও পদ্মফুল নিবেদনের প্রথা রয়েছে। মহানগরীর বিভিন্ন মণ্ডপে আজ বিশেষ প্রার্থনা, পুষ্পাঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।
মহানবমীর পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব এখন বিদায়পর্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ভক্তদের মনে দেবী বিসর্জনের বিষাদের সুর বাজতে শুরু করেছে। এই তিথিতে দেবীর কাছে অশুভ শক্তির বিনাশ ও জগতের কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করা হচ্ছে। মণ্ডপগুলোতে এখনো চণ্ডীপাঠ ও ঢাকের বাদ্যের মাধ্যমে শারদীয় উৎসবের আমেজ বজায় রয়েছে।


















